চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ
সুবল বড়ুয়া, চট্টগ্রাম
প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর ২০২৪ ০৮:৫৮ এএম
আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২৪ ১১:১৭ এএম
কর্ণফুলী নদীর তীর ঘেঁষে এভাবেই নির্মাণ হচ্ছে সড়ক কাম বাঁধ। রবিবার চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানাধীন কল্পলোক এলাকা থেকে তোলা। প্রবা ফটো
চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে প্রায় ৯ কিলোমিটার বাঁধ কাম সড়ক নির্মাণ প্রকল্পটি হাতে নেয় সিডিএ। ২০১৮ সালের অক্টোবরে কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী কালুরঘাট সেতু থেকে চাক্তাই খাল পর্যন্ত এই প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হয়। সেই থেকে ‘কচ্ছপগতিতে’ চলমান প্রকল্পের চার দফা মেয়াদ বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যয় বাড়ানো হয় ৪৩৬ কোটি টাকা। প্রকল্পের শুরুতেই ২ হাজার ৩১০ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হলেও এখন তা বেড়ে ঠেকেছে ২ হাজার ৭৪৬ কোটি টাকায়। কিন্তু এরই মধ্যে নির্মাণকাজ শুরুর ছয় বছর পার হলেও শেষ করতে পারেনি প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা সিডিএ।
তবে সিডিএর প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুরু থেকেই জমি অধিগ্রহণে নানা জটিলতা, মামলা মোকদ্দমা, অর্থ বরাদ্দসহ নানা সংকটের কারণে পুরোদমে নির্মাণকাজ করা সম্ভব হয়নি। তাই সঠিক সময়ে নির্মাণকাজ শেষ করা যায়নি।
গত রবিবার (২৭ অক্টোবর) প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা যায়, চট্টগ্রাম মহানগরীর শাহ আমানত সেতু থেকে কালুরঘাট সেতু পর্যন্ত কর্ণফুলী নদীর শহরাংশের তীরঘেঁষে চার লেনের সড়কসহ বাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে চাক্তাই, রাজাখালী, বলিরহাট, সাব খাল-২ ও ইস্পাহানি খাল, কল্পলোক এলাকা হয়ে কালুরঘাট সেতু পর্যন্ত চার লেনের সড়ক নির্মাণের জন্য মাটি ভরাট করা হয়েছে। নির্মাণশ্রমিকরা সড়কের একপাশে সারিবদ্ধভাবে সিমেন্টের তৈরি ছোট ছোট ব্লক বসানোর কাজ করছেন।
এ সময় কথা হয় সাইফুদ্দিন নামে বাকলিয়া এলাকার এক বাসিন্দার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘২০১৮ সাল থেকে এই বাঁধের নির্মাণকাজ শুরু হয়। কিন্তু এখনও শেষ হলো না। একটানা কাজ হয়নি। কিছু দিন করে আবার কিছু দিন বন্ধ থাকে। মাঝখানে আবার করোনার কারণে দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ ছিল। পরে আবার শুরু হয়। খুব ঢিমেতালে কাজ হচ্ছে। মাটি ভরাট করে একটা বাঁধ করতে এত দিন লাগে? এই বাঁধ নির্মাণ হলে কর্ণফুলী নদী হয়ে আর বাকলিয়া এলাকায় পানি ঢুকবে না।’ তাই দ্রুতসময়ে এই প্রকল্পের নির্মাণকাজ শেষ করার দাবি জানান তিনি।
প্রকল্পের নির্মাণকাজ প্রসঙ্গে প্রকল্প পরিচালক ও সিডিএর প্রকৌশলী রাজীব দাশ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘প্রকল্পের আওতায় কর্ণফুলী নদীর তীরঘেঁষে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২৪ ফুট উঁচু ও ৮০ ফুট প্রশস্ত চার লেনের সড়ক কাম বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। ১২টি খালের মুখে জোয়ার-ভাটা প্রতিরোধক রেগুলেটর ও পাম্পহাউস স্থাপন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বাকলিয়ার বলিরহাট, কল্পলোক এলাকার রাজাখালী খাল ও এর দুটি শাখা খাল, দুটি সাব-খাল, ফ’য়স খাল, নোয়াখালী খালের মুখে পাইলিং ও বেইজ ঢালাই করে রেগুলেটর ও পাম্পহাউস স্থাপন করা হয়েছে। এসব স্লুইসগেটে মরিচা প্রতিরোধক অত্যাধুনিক ফাইভার গেট বসানো হবে। চারশ কোটি টাকা ব্যয়ে নেদারল্যান্ডস থেকে এসব গেট আনা হচ্ছে।’
প্রকল্পের কচ্ছপগতি ও ব্যয় বাড়ানো প্রসঙ্গে সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী বলেন, ‘২০১৮ সালে প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাজ শুরুর পর থেকেই জমি অধিগ্রহণ নিয়ে নানা মামলা-মোকদ্দমায় পড়তে হয়েছে। মাঝখানে অর্থ বরাদ্দ, কোভিডসহ নানা কারণে যথাসময়ে নির্মাণকাজ পুরোদমে চালানো যায়নি। তবে এখন পুরোদমে কাজ চলছে। পাশাপাশি ৪৩৬ কোটি ব্যয় বাড়ার মূল কারণ হচ্ছে নতুন করে জমি অধিগ্রহণ করতে হয়েছে। এ ছাড়া শাহ আমানত সেতুর পর থেকে প্রকল্পে নতুন করে ওয়াকওয়ে করা হয়েছে। পাশাপাশি বাকলিয়া এলাকায় কর্ণফুলী নদীর তীরঘেঁষে সৌন্দর্যবর্ধন করা হয়েছে। যেখানে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতের মতো পর্যটকরা সময় কাটাতে পারবে।’