ইনানী সমুদ্রসৈকত
কক্সবাজার অফিস
প্রকাশ : ৩১ অক্টোবর ২০২৪ ২২:০৯ পিএম
আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০২৪ ২২:১০ পিএম
কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্রসৈকতে নৌবাহিনীর জেটি ঘূর্ণিঝড় দানার আঘাতে দ্বিখণ্ডিত হওয়ার পর এটি সংস্কার এবং উচ্ছেদের দাবিতে দুটি পক্ষ নানা কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের তথ্য মতে, ২০২০ সালে আন্তর্জাতিক নৌমহড়া উপলক্ষে উখিয়ার ইনানী এলাকায় নৌবাহিনী একটি জেটি নির্মাণ করে। নৌমহড়া শেষে নির্মিত এ জেটি দিয়ে পর্যটন মৌসুম নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত সেন্টমার্টিনগামী পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হয়।
গত ২৪ অক্টোবর ঘূর্ণিঝড় দানার প্রভাবে সাগরের ঢেউয়ের প্রচণ্ডতায় সংস্কারকাজে নিয়োজিত একটি বার্জের ধাক্কায় জেটিটির একটি অংশ ভেঙে দ্বিখণ্ডিত হয়ে গেছে। ঘটনার পর জেটিটির সংস্কারকাজ শুরু না করায় সেন্টমার্টিনগামী জাহাজ চলাচলে বিপত্তি দেখা দিয়েছে।
এ পরিস্থিতির মধ্যে জেটিটি সৈকতকে দ্বিখণ্ডিত করেছে এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতি দাবি করে উচ্ছেদের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)। একই সঙ্গে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) নোটিস প্রেরণ করে এটি উচ্ছেদের জন্য বলেছে।
এতে জেটিটি সংস্কারের জটিলতার মধ্যে বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের মোহাম্মদ শফির বিল এলাকায় জেটি উচ্ছেদের পাঁয়তারা বন্ধ এবং সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে স্থানীয়রা।
ইনানী পর্যটন শিল্প উন্নয়ন জোটের উদ্যোগে আয়োজিত এ মানববন্ধনে স্থানীয় ছাত্র-যুবসমাজ ও এলাকাবাসীসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠন ব্যানারসহকারে অংশ গ্রহণ করে।
বিভিন্ন শ্রেণিপেশার কয়েকশ মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনোত্তর পথসভায় সভাপতিত্ব করেন জালিয়াপালং ইউপির ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোহাম্মদ শফি। এতে বক্তব্য রাখেন বৃহত্তর ইনানী এলাকার রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম, পরিবহন শ্রমিক প্রতিনিধি সৈয়দ উল্লাহ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী প্রতিনিধি আবুল কালাম ও ছাত্র-যুব প্রতিনিধি মো. আল আমিন প্রমুখ।
পথসভায় বক্তারা বলেন, নির্মিত এ জেটি দিয়ে সেন্টমার্টিনগামী পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ায় পর্যটকদের যাতায়ত সহজ হয়ে ওঠে। আর দৃষ্টিনন্দন এ জেটিকে কেন্দ্র করে বৃহত্তর ইনানী এলাকায় গড়ে পর্যটন সংশ্লিষ্ট বেশকিছু প্রতিষ্ঠান। এতে বিভিন্ন খাতে জড়িত কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ শফি বলেন, জেটিটি ঘূর্ণিঝড়ের সময় ভেঙে যাওয়ার পর থেকে পরিবেশ ধ্বংসের দোহায় দিয়ে কয়েকটি সংগঠন নানা কর্মসূচি পালন করেছে। এতে ওই সংগঠনগুলো জেটিটি ভেঙে ফেলার দাবি তুলেছে।
এদিকে জেটিটি বন্ধ হয়ে গেলে পর্যটন শিল্পের সঙ্গে জড়িত কয়েক হাজার মানুষের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে মন্তব্য করে স্থানীয় এ ইউপি সদস্য বলেন, জেটিটি চালু হওয়ার পর থেকে বৃহত্তর ইনানী এলাকায় প্রতিদিনই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পর্যটক সমাগম ঘটছে। এখন জেটিটি বন্ধ হয়ে গেলে হাজারো মানুষ বেকার হয়ে পড়বে।