লালমনিরহাট প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ অক্টোবর ২০২৪ ২০:৪৭ পিএম
আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২৪ ২০:৪৯ পিএম
বুধবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে সদর হাসপাতাল চত্বর থেকে পৌর যুবদলের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম জুলহাসকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে সেনা সদস্যরা। প্রবা ফটো
লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের দরপত্র (টেন্ডার) জমাদানে বাধা দেওয়ার অভিযোগে পৌর যুবদলের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম জুলহাসকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে সদর হাসপাতাল চত্বর থেকে তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে সেনা সদস্যরা।
আটক জাহাঙ্গীর আলম জুলহাস লালমনিরহাট
শহরের টিউমলপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি লালমনিরহাট পৌর যুবদলের আহ্বায়ক ও জেলা
যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট
লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের রোগীদের পথ্যসামগ্রী সরবরাহসহ ৩টি গ্রুপে সরঞ্জাম সরবরাহের
জন্য দরপত্র আহ্বান করে হাসপাতালের তত্ত্ববধায়ক ডা. আব্দুল মোকাদ্দেম। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী বুধবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে তত্ত্বাবধায়কের কার্যালয়ের নির্দিষ্ট দরবক্সে
দরপত্র জমা দিতে বলা হয়। হাসপাতালের দরপত্র জমাদানে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে
হাসপাতাল চত্বরে নিরাপত্তা জোরদার করে পুলিশ। পুলিশের সেই নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেদ করে
পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিতে সকাল থেকে অন্যদের দরপত্র জমাদানে বাধা দিয়ে আসছিলেন
পৌর যুবদলের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম জুলহাস। অন্য দরদাতারা দরপত্র জমাদান করতে
না পেয়ে সেনা সদস্যদের খবর দিলে সেনা সদস্যরা ঘটনাস্থলে এলে জুলহাস পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা
করে। এ সময় ধাওয়া দিয়ে যুবদল নেতা জুলহাসকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে সেনা সদস্যরা।
পরে সেনা সদস্যদের উপস্থিতিতে ২৪ জন দরদাতা তাদের দরপত্র জমা দেন।
লালমনিরহাট জেলা যুবদলের সভাপতি আনিছুর
রহমান আনিছ বলেন, ‘পৌর যুবদল আহ্বায়ক জুলহাস দৌড়ে পালানোর কারণে তাকে আটক করেছে। এটি
মূলত আপসযোগ্য বিষয়।’
লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের আবাসিক
মেডিকেল অফিসার ডা. সামিরা হোসেন বলেন, কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য ও বিশৃঙ্খলার চেষ্টা
করেছিল জুলহাস নামে একজন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীর সহায়তা চেয়ে তাদের ফোন
করা হলে তারা এসে বিশৃঙ্খলাকারীকে আটক করে।
লালমনিরহাট পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম
বলেন, ‘দরপত্র দাখিল নিয়ে হট্টগোল করার চেষ্টা করলে জুলহাস নামে একজনকে আটক করা হয়েছে।
তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’