কক্সবাজার অফিস
প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর ২০২৪ ২১:৪১ পিএম
আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২৪ ২২:২৬ পিএম
কক্সবাজারের টেকনাফের নাফ নদ মাছ ধরতে যাওয়া ১৫টি ডিঙ্গি নৌকাসহ ২০ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সদস্যরা।
মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনা নাইক্ষ্যংদিয়ার কাছাকাছি এলাকা থেকে ২০ জেলেকে ধরে নিয়ে যায় বলে জানিয়েছেন টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আবদুস সালাম।
তিনি বলেন, ‘দুটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা এবং ১৩টি ইঞ্জিনবিহীন নৌকাযোগে মোহনায় মাছ ধরাকালে ২০ জেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। প্রতিটি নৌকায় এক এবং দুজন মিলে ছোট জাল নিয়ে তারা মাছ ধরেন। আরাকান আর্মির সদস্যরা বড় ট্রলারযোগে এসে অস্ত্রের মুখে জেলেদের নিয়ে গেছে। এদের সকলের বাড়ি টেকনাফের সাবারং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপের জালিয়াপাড়ায়।’
তবে তিনি সকলের নাম নিশ্চিত করতে পারেননি।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আদনান চৌধুরী বলেন, ‘বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ লোকজন জানিয়েছেন। তা সংশ্লিষ্টকে অবহিত করা হয়েছে।’
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে টেকনাফ-২ বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, স্থানীয় লোকজন ও পরিবারের মাধ্যমে তিনি বিষয়টি জেনেছেন। বিষয়টি নিয়ে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
ওপারে দিনভর বিস্ফোরণের শব্দ
মিয়ানমারে চলমান গৃহযুদ্ধ আবারও তীব্রতর হয়ে উঠেছে। সীমান্তের ওপারে একের পর এক বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনা যাচ্ছে সীমান্তের এপারে। যার জের ধরে টেকনাফ সীমান্তে ভূমিকম্পন সৃষ্টি হচ্ছে। সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত বিকট শব্দ অব্যাহত ছিল।
সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা জানায়, সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকটি শব্দ শোনা গিয়েছিল। কিন্তু সকাল ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত পরপর ১২টির বেশি শব্দ ভেসে এসেছে। মিয়ানমারের জান্তা বাহিনীর সদস্যরা আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এলাকায় এই হামলা চালিয়েছে।
টেকনাফ পৌরসভার জালিয়াপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ ইয়াসিন বলেন, ‘সোমবার রাত থেকে গোলাগুলি ও মর্টার শেলের বিস্ফোরণের শব্দ বেড়েছে। দিনে কিছুটা কম বিকট শব্দ অনুভূত হলেও রাতে বেশি শোনা গেছে। রাতে আমাদের শিশুরা ভয় পাচ্ছে। জানি না কবে এই শব্দ থেকে মুক্ত পাব।’
টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নাজিরপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ হেলাল বলেন, ‘সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত যেভাবে ওপারে থেমে থেমে বোমার বিকট শব্দে কাঁপছে আমার বাড়ি, এ রকম শব্দ কোনো দিন শুনি নাই। মনে হয়েছে আমার বাড়ি ভেঙে পড়ে যাচ্ছে। রাতে আতঙ্কে ঘুমাইতে পারছি না।’
শাহপরীর দ্বীপের বাসিন্দা রহমতুল্লাহ বলেন, ‘মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সংঘাতের গোলার বিকট শব্দে কাঁপছে শাহপরীর দ্বীপ। মঙ্গলবার সকাল থেকে থেমে থেমে এই গোলার বিকট শব্দ হচ্ছে। রাতে এমন শব্দ ভেসে আসছে মনে হয় আমাদের মাথার ওপরে পড়ছে।’
সাবরাং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ছিদ্দিক আহমদ বলেন, ‘সোমবার রাতের দিকে পরপর কয়েকটি গোলাগুলি বা মর্টার শেলের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত আরও বেশি আওয়াজ ভেসে আসছে। এতে সীমান্তের বাসিন্দারা আতঙ্কে দিন পার করছেন।’
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আদনান চৌধুরী বলেন, ‘বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দ কিছু দিন বা সময় পর্যন্ত বন্ধ থাকে। আবার শোনা যায়। এটা মিয়ানমারের অভ্যন্তরের সংঘাত। মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সংঘাতময় পরিস্থিতির কারণে বিজিবি, কোস্ট গার্ডের টহল বাড়ানো হয়েছে।’