মাগুরা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০২৪ ১৫:৫২ পিএম
আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২৪ ১৫:৫৩ পিএম
নবগঙ্গা নদীর উপর নির্মিত সুইচগেটের উইন ওয়ালটি ভেঙ্গে পড়ে নদীগর্ভে। প্রবা ফটো
ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মাগুরা শহরের গুরুত্বপূর্ণ নবগঙ্গা নদীর উপর নির্মিত সুইচগেটের উইন ওয়ালটি ভেঙ্গে পড়েছে নদীগর্ভে। যেকোনও সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মোহাম্মদপুর উপজেলার নিম্নঅঞ্চলের বন্যা নিয়ন্ত্রণ করতে পাকিস্তান সরকারের সময়ে নবগঙ্গা নদীর উপর নির্মিত হয় এই সুইচগেটটি। গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে নদীতে পানি বেড়ে গেলে স্রোতের তোড়ে গত বুধবার (২৩ অক্টোবর) ভোর থেকেই মাটি সরে গিয়ে বড় ধরনের গর্তের সৃষ্টি হয়। এতে দূরপাল্লার পরিবহনসহ সাধারণ মানুষের যাতায়াতে তৈরি হয়েছে ঝুঁকি। স্থানীয়রা বলছেন অতি দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে মহাসড়কটি ব্যবহারে ঝুঁকি বাড়তে থাকবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০ মিটার উইন ওয়াল নদীগর্ভে বিলীন হয়। সেই সঙ্গে রাস্তার রেলিং ৭ মিটার ভেঙে পড়ে ৫ মিটার গভীরতা সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা রোড থেকে পারনান্দুয়ালী পর্যন্ত ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। দুই লেনের রাস্তার এক লেন ব্যবহার করে চলাচল করছে যানবাহন। এই জনগুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক দিয়ে মাগুরা হয়ে ১৫ জেলার সঙ্গে যাতায়াতের সংযোগ রয়েছে। সুইচগেটের উপর নির্মিত মহাসড়কটি দিয়ে যাতায়াত করে শত শত দূর পাল্লার গাড়ি। সুইচ গেটটি পুরাতন হওয়ায় ২০১৯ সালে উইন ওয়ালটি ফাটল ধরে। একই বছরে পানি উন্নয়ন বোর্ড ৬০ লক্ষ টাকা নির্মাণ ব্যয় ধরে দরপত্র আহ্বান করে। এই নির্মাণ কাজের দায়িত্ব পায় মেসার্স রেজাউল এন্টারপ্রাইজ। মো. রেজাউল ইসলাম জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও সদর উপজেলার সাবেক ভাই চেয়ারম্যান ছিলেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী বলেন এই উইন ওয়ালটি নির্মাণের ৬০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ থাকলেও মাত্র কয়েক লক্ষ টাকা খরচ করে নিম্নমানের কাজটি করে দায় সেরেছে ঠিকাদার।
মো.রেজাউল ইসলাম ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি হত্যা মামলার আসামি হওয়ায় বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তার মুঠোফোনটি বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
মাগুরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সরোয়ার জাহান সুজন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, অতি বৃষ্টির কারণে উইন ওয়ালটি ভেঙে পড়ে নদীগর্ভে। মহাসড়কে যাতায়াতে ঝুঁকিমুক্ত করতে ইতোমধ্যে অস্থায়ী সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। এখানে বালি ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। আশা করি বৃহস্পতিবারের মধ্যেই এ কাজ সম্পন্ন হবে।