সুফল চাকমা, বান্দরবান
প্রকাশ : ২৮ অক্টোবর ২০২৪ ১৮:৫৯ পিএম
আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২৪ ১৯:০৮ পিএম
বান্দরবানে তিন তারকা মানের আবাসিক হোটেল ‘ডি মোর’ চলতি মাসের ৫ তারিখ থেকে বন্ধ করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে তোলা। প্রবা ফটো
খরচ পোষাতে না পেরে বান্দরবানে অনির্দিষ্টকালের জন্য হোটেল-রেস্টুরেন্ট বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা হোটেল-রিসোর্ট-রেস্টুরেন্ট ব্যাবসায়ীদের। সোমবার (২৮ অক্টোবর) হোটেল-রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীরা এ আশঙ্কার কথা জানান।
তারা জানান, সেবার মাধ্যমে সামান্য লাভের আশায়
জেলাজুড়ে কয়েক শত লোক পর্যটন খাতে বিনিয়োগ করেছেন। এসব বিনিয়োগকারীর অধিকাংশই ঋণগ্রস্ত।
তাদের সঙ্গে গণপরিবহন, চাঁদের গাড়ি, বার্মিজ স্টোর, ইঞ্জিনচালিত বোট, থ্রি হুইলার,
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন খাতে যুক্ত হয়ে জীবিকা নির্বাহ করছে ২০ হাজারেরও
অধিক মানুষ। যা সম্পূর্ণ পর্যটকনির্ভর। ২০১৯ সাল থেকে করোনাভাইরাস, ভয়াবহ বন্যা, সাম্প্রতিক
সময়ে পাহাড়ের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন কুকি চিনির সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ফলে বান্দরবানের
পর্যটন স্পটগুলোতে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল।
তারা আরও জানান, কয়েক মাস আগে সীমিত পরিসরে কিছু
পর্যটন স্পট খুলে দিলেও দেশের বিরাজমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে কাঙ্ক্ষিত
পর্যটক আসেনি। ফলে এখানকার পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায় ব্যাপক ধ্স নেমেছে। সর্বশেষ চলতি
মাসের ৮ থেকে ৩১ তারিখ পর্যন্ত পর্যটকদের বান্দরবান ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করেছে জেলা প্রশাসন।
যার কারণে ব্যয়ভার মেটাতে না পেরে কর্মী ছাঁটাইসহ প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে অনেক
বিনিয়োগকারী।
হোটেল ডিমোরের ম্যানেজার হ্যাপী মারমা জানান,
তিন তারকা মানের হোটেলটিতে দৈনিক অন্তত ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়। অতিথি না থাকায় হোটেলটি
চলতি মাসের গত ৫ তারিখ থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
রেস্টুরেন্ট মালিক সমিতির সভাপতি গিয়াস উদ্দীন
জানান, দীর্ঘদিন ধরে পারিপার্শ্বিক কারণে পর্যটকের উপস্থিতি অশানুরূপ না থাকায় লোকসানের
সম্মুখীন হয়েছেন রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীরা। খরচ পোষাতে না পারায় ইতোমধ্যে বেয়াই বাড়ি,
গার্ডেনসিটি, কলাপাতাসহ জেলা সদরের প্রায় ২৫টি রেস্টুরেন্ট বন্ধ হয়ে গেছে। আগামী ৩১
তারিখের পর ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা না হলে আরও রেস্টুরেন্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা
রয়েছে।
বান্দরবান আবাসিক হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক
জসিম উদ্দিন জানান, ২০১৯ সালের শেষের দিক থেকে ক্রমান্বয়ে লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছেন
বান্দরবান জেলার পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। ইতোমধ্যে হোটেলের চলমান খরচ বহন করতে
না পারায় অনেক হোটেলের মালিকানা পরিবর্তন হয়েছে। বন্ধ করে দিয়েছে ডিমোর, লাভা তং, হিলবার্ডসহ
আরও কয়েকটি আবাসিক হোটেল। ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত পর্যটক ভ্রমণে দেওয়া নিষেধাজ্ঞা শিথিল
করা না হলে অন্যান্য হোটেল বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না। ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা
শিথিল করতে হোটেল-রেস্টুরেন্টসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকসহ
বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে জেলা প্রশাসক শাহ মোজাহিদ উদ্দিনের
মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ করেননি।
পরে খুদেবার্তা পাঠালেও সাড়া পাওয়া যায়নি।