চাঁদপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ অক্টোবর ২০২৪ ২১:২৫ পিএম
আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২৪ ২২:১৬ পিএম
চাঁদপুর সদরের লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নে চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যায়ের জন্য প্রস্তাবিত বাতিল হওয়া ভূমি। প্রবা ফটো
নানা অনিয়ম-অভিযোগের কারণে চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ বাতিল করেছে জেলা প্রশাসন। জোর করে দখলকৃত সেই জমি ফেরত পাবেন জমির মালিকরা। গত বছর ২৮ ডিসেম্বরে ভূমি অধিগ্রহণ বাতিল করা হলেও সোমবার (২৮ অক্টোবর) জানান চাঁদপুরের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. হেদায়েত উল্লাহ।
এত দিন বিষয়টি গোপন
রাখা হয়েছে কেনÑ সে বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন বলেন, ‘দীপু মনির ভয়ে
প্রকাশ করা হয়নি।’
জানা গেছে, চাঁদপুর
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ৬২ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়। অভিযোগ উঠেছে,
তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান
সেলিম খান জোরপূর্বক অনেক পরিবারকে জমি বিক্রি করতে বাধ্য করেন। এ ছাড়া বাজার দরের
চাইতে কম দাম দেওয়া হয় তাদের।
ভুক্তভোগী জমির
মালিক কালু খান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় করার নাম করে আমার কাছ থেকে প্রায় ৫০ শতাংশ জমি
জোরপূর্বক নিয়ে গেছে সেলিম খান। আমি দিতে রাজি হইনি। তার লোকজন দিয়ে আমাকে ধরে এনে
এবং অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জমি লিখে নেয়। দাম আসে ৩৭ লাখ টাকা, দিয়েছে ১২ লাখ টাকা। আমি
আমার জমি ফেরত চাই।
লক্ষ্মীপুর গ্রামের
বাসিন্দা মো. কাজল ও হাবিবুর রহমান বলেন, আমাদের বসতবাড়ি ছিল। সেলিম চেয়ারম্যান দীপু
মনির প্রভাব খাটিয়ে আমাদের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য করে। কিন্তু
এখন তো আর বিশ্ববিদ্যালয় হলো না। আমাদের জমি আমরা ফেরত চাই।
তারা আরও বলেন,
এলাকার বহু পরিবারকে নিজবাড়ি থেকে চলে যেতে হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় করার জন্য বহু বসতভিটা
ও ফসলি জমি বালু দিয়ে ভরাট করা হয়েছে। ওইসব জমি এখন পড়ে আছে।
এখন চাঁদপুর শহরের
ওয়াবদাগেট খলিশাডুলি এলাকায় অস্থায়ী ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম
চলছে।
এদিকে স্থায়ী ক্যাম্পাস
দাবি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. সিয়াম ও নিহাল বলেন, তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী
ডা. দীপু মনি ও তার ভাইয়ের দুর্নীতি কারণে সরকার ভূমি অধিগ্রহণ বাতিল করে দেয়। যত দ্রুত
সম্ভব বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের ব্যবস্থা এবং জমি বরাদ্দ দেওয়া হোক।
এই বিষয়ে চাঁদপুরের
জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন বলেন, অনিয়ম ও দুর্নীতি তদন্ত করে দেখা
হচ্ছে। শিগগির নতুন করে ভূমি অধিগ্রহণ করা হবে। আগে যে স্থানে ভূমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব
করা হয়েছে, তা বাতিল করা হয়েছে। ওই জায়গায় আর বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে না।
তিনি বলেন, নতুন
করে ভূমি অধিগ্রহণ করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা পাইনি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা পেলে আমরা নতুন করে ভূমি অধিগ্রহণের জন্য কাজ করব।
২০১৯ সালের ২৩ ডিসেম্বর
চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১৯ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়
বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিসভা। সংসদে চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে
বিল পাস হয় ২০২০ সালের ৯ সেপ্টেম্বর। ২০২৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টি ৯০ শিক্ষার্থী নিয়ে
যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে তিন বিভাগের দুই ব্যাচে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১৮০ জন।