শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ নভেম্বর ২০২৪ ১৭:৩৮ পিএম
আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২৪ ২২:০৫ পিএম
দুই শ্রমিককে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধরের পর ক্ষতস্থান ও চোখেমুখে লবণ ও মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেওয়া হয়।
গাজীপুরের শ্রীপুরে অটোরিকশা চুরির অভিযোগ তুলে দুজনকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধরের পর ক্ষতস্থান ও চোখেমুখে লবণ ও মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে অটোরিকশাচালকের পরিবারের বিরুদ্ধে। নির্যাতিতরা স্থানীয় সাইটালিয়া বাজার এলাকার ইরেক্টস্ পুলস অ্যান্ড স্টাকচারস্ লিমিটেড কারখানায় চাকরি করেন।
বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ঘটনাটি সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। মঙ্গলবার শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের আবদার গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নির্যাতনের শিকার শ্রমিক আলমগীর হোসেন শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের আবদার গ্রামের আছিম উদ্দিনের ছেলে। অপর যুবক মাইনুদ্দিন সোহেল ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার ভাতাদিয়া গ্রাামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে। নির্যাতনকারীরা হলেন আবদার গ্রামের ইউছুফ আলীর ছেলে ফাইজ উদ্দিন, তার স্ত্রী লিমা আক্তার ও তাদের দুই মেয়ে।
নির্যাতনের শিকার দুই শ্রমিকের স্বজনেরা জানায়, শুক্রবার দুর্বৃত্তরা ফাইজ উদ্দিনকে নেশাজাতীয় খাবার খাইয়ে তার অটোরিকশা ছিনিয়ে নেয়। তাই ফাইজ ও তার সহযোগীরা তাদের আটক করে। প্রথমে তাদের বেঁধে অটোরিকশায় উঠিয়ে পাশের কাওরাইদ ইউনিয়নের বলদীঘাট এলাকায় নিয়ে যায় এবং ওই এলাকার লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে গাছে বেঁধে দুই ঘণ্টা নির্যাতন করে। বলদীঘাট এলাকা থেকে আবার ফাইজ উদ্দিনের বাড়ির কাছে এনে তাদের গাছের সঙ্গে বেঁধে রড, বাঁশ, কাঠ দিয়ে পিটিয়ে ক্ষতস্থানে লবণ ও মরিচের গুঁড়া লাগিয়ে দেয়। এদিন বেলা ৩টা পর্যন্ত থেমে থেমে তাদের নির্যাতন করে ফাইজ উদ্দিন, তার স্ত্রী লিমা আক্তার ও তাদের দুই মেয়ে। পিটিয়ে তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, একপর্যায়ে ফাইজ উদ্দিনের স্ত্রী লিমা আক্তার সাদা কাগজে রাখা মরিচের গুঁড়া ও লবণ নিয়ে ওই দুই শ্রমিকের চোখে-মুখে ছিটিয়ে দিচ্ছেন।
এলাকাবাসী তাদের শাস্তি দাবি করেছে। এ বিষয়ে অটোরিকশার মালিক ফাইজ উদ্দিন বলেন, তাদের ধরে চুরির শাস্তি দেওয়া হয়। ফাইজ উদ্দিনের স্ত্রী লিমা আক্তারও একইভাবে বলেন, অটোরিকশা চুরি করায় তাদের পিটিয়ে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সময়ে চোরকে ধরলে গণপিটুনি দেয়। আমরা তো তাদের মেরে ফেলি নাই। চুরির শাস্তি হিসেবে পিটিয়েছি।
দুই যুবক চুরির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। নির্যাতনে শিকার শ্রমিক আলমগীর হোসেন বলেন, আমি অটোরিকশা চুরি করি নাই এবং এ বিষয়ে কিছুই জানি না বলার পরও তারা আমার কথা না শুনে নির্যাতন করেছে। দুই শ্রমিক থানায় এখনও অভিযোগ দেননি। নির্যাতনের শিকার অপর শ্রমিক মাইনুদ্দিন সোহেল বলেন, সন্দেহ করে আমাদের গাছের সঙ্গে বেঁধে এভাবে পিটিয়েছে। চুরির বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। পেটানোর পর তারা আমার ভাইয়ের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকাও নিয়েছে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জয়নাল আবেদীন মন্ডল বলেছেন, এ ঘটনায় ৬ জনের নামে মামলা হয়েছে। আসামিরা শ্রমিক আলমগীর হোসেনের কাছ থেকে একটি বাইসাইকেল এবং মাইনুদ্দিন সোহেলের বড় ভাইয়ের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নিয়ে দুই শ্রমিককে ছেড়ে দেয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। পুলিশ আসামি ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।