প্লাবন শুভ, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর)
প্রকাশ : ৩০ অক্টোবর ২০২৪ ২০:১৭ পিএম
আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২৪ ২০:১৮ পিএম
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে শিশু ও বৃদ্ধদের নিউমোনিয়াসহ ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। ঘরে ঘরে শিশুরা জ্বর ও সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে শতাধিক রোগী নিউমোনিয়া কিংবা জ্বর ও সর্দি-কাশি ছাড়াও শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। এতে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর চাপ বেড়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) সরেজমিনে হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, নারী ও পুরুষ ওয়ার্ডের শয্যা খালি
না থাকায় মেঝে শিশু ও বৃদ্ধ রোগীতে ঠাসা। শয্যা সংকটে গাদাগাদি করে সেখানে বিছানা করে
রোগীদের রাখা হয়েছে। এ ছাড়া বহির্বিভাগে রোগীদের দীর্ঘ সারি। টিকিট দিতেও হিমশিম খেতে
হচ্ছে দায়িত্বরতদের। প্রতিদিন প্রায় ৫০০ রোগী বহির্বিভাগ থেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরছে।
এ ছাড়া জরুরি বিভাগেও নানা সমস্যা নিয়ে ভর্তি হচ্ছে অনেকে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, শয্যা সংকটের কারণে বাধ্য হয়ে রোগীকে মেঝেতে বিছানা পেতে
চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। প্রায় এক মাস ধরে হাসপাতালে এই অবস্থা বিরাজ করছে।
কয়েক দিন ধরে চার বছর বয়সি সুমাইয়ার গায়ে জ্বর,
রয়েছে শ্বাসকষ্ট। গ্রাম্য চিকিৎসককে দেখিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছিল তার পরিবার। কিন্তু কোনো
উন্নতি না হওয়ায় বাধ্য হয়ে হাসপাতালে ছুটে এসেছে। সুমাইয়ার মতো হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে
আসা শত শত শিশুরই প্রায় একই অবস্থা।
উপজেলার আলাদীপুর ভিমলপুর গ্রামের লাকী আক্তার তার তিন বছর বয়সি মেয়ে মিতিয়া মৌকে হাসপাতালে
ভর্তি করেছেন। কয়েক দিন ধরে জ্বর ও সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত থাকলেও বর্তমানে চিকিৎসা
নিয়ে অনেকটা সুস্থ মিতিয়া মৌ।
স্কুলশিক্ষিকা পাপিয়া চক্রবর্তী। এক ছেলে ও এক মেয়ের জননী তিনি। তিন বছর বয়সি শিশুছেলে
অর্জন কিছু দিন থেকে জ্বর-সর্দিতে আক্রান্ত। বর্তমানে তার ১০ বছর বয়সি মেয়ে অথৈও আক্রান্ত।
এ ছাড়া বাড়ির প্রায় সকলে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত। তিনি বলেন, ‘কয়েক দিন থেকে বাচ্চাদের
জ্বর-সর্দি। স্কুল ছুটি নিয়েছি তাদের ডাক্তার দেখানোর জন্য। ডাক্তার দেখিয়ে বর্তমানে
বাড়িতেই চিকিৎসা চলছে।’
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে অক্সিজেন
নিতে দেখা যায় সত্তরোর্ধ্ব আবুল মিয়াকে। তার স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আবুল
মিয়া বেশ কয়েক দিন ধরে জ্বর ও কাশিতে আক্রান্ত। গত সোমবার রাত থেকে শ্বাসকষ্টে ভুগছেন
তিনি। তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। অক্সিজেন নিয়ে অনেক ভালো অনুভব করছেন বৃদ্ধ আবুল
মিয়া।
এদিকে হাসপাতালে শিশু ও বৃদ্ধ রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় সেবা দিতে
গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক-নার্সসহ সংশ্লিষ্টদের।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ৫০ শয্যাবিশিষ্ট এ হাসপাতালে বরাবরই
রোগীর চাপ অনেক। ফুলবাড়ীসহ নবাবগঞ্জ, পার্বতীপুর ও চিরিরবন্দরের মানুষ চিকিৎসা নিতে
আসে এই হাসপাতালে। একে তো চিকিৎসকসহ স্টাফ সংকট, তার ওপর বর্তমানে ঠান্ডাজনিত রোগীদের
উপচে পড়া চাপ।
হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স তিলোত্তমা ব্যানার্জি
জানান, গত দুই সপ্তাহ ধরে শিশু ও বৃদ্ধ রোগী ভর্তির হার অনেক বেশি।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা
ডা. নূর-ই-আলম খুশরোজ আহমেদ বলেন, ‘সেপ্টেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে শিশু ও বৃদ্ধদের
ঠান্ডাজনিত রোগ নিয়ে হাসপাতালে ভিড় শুরু হয়। তবে এবার অক্টোবর মাসের শুরু থেকেই হাসপাতালে
ঠান্ডাজনিত রোগীর চাপ বেড়েছে। ঋতু পরিবর্তনের কারণে শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি এসব রোগে আক্রান্ত
হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’