জিয়াউর রহমান, দৌলতপুর (কুষ্টিয়া)
প্রকাশ : ৩০ অক্টোবর ২০২৪ ২০:০০ পিএম
আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২৪ ২০:১৮ পিএম
খরস্রোতা পদ্মার তীরবর্তী একটি অঞ্চল কুষ্টিয়ার দৌলতপুর। দৌলতপুরের ফিলিপনগর, মরিচার ও রামকৃষ্ণপুরে তিনটি ইউনিয়ন একেবারে নদীঘেঁষা। এখানকার অন্তত ৯০০ জেলের জীবিকার একমাত্র মাধ্যম মাছ শিকার। এ ছাড়া বাড়তি আয়ের আশায় নদীপাড়ের লোকজন কমবেশি মাছ ধরেন। প্রতিদিন এসব মাছ তারা বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন পদ্মা তীরবর্তী অপরিকল্পিত ঘাটসহ এলাকার আশপাশের বাজারগুলোতে।
আর নদীর এসব টাটকা
মাছের বেচাকেনা চলে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত। ঘাটগুলো থেকে প্রতিদিন মাছ বিক্রি হয়
কয়েক লাখ টাকার। এই হিসাবে বছরে মাছ বিক্রি হয় শতকোটি টাকার বেশি। এসব বাজারে সবচেয়ে
বেশি পাওয়া যায় চিংড়ি, পিউলি, চ্যালা, ঘাউরা, বাঁশপাতা, বাইম, বেলে, ট্যাংরাসহ নানা
পদের মাছ। এগুলো আকারভেদে ১৫০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা কেজিতেও বিক্রি হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা
গেছে, পদ্মা তীরবর্তী হওয়া সত্ত্বেও বৃহত্তর এই উপজেলায় এখন পর্যন্ত কোনো মৎস্য বিক্রয়কেন্দ্র
গড়ে ওঠেনি। যার কারণে জেলেরা তাদের মাছের সঠিক দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একইভাবে দ্রুত
মাছ বিক্রিতেও পড়ছেন বিড়ম্বনায়। তাই এলাকার জেলেরা দাবি তুলেছেন, সরকারি উদ্যোগে একটি
মৎস্য বিক্রয়কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার। আর এটা সম্ভব হলে শুধু জেলে পরিবারের সমৃদ্ধিই বয়ে
আনবে না, স্থানীয় মৎস্য খাতে অর্থনীতির সমৃদ্ধি হবে। সরকারও বিপুল পারিমাণ রাজস্ব আদায়
করতে পারবে।
স্থানীয় জেলে সিদ্দিক
ও জামাল জানান, প্রতিদিন পদ্মা নদী থেকে তারা যে পরিমাণ মাছ শিকার করেন, তা বিক্রির
জন্য তীরবর্তী ঘাট ও স্থানীয় বাজারের হাটগুলোতেই নিয়ে আসেন। কিছু পরিমাণ পাঠানো হয়
কুষ্টিয়া শহরের আড়তে। এতে প্রতিদিন যা আয় হয়, তা দিয়েই চলে তাদের সংসার। এখানে একটি
স্থায়ী মাছ বাজার থাকলে তারা উপকৃত হতেন। আরও বেশি দামে মাছ বিক্রি করতে পারতেন।
নাজমুল ও মিন্টু
নামে আরও দুজন জেলে বলেন, আকার ও ধরনের ওপর নির্ভর করে মাছের দাম নির্ধারণ হয়। আবার
ক্রেতার থেকে আমদানি বেশি হলে দাম কমে এসব মাছের।
কথা হয় নদীর পাড়ে
মাছ কিনতে আশা তুষার রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, সকালে ঘাটে এসেছি নদীর টাটকা মাছ কিনতে।
যদিও এখানে দাম বেশি। তবে একদম ফ্রেশ এসব মাছের স্বাদও বেশি।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা
হোসেন আহমেদ বলেন, প্রতি মৌসুমের মে মাসের শেষ সময় থেকে ডিসেম্বরের আগ পর্যন্ত নদীতে
মাছ বেশি পাওয়া যায়। প্রতিদিন কী পরিমাণ মাছ শিকার বা বিক্রি হয়, এর সঠিক তথ্য পাওয়া
না গেলেও গড়ে অন্তত দেড় হাজার কেজি মাছ বিক্রি হয়। যার থেকে বছরে কমপক্ষে বছরে ১০০
কোটি টাকার বেশি আয় হওয়ার কথা।
এক প্রশ্নের জবাবে
তিনি বলেন, ‘স্থায়ী বাজারের জন্য একাধিকবার প্রস্তাব পাঠিয়েছি, তবে বাস্তবায়ন হয়নি।
এখানে একটি মৎস্য বিক্রয়কেন্দ্র হলে এই খাতের আরও উন্নয়ন সম্ভব।’