পটুয়াখালীর কুয়াকাটা
কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ নভেম্বর ২০২৪ ১৬:৩৬ পিএম
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় গঙ্গামতি গ্রাম সংলগ্ন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্মাণাধীন বেড়িবাঁধ সড়ক। প্রবা ফটো
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা উপকূলের বেড়িবাঁধের ওপর পাকা সড়ক নির্মাণকাজ করছে স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তর। এ কাজে ড্রেজার দিয়ে সংরক্ষিত বনের ভেতর থেকে বালু উত্তোলন করছে একটি প্রভাবশালী মহল। ফলে বনের মধ্যে তৈরি হচ্ছে ডোবা-দিঘি। উজাড় হচ্ছে সবুজ বেষ্টনী। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেও সুফল পায়নি স্থানীয়রা।
জানা গেছে, পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত লাগোয়া উপকূলীয় বেড়িবাঁধের ওপর পাকা সড়ক নির্মাণকাজ চলছে। কুয়াকাটায় আগত পর্যটক-দর্শনার্থীদের চলাচলের সুবিধার কথা বিবেচনায় রেখে এ সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ওয়েডিং অ্যান্ড এস্টেনথিং প্রজেক্টের আওতায় কুয়াকাটা জিরোপয়েন্টের দুদিকে ৪৮ নং পোল্ডারের বেড়িবাঁধের ওপর ১৬ ফুট প্রশস্ত ১০ কিলোমিটার পাকা সড়ক নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। ২২ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ সড়কটির ঠিকাদারি কাজ পেয়েছে ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান। প্রথম পর্যায়ে কুয়াকাটা জিরোপয়েন্ট থেকে শুরু করে গঙ্গামতি পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার পাকা সড়ক নির্মাণের লক্ষ্যে বালু ভরাটের কাজ শুরু হয়। এ বালু ভরাটের দায়িত্ব দেওয়া হয় কবির হোসেন নামের স্থানীয় এক বালু ব্যবসায়ীকে।
সড়ক নির্মাণ ও প্রশস্তকরণ কাজে লোকাল বালু কিনে ট্রাকে করে নিয়ে সড়কে ব্যবহারের কথা থাকলেও বিধিবহির্ভূতভাবে সংরক্ষিত বন উজাড় করে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে ব্যবহার হচ্ছে সড়কে। এতে বনের শত শত গাছ উপড়ে ফেলা হয়েছে। ফলে বনের মধ্যে বড় বড় ডোবা-দিঘির সৃষ্টি হয়েছে। জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, ভূমি প্রশাসন থেকে শুরু করে পুলিশের সহযোগিতা চেয়েও কোনো লাভ হয়নি।
পটুয়াখালী উপকূলীয় বন বিভাগের মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা আবুল কালাম জানান, বেড়িবাঁধ সড়ক নির্মাণকাজের জন্য একটি প্রভাবশালী চক্র গঙ্গামতি ও মম্বিপাড়া এলাকা থেকে বালু উত্তোলন করছে। তাদের প্রতিরোধ করতে ব্যর্থ হয়ে আইনি সহযোগিতা চেয়েও পাওয়া যাচ্ছে না। উপজেলা প্রশাসন বরাবর লিখিত অভিযোগ করার পরও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, বন না থাকলে বেড়িবাঁধ ভেঙে সমুদ্রের করাল গ্রাসে চলে যেত গ্রামের পর গ্রাম। সেই বনভূমি ধ্বংস করে প্রভাবশালী মহলটি কোটি কোটি টাকার অবৈধ বাণিজ্য করছে। উপকূলীয় ঝুকিপূর্ণ এলাকা থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা মানছে না কেউ।
স্থানীয় বাসিন্দা দুলাল ফকির অভিযোগ করে বলেন, আমি এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক, উপজেলা প্রশাসক, ভূমি কর্মকর্তাসহ বন বিভাগকে একাধিকবার জানানোর পরও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। যেখানে সরকারি অর্থ দিয়ে কাজ হচ্ছে, সেখানে যদি সরকারি জমি থেকেই বালু উত্তোলন করা হয় তাহলে এটা সাগরচুরি। আমার দাবি যাতে এই ঠিকাদারকে কোনো প্রকার টাকা না দেওয়া হয়। যে সকল জায়গা থেকে বালু উত্তোলন করা হয়েছে, সেসব ভরাট করে দেওয়া হোক। নতুবা অচিরেই এই বেড়িবাঁধ হুমকির মুখে পড়বে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম জানান, তিনি শুনে এসি ল্যান্ডকে পাঠিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ করে দিয়েছেন।
তবে উপজেলা প্রশাসনের বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। বালু উত্তোলন চলমান থাকলেও অজ্ঞাত কারণে তারা নিশ্চুপ।
স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাদেকুর রহমান বলেন, সরকারি নিয়মের বাইরে আমাদের যাওয়ার সুযোগ নেই। উপকূলীয় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ একটি ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল। সেখান থেকে বালু উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই।