এনএ মুরাদ, মুরাদনগর (কুমিল্লা)
প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর ২০২৪ ০৯:৩২ এএম
আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২৪ ১০:৪৯ এএম
কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক দাপিয়ে বেড়ায় অবৈধ ট্রলি-ট্রাক্টর। সম্প্রতি মুরাদনগর উপজেলার কোম্পানীগঞ্জ এলাকা থেকে তোলা।
কুমিল্লার মুরাদনগরে সড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই চলছে নিষিদ্ধ ট্রলি ট্রাক্টর। এগুলো ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত মাটি, বালি ও ইট বহন করে চলছে হরহামেশা। এতে নষ্ট হচ্ছে বিভিন্ন সড়ক। খোলা গাড়ি থেকে সড়কে মাটি, বালি পড়ে নানা সময় ঘটছে দুর্ঘটনা। এ ছাড়া ধুলাবালিতে অতিষ্ঠ স্থানীয়রা। তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানান, উপজেলার দুই থানায় (মুরাদনগর ও বাঙ্গরা) প্রায় ৫০০ অবৈধ ট্রলি ট্রাক্টর রয়েছে। এগুলো ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ মাটি, ইট, বালুসহ অন্যান্য মালামাল বহন করে। ট্রাক্টরের বিকট শব্দে বুক ধড়ফড় করে ওঠে। ধুলাবালিতে হাঁচিকাশি বেড়ে যায়। মাত্রাতিরিক্ত মালামাল বহন করায় সড়কে অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনা ঘটে। কেউ প্রতিবাদ করতে গেলে চালক ও মালিকদের রোষানলে পড়তে হয়। অবৈধ হাইড্রোলিক ট্রলির চলাচলে সড়কগুলো বেহাল হয়ে গেছে। সড়কের পিচ ও ইটের সলিংয়ের রাস্তার বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে খানাখন্দ।
কোম্পানীগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা বিল্লাল হোসেন ও জিয়াউল হক জানান, ‘ট্রাক্টরগুলো সড়কের আতঙ্ক। গাড়ি থেকে ইট-বালু আচমকা অন্যান্য যানবাহন ও মানুষের ওপর পড়ে। ধুলায় আচ্ছন্ন থাকে সড়ক। স্কুলের বাচ্চাদের নিয়ে খুব দুশ্চিন্তা করতে হয়। কারণ এগুলো তাৎক্ষণিক ব্রেক হয় না। এদের বেপরোয়া গতির কারণে সড়ক পারাপারে প্রায়ই ঘটে দুর্ঘটনা।
পাহাড়পুর ইউনিয়নের মোখলেসুর রহমান বলেন, ‘ট্রাক্টরের জ্বালায় অতিষ্ঠ জীবন। এগুলো সড়কে উঠলে কাউকে পরোয়া করে না। চালকরা এত গতিতে চালান যে, কখনও কখনও নিজেরাই পড়েন দুর্ঘটনায়। গত ২০ অক্টোবর পাহাড়পুর গ্রামের ট্রাক্টর চালক আরিফ হোসেন ও তার সহকারী ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হন।’
হাবিবুর রহমান, খোকন মিয়া, ফয়জুল ইসলামসহ কয়েকজন বলেন, ট্রাক্টর যাওয়া-আসার সময় রাস্তার পাশে বাড়িঘর কাঁপতে থাকে। এগুলোর বেপরোয়া গতিবিধির কারণে বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাতে খুব ভয় হয়। কখন যে ট্রাক্টরের চাকায় পিষে যায়Ñ এই নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকি। প্রায়ই ট্রাক্টর দুর্ঘটনায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও মহাসড়কে মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।
কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের থোল্লার মোড় এলাকার মজিবুর রহমান, মো. উজ্জ্বল ও মেহেদী হাসান বলেন, ‘প্রতিবছরই আমাদের থোল্লার মোড় এলাকায় ট্রাক্টরের দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটে। ট্রাক্টর থেকে সড়কে মাটি পড়ে পিচ্ছিল হয়ে দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক সাকি নিহত হন।’
কোম্পানীগঞ্জ বদিউল আলম ডিগ্রি কলেজ, বদিউল আলম উচ্চ বিদ্যালয়, কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও কোম্পানীগঞ্জ দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা জানান, ট্রাক্টরের কারণে আমাদের স্কুল-কলেজে আসা যাওয়া খুব কষ্ট হয়। ধুলাবালির কারণে ইউনিফর্ম দ্রুত ময়লা হয়ে যায়। হাঁচিকাশি লেগেই থাকে।’
মিরপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মঞ্জুর আলম বলেন, ‘নিষিদ্ধ ট্রাক্টরের বিরুদ্ধে আমরা মামলা দিচ্ছি। পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হলে কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সিফাত উদ্দিন জানান, ‘অবৈধ ট্রাক্টরের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত। এ ছাড়াও ট্রাক্টরের মালিকদের ডাকা হয়েছে। গাড়িগুলো নিয়মের মধ্য চালাতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’