রংপুর অফিস
প্রকাশ : ০৪ নভেম্বর ২০২৪ ২১:৩০ পিএম
আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২৪ ২১:৩১ পিএম
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় চরের ফসল রক্ষায় লাঠিসোটা নিয়ে কৃষকদের অবস্থান।
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় প্রভাবশালীর বাহিনী চরের ১২ একরেরও বেশি জমির ফসল নষ্ট করায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ঋণ নিয়ে আবাদ করা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। চরের বিক্ষুব্ধ সহস্রাধিক কৃষক ফসল রক্ষায় পরিস্থিতি মোকাবিলার ঘোষণা দিয়েছেন। ইতোমধ্যে লাঠিসোটা, দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অবস্থান করে ফসল পাহারা দেওয়া শুরু করেছেন। সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
জানা গছে, প্রতিবছর তিস্তার ভাঙনে ভিটেমাটি, আবাদি জমি হারান তিস্তার তীরবর্তী ও চরের বাসিন্দারা। শুষ্ক মৌসুমে জেগে ওঠা চরে এনজিও কিংবা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে যুগ যুগ ধরে ফসল আবাদ করে আসছেন তারা। এ ফসলে চলে তাদের জীবন-জীবিকা। তিস্তার পানি কমতে শুরু করায় গঙ্গাচড়ার গজঘণ্টা ইউনিয়নের চর ছালাপাক ও মর্ণেয়া ইউনিয়নের আলাল মৌজার প্রায় দেড় হাজার কৃষক ধান, আলু, মিষ্টি কুমড়া, পেঁয়াজ, রসুন আবাদ শুরু করেছেন। অনেক কৃষক আমন ধান কাটাও শুরু করেছেন।
কৃষকদের অভিযোগ- গত ১ নভেম্বর দুপুরে গজঘণ্টা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য আলম মিয়ার নেতৃত্ব প্রায় ২৫০ জন লাঠিসোটা, দেশীয় অস্ত্র নিয়ে চরের ১২ একরেরও বেশি জমির মিষ্টি কুমড়া, পেঁয়াজ, রসুন ও আলুর ক্ষেত ট্রাক্টর দিয়ে চাষ করে নষ্ট করে দিয়েছে। জমিতে লাগানো পেঁয়াজ তুলে নিয়ে গেছে তারা। আলম মেম্বার চরের জমিগুলো দখল করে তা অন্য কৃষকদের কাছে লিজ দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পাঁয়তারা করছেন। কৃষকদের নানা ধরনের ভয়-ভীতি ও হুমকি দিচ্ছেন। তাই নারী, পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সি মানুষ লাঠিসোটা নিয়ে জমি পাহারা দিতে শুরু করেছেন।
ছালাপাকের কৃষক শাহ জামাল বলেন, আমার বাপ-দাদারা তিস্তার বুকে জেগে ওঠা চরে দীর্ঘদিন ধরে ফসল আবাদ করে আসছেন। আমি কুমড়া লাগিয়েছিলাম। সেই ক্ষেত নষ্ট করে দিয়েছে আলম মেম্বারের সন্ত্রাসী বাহিনী। কিছুদিন আগে আমাদের ধানও কেটে নিয়েছে। আমরা আলম মেম্বারের বিচার চাই।
অভিযুক্ত আলম মিয়ার মোবাইলে ফোন দিলেও বন্ধ পাওয়া যায়। গঙ্গাচড়া মডেল থানার ওসি আল এমরান বলেন, কৃষকদের ফসলের ক্ষেত নষ্টের ঘটনায় কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।