বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০২৪ ২২:০৯ পিএম
আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২৪ ২২:১৩ পিএম
দীর্ঘ ১৪ মাস পর কালুরঘাট সেতুতে শুরু হয়েছে যান চলাচল। কয়েক ধাপে সংস্কারকাজ শেষে রবিবার (২৭ অক্টোবর) সকাল থেকে সেতু দিয়ে যান চলাচল শুরু হয়। তবে বড় বাস-ট্রাক চলাচল বন্ধে ৮ ফুট উচ্চতায় স্থায়ী প্রতিবন্ধকতা নির্মাণ করে দিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
সেতু দিয়ে যান চলাচল শুরু হওয়ায় নগরে যাতায়াতের দুর্ভোগ অনেকাংশে কমে যাবে বলে জানিয়েছেন গাড়িচালক ও যাত্রীরা। সেতু সংস্কার করে একপাশে যুক্ত করা হয়েছে ওয়াকওয়ে। গত কোরবানির ঈদের সময় ওয়াকওয়ে পথচারীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছিল। সংস্কারকাজের তিন মাসের মাথায় শুরু হয় ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ট্রেন চলাচল।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রকৌশলীরা জানান, বুয়েট বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীদের পরামর্শে ও রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের তত্ত্বাবধানে গত বছরের ১ আগস্ট থেকে সংস্কারকাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড। সংস্কারকাজ শুরুর তিন মাসের মধ্যেই সেতুটি ট্রেন চলাচলের মজবুত ও উপযোগী করে তোলা হয়। এরপর ২০২৩ সালের ১২ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হয়।
প্রায় ৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতুর সংস্কারকাজ শেষ হয়েছে। সেতুতে নতুন করে দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। সেতুর পাটাতনের ওপর বিশেষ প্রযুক্তির কংক্রিটের ঢালাই দেওয়া হয়েছে। ফলে এখন আর সেখানে পানি জমবে না। ট্রেন ও যানবাহন চলাচলের পাশাপাশি এখন পথচারীরা হেঁটে সেতু পার হতে পারবে। রাতের জন্য সেতুতে রাখা হয়েছে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সেতু প্রকৌশলী জিসান দত্ত বলেন, কয়েকটি ধাপে সেতুটির সংস্কারকাজ করা হয়েছে। সর্বশেষ যান চলাচলের জন্য উপযোগী করে সেতু খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে বড় বাস-ট্রাক চলাচল বন্ধে সেতুর দুই প্রান্তে ৮ ফুট উচ্চতায় স্থায়ী প্রতিবন্ধকতা দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর ওপর ১৯৩১ সালে প্রায় ৭০০ মিটার দৈর্ঘ্যের স্টিলের কাঠামোর কালুরঘাট রেলসেতু নির্মিত হয়েছিল। রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৯৩ বছরের পুরোনো এ সেতুকে মজবুত করে ট্রেন ও যান চলাচলের উপযোগী করতে লেগে যায় এক বছরেরও বেশি সময়। এ সময় নদী পারাপারের জন্য ব্যবহার করতে হয় ফেরি। পোহাতে হয় ভোগান্তি আর দুর্ভোগ। ঘটে প্রাণহানিসহ একাধিক দুর্ঘটনা।