আশুলিয়া (ঢাকা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর ২০২৪ ১৯:১১ পিএম
আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২৪ ১৯:২৬ পিএম
প্রেস ব্রিফিংয়ে পিবিআই। প্রবা ফটো
ঢাকার আশুলিয়ার ভাদাইল এলাকায় আলোচিত ট্রিপল মার্ডারের রহস্য উন্মোচন করেছে ঢাকা জেলা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সৎ ছেলেকে হত্যার পরিকল্পনা করে সৎ মা নিজেই হত্যার শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর উত্তরা পিবিআই কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে এসব তথ্য জানান ঢাকা জেলা পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার কুদরত ই খুদা।
তিনি বলেন, পারিবারিক সম্পদের লোভে প্রথম পক্ষের ছেলে হিমেলকে হত্যা করতে তরিকুলকে ভাড়াটিয়া হিসেবে বাসায় তোলে বাবা মিজানুর রহমান বাচ্চু ও তার চতুর্থ স্ত্রী স্বপ্না বেগম। মায়ের হত্যা পরিকল্পনা জেনে গিয়ে সৎ মা, বাবা ও ছোট বোনকে হত্যার পরিকল্পনা করে ছেলে হিমেল। সৎ মা স্বপ্না বেগম বাবার সম্পত্তি থেকে ছেলেকে বঞ্চিত করতে তরিকুলকে দিয়ে ছেলে হিমেলকে হত্যা করতে চেয়েছিলেন।
জানা যায়, এ সৎ মা ও বাবা ছেলেকে খুনের জন্য ভাড়াটে খুনি বাচ্চুকে ১০ হাজার টাকা দেয়। বিষয়টি জানতে পেরে সৎ মায়ের স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকার বিনিময়ে তরিকুলের সঙ্গে পাল্টা বাবা, বোন ও সৎ মাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন ছেলে হিমেল। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত ১২ সেপ্টেম্বর আশুলিয়ার ভাদাইলের বাড়িতে বাবা মিজানুর রহমান বাচ্চুকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেন তারা।
কুদরত ই খুদা বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর হত্যাকারীরা ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে রুমে আগুন ধরিয়ে দেন। পরে হত্যাকারীরা প্রতিবেশীদের সহায়তা নিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলে। তারা এটাকে আত্মহত্যার ঘটনা হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টা করেন। পরে হত্যাকাণ্ড হিসেবে প্রতীয়মান হলে হত্যাকারী হিমেল নিজে ও স্বপ্নার বোন গিয়ে থানায় হত্যা মামলা করে।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় পুলিশি তদন্ত শুরু হলে হিমেল ও তরিকুল এ ঘটনায় জড়িত বলে প্রমাণ পায় পুলিশ। পরে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনকারী তরিকুলকে ৪ অক্টোবর ও হিমেলকে ২৪ অক্টোবর গ্রেপ্তার করা হয়। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত হাতুড়ি, পুতুল ও সিজার (কাঁচি) জব্দ করা হয়। পরে ১৬৪ ধারায় আসামি দোষ শিকার করে পুরো ঘটনা পুলিশকে জানায়।