নরসিংদী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর ২০২৪ ১৭:৩৩ পিএম
আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২৪ ১৭:৩৮ পিএম
দেশের কাঁচাবাজারসহ খোলাবাজারে ১ নভেম্বর থেকে পলিথিন ও পলিপ্রপাইলিনের তৈরি ব্যাগের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। ইতোমধ্যে পাঁচ দিন গত হলেও নরসিংদী জেলার কোথাও তা কার্যকর হতে দেখা যায়নি। প্রায় দেড় মাস আগে এই পলিথিন নিষিদ্ধের ঘোষণা দিলেও বাজার থেকে ওঠেনি ক্ষতিকর এই পণ্য।
সরেজমিন জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কাঁচাবাজার থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লায় অবাধে ব্যবহার হচ্ছে পলিথিন। এমনকি অনেক দোকানে বিকল্প ব্যাগ রাখতেও দেখা যায়নি। ফলে ক্রেতাদের পলিথিনে করেই কাঁচাবাজার নিয়ে যেতে দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের এ অভ্যাস পরিবর্তনে সময় প্রয়োজন বলে জানাচ্ছেন ক্রেতারা। উৎপাদন বন্ধ করে সরবরাহ কমানোর পাশাপাশি স্বল্প মূল্যে বিকল্প ব্যাগ বাজারে রাখার তাগিদ তাদের।
বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, পলিথিন বন্ধ হওয়া উচিত, সেটা সবাই জানেন। কিন্তু মানেন না, আগে সবাই কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহার করতেন। যখন পলিথিন বের হলো তখন কাপড়ের ব্যাগ চলে গেল। মালামাল নিতে ব্যাগ নিয়ে আমাদের চিন্তা করতে হতো না। ক্রেতারাই ব্যাগ নিয়ে আসতেন। এখন যদি বলি ব্যাগ নেই। তাহলে ক্রেতা চলে যায়। তাই বাধ্য হয়েই পলিথিন রাখতে হয়। আর দীর্ঘ দিনের অভ্যাস তো আর দুই-চার দিনে চলে যাবে না।
বড় বাজারের মাছ বিক্রেতা সাদ্দাম হোসেন বলেন, সরকার পলিথিন বন্ধের ঘোষণা দিছে ঠিক আছে। কিন্তু তার আগে উৎপাদন পর্যায়ে বন্ধ করতে হবে। এ ছাড়া পলিথিনের বিকল্প অন্য কোনো ব্যাগ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে নিরুপায় হয়ে পলিথিনে করেই মাছ দেওয়া হচ্ছে। কোনো ক্রেতাকে পাটের ব্যাগ আনতে দেখা যাচ্ছে না।
সবজি বিক্রেতা মো. হাসান বলেন, পলিথিন ছাড়া অন্য কোনো ব্যাগ যে দেব, তার দাম অনেক। একজন ক্রেতা যদি ১০০ টাকার জিনিসপত্র নেন, তাকে যদি ১০ টাকার ব্যাগ দিই, তাহলে লাভ করব কী? প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০ টাকার পলিথিন লাগে। এর বিপরীত কোথাও থেকে যে পাটের ব্যাগ কিনব সেই ব্যবস্থাও নেই।
সুবির সাহা নামে এক মুদি দোকানি বলেন, এত এত পলিথিনের বিপরীতে ব্যাগ কীভাবে পাব। বাজারে খুব কম মানুষ ব্যাগ নিয়ে আসে। যারা ব্যাগ আনে সেটাও পলিথিনের মতো। সরকার যদি সুলভ মূল্যে ছোট বড় ব্যাগ দেয়, তাহলে মানুষ কিনবে।
শফিকুল ইসলাম নামে পলিথিন বিক্রেতা বলেন, এখন আমরা কোনো মাল পাচ্ছি না। আমাদের স্টকে যেগুলো ছিল, সেগুলোই বিক্রি করছি। দু-এক দিন পর আর বিক্রি করতে পারব না। যদি পাইকারি বাজারে পলিথিন না পাই, তাহলে বিক্রি করব কোথা থেকে। পলিথিন বন্ধ করতে হলে আগে উৎপাদন বন্ধ করতে হবে।
হারুণ-অর-রশিদ নামে বাজার করতে আসা এক ব্যক্তি বলেন, আগে পাটের ব্যাগ নিয়েই বাজার করতে আসতাম। আমাদের বাপ-চাচাদের গামছায় বেঁধেও মালামাল কিনে নিতে দেখেছি। কিন্তু যুগের পরিবর্তনের এখন আর ব্যাগ নিয়ে বাজারে আসা হয় না। এখন সর্বত্রই পলিথিনের ব্যবহার। তা ছাড়া ব্যাগ খুঁজে পাওয়া যায় না। তাই নিরুপায় হয়ে পলিথিনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছি।
নরসিংদী বাজার বণিক সমিতির সভাপতি বাবুল সরকার জানান, পলিথিন ব্যাগ বিক্রয় ব্যবহার নিষিদ্ধ করলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তা ছাড়া পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধে প্রচারণামূলক মাইকিং অন্য কোনোকিছুই চোখে পড়েনি।
নরসিংদী পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান সরকার বলেন, পলিথিন ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে বিভিন্ন প্রচারণামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার জুমার নামাজের সময় ইমামরা তাদের বয়ানে পলিথিনের ব্যবহারে পরিবেশের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরছেন। সচেতন করতে লিফলেটও বিতরণ করা হচ্ছে। পলিথিন ব্যবহার বন্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।