অর্ণব মল্লিক, কাপ্তাই (রাঙামাটি)
প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০২৪ ১১:৪৫ এএম
রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে বাড়ির সামনে জেমিয়া ফারজানা নিতু। প্রবা ফটো
কলেজপড়ুয়া, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী নারীদের পছন্দের বাহনের তালিকায় আগেই জায়গা করে নিয়েছে স্কুটি। শহরাঞ্চলে একজন নারী স্কুটি চালিয়ে যাচ্ছেন আজকাল এটা খুবই স্বাভাবিক দৃশ্য। শহর ছাপিয়ে উপজেলাসহ গ্রামাঞ্চলের নারীদের মাঝেও এখন স্কুটি নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার শিল্প এলাকার বাসিন্দা তরুণী জেমিয়া ফারজানা নিতু তেমনি একজন। কাপ্তাই উপজেলার প্রথম লেডি বাইকার হিসেবে পরিচিতি রয়েছে তার। শখের বসে স্কুটি চালানো শিখে বর্তমানে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অনেক নারীকে স্কুটি চালানোতে দক্ষ করে তুলছেন তিনি।
রাঙামাটি সরকারি কলেজ থেকে অনার্স পাস করেছেন নিতু। স্কুটি চালানোর বিষয়ে জানান, ছোটবেলা থেকেই ভ্রমণপ্রিয় ছিলেন। স্বপ্ন দেখতেন কলেজে ভর্তির পর স্কুটি কিনবেন এবং তা চালিয়ে বিভিন্ন এলাকা ভ্রমণ করবেন। যেই ভাবা সেই কাজ। ২০০৭ সালে অনেকটা শখের বসে তিনি তার চাচার মাধ্যমে স্কুটি চালোনো শেখেন। এরপর নিজের জমানো কিছু টাকা এবং পরিবারের সহযোগিতা নিয়ে একটি স্কুটি কেনেন। নারী হয়েও গ্রামের এলাকায় স্কুটি চালিয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেন।
বর্তমানে তাকে দেখে অনেক নারী স্কুটি চালাতে আগ্রহী হচ্ছে। বিভিন্ন পেশার নারীরা যখন তার কাছে স্কুটি চালানো শিখতে আগ্রহ প্রকাশ করলেন তখন তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি এনকে ট্রাভেল কুইন নামে পেজ খোলেন। সেখানে তিনি নারীদের স্কুটি প্রশিক্ষণের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। গত ১ বছর যাবৎ কাপ্তাই উপজেলার বিভিন্ন পেশার নারীদের তিনি স্কুটি প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। এতে একদিকে তিনি যেমন অর্থ উপার্জন করছেন তেমনি অনেক নারীকে স্কুটি চালানোতে পারদর্শী ও স্বাবলম্বী করে তুলেছেন। স্কুটি চালানো শিখিয়ে বর্তমানে মাসে তিনি প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকাও আয় করছেন বলে জানান।
নিতু বলেন, বর্তমানে বেশিরভাগ চাকরিজীবী নারী স্কুটি চালানো শিখতে বেশি আগ্রহ প্রকাশ করছে। স্কুটি এখন আর শখের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, এটা এখন মেয়েদের জন্য প্রয়োজনীয়। দৈনন্দিন জীবনে চলাচল, সময় এবং নিরাপত্তার জন্য এটি প্রয়োজন। মেয়েদের স্কুটি থাকলে নিজেই সহজে যাতায়াত করতে পারে। এক সপ্তাহে স্কুটি চালানো শেখা সম্ভব বলে জানান তিনি।
নিতুর কাছে স্কুটি চালানো প্রশিক্ষণ নেওয়া কয়েকজন নারী জানান, আমাদের আগে থেকেই অনেক ইচ্ছা ছিল স্কুটি প্রশিক্ষণ নেওয়ার। কিন্তু কাপ্তাইয়ে এমন কোনো সুযোগ বা প্রশিক্ষক ছিল না। বর্তমানে ফারজানা নিতুর প্রশিক্ষণের খবর পেয়ে আমরা তার কাছে স্কুটি চালানো শিখেছি। প্রশিক্ষণ নিয়ে আমরা দক্ষ হয়েছি। আমাদেরকে স্কুটি চালানো দেখে স্থানীয় অনেকেই আগ্রহী হচ্ছেন।