প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ৩০ অক্টোবর ২০২৪ ১৫:৪৮ পিএম
আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২৪ ২০:২৮ পিএম
পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে পর্যটকদের ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করে জেলা প্রশাসনের দেওয়া নোটিসের মেয়াদ বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) শেষ হচ্ছে। আগামী শুক্রবার থেকে পর্যটকরা জেলার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে ভ্রমণ করতে পারবেন। এদিকে অপর দুই পার্বত্য জেলা বান্দরবান ও রাঙামাটি পর্যটকদের জন্য এক সপ্তাহের মধ্যে উন্মুক্ত করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন।
পাহাড়ি-বাঙালিদের মধ্যে সহিংস ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত ৮ অক্টোবর জেলা প্রশাসনের এক বিজ্ঞপ্তিকে রাঙামাটি ভ্রমণে পর্যটকদের নিরুৎসাহিত করা হয়। পর্যটকদের জন্য রাঙামাটি উন্মুক্ত করার বিষয়ে বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন খান বলেন, আগামী ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকরা রাঙামাটি ভ্রমণ করতে পারবেন। তাদের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য ট্যুরিস্ট পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা থাকবে। সাজেক পর্যটনকেন্দ্র রাঙামাটি জেলার মধ্যে হলেও যাতায়াতের ক্ষেত্রে খাগড়াছড়ি জেলা হয়ে যেতে হয়। সেক্ষেত্রে পর্যটকদের সাজেক ভ্রমণের সিদ্ধান্তটা খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক দেবেন। রাঙামাটিতে কর্মরত সাংবাদিকসহ পর্যটন খাতের ব্যবসায়ীরা প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে বুধবার দুপুরে বান্দরবান জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পর্যটন সংশ্লিষ্টদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সভায় জেলা প্রশাসক শাহ মোজাহিদ উদ্দিন বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বান্দরবান জেলা সদরসহ চার উপজেলা পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। বাকি তিন উপজেলা রুমা, রোয়াংছড়ি ও থানচি পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে কিছুটা সময় লাগবে বলেও জানান তিনি।
পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাউছার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এসএম মনজুরুল হক, সদর রিজিয়নের মেজর মো. শায়েখ উজ জামান, বান্দরবান হোটেল-রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা কাজল কান্তি দাশ, সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিনসহ জেলার ঊর্ধ্বতন সরকারি-বেসরকারি ও বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় সভা চলাকালে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে হোটেল-রেস্টুরেন্টের শ্রমিক, সিএনজি-ইজিবাইকের চালকরা ‘ভাত দেন, না হয় পর্যটন খুলে দেন’ লেখা সংবলিত ব্যানার নিয়ে মিছিল করেন।
এ ছাড়া বুধবার খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. সহিদুজ্জামান মোবাইল ফোনে জানান, বাইরের পর্যটকদের নিষেধাজ্ঞা বিষয়ে আমরা কথা বলেছি। ৫ নভেম্বর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে।
খাগড়াছড়ি হোটেল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এস অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা বলেন, মাসব্যাপী পর্যটকদের খাগড়াছড়িতে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা থাকায় হোটেল-মোটেলগুলো গভীর সংকট ও ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। কর্মচারীদের বেতনভাতা দিতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে আগের মতোই প্রাণ ফিরে পাবে।
[প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহায়তা করেছেন রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির প্রতিবেদক]