শরীয়তপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ অক্টোবর ২০২৪ ১৯:৩৬ পিএম
আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২৪ ১৯:৪৫ পিএম
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার চরসেনসাস ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতার ঘরে ঢুকে তার স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক নারীকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে নিহতের পরিবার।
পুলিশ জানায়, আটক হওয়ার সময় ওই নারী ধারালো অস্ত্র দিয়ে নিজের গলায় আঘাত করেন। তাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
নিহত লুৎফা বেগম (৬৫) চরসেনসাস ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান রফিক বালার স্ত্রী। আটক নারী তাদের পূর্বপরিচিত ও স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) বিকালে বালাকান্দি গ্রামে লুৎফা বেগমের সঙ্গে গল্প করতে করতে চা পান করছিলেন ওই নারী। সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজ আদায় করতে বাড়ির পাশের মসজিদে যান লুৎফা বেগমের স্বামী রফিক বালা। লুৎফাও সেখান থেকে উঠে নিজের ঘরে নামাজ পড়তে যান। এ সময় ওই নারী ধারালো অস্ত্র নিয়ে ওই ঘরে গিয়ে লুৎফার গলা কেটে দেন। লুৎফার চিৎকার শুনে পুত্রবধূ আফরোজা আক্তার সেখানে ছুটে যান। তখন তাকেও আক্রমণের চেষ্টা করেন ওই নারী। পরে পরিবারের সদস্যরা ওই নারীকে আটক করার চেষ্টা করেন। তখন তিনি ধারালো অস্ত্র দিয়ে নিজের গলা কাটার চেষ্টা করেন। আহত অবস্থায় ওই নারীকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঘটনাস্থলেই লুৎফা বেগমের মৃত্যু হয়।
এ হত্যাকাণ্ডের কারণ বা উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্পষ্ট করে কিছুই বলতে পারছেন না লুৎফার স্বজনরা। তার স্বামী রফিক বালা বলেন, ‘আমার কোনো শত্রু নেই। আর আমার স্ত্রী তো কারও সঙ্গে বিরোধ বা দ্বন্দ্ব করতে যায় না। সে সংসারী নারী। কেন এবং কী উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করা হয়েছে, বুঝতে পারছি না। আমি কখনও কল্পনাও করিনি, বসতঘরে প্রবেশ করে আমার স্ত্রীকে কেউ এভাবে হত্যা করতে পারে।’
বৃহস্পতিবার রাতে লুৎফার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। আর উন্নত চিকিৎসার জন্য ওই নারীকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবায়দুল হক জানান, সন্দেহভাজন হত্যাকারী পালানোর সময় ধরা পড়েছেন। তিনি নিজেই গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তাকে ঢাকায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ওই নারী সুস্থ হয়ে উঠলে ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। ইতোমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি।