রাজশাহী অফিস
প্রকাশ : ২৫ অক্টোবর ২০২৪ ১৭:৫৬ পিএম
আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২৪ ১৯:৪১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
শৃঙ্খলার সঙ্গে না বসার কারণে এবার রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে প্রশিক্ষণরত অর্ধশতাধিক ক্যাডেট উপপরিদর্শকের (এসআই) কাছে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে।গত সপ্তাহে কয়েক দফায় পর্যায়ক্রমে সারদা পুলিশ একাডেমি থেকে তাদের কাছে এই চিঠি পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ৪০তম ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থী ব্যাচের এই এসআইদের সমাপনী কুচকাওয়াজ হওয়ার কথা রয়েছে নভেম্বর মাসে। এই ব্যাচে প্রশিক্ষণার্থীর সংখ্যা মোট ৮০৪ জন। এর আগে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে এই ব্যাচের আড়াই শতাধিক প্রশিক্ষণার্থী এসআইদের বরখাস্ত করা হয়।
এদিকে শোকজের কয়েকটি কপি গণমাধ্যমের হাতে এসে পৌঁছেছে। পুলিশ একাডেমির অধ্যক্ষের পক্ষে পুলিশ সুপার (অ্যাডমিন অ্যান্ড লজিস্টিকস) মো. তারেক বিন রশিদ কারণ দর্শানোর নোটিস জারি করেন। যেখানে বলা হয়েছে, গত ১ অক্টোবর প্যারেজ গ্রাউন্ডে ৪০তম বিসিএস ক্যাডেট এএসপিদের সমাপনী কুচকাওয়াজের জন্য অনুশীলন প্যারেড অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। এদিন একাডেমি থেকে সরবরাহকৃত নাশতা দেওয়া হয়। ওই নাশতা না খেয়ে মাঠে চরম বিশৃঙ্খলা ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন। সেই সঙ্গে খেয়ালখুশিমতো প্রশিক্ষণ মাঠ থেকে বের হয়ে যান।
একাডেমি সূত্র জানায়, ২১ অক্টোবর ওই ব্যাচের ১০ জন এসআইকে দ্বিতীয় দফায় শোকজ করা হয়। এরপর ২৪ অক্টোবর তৃতীয় দফায় আরও ৪৯ জনকে শোকজ করা হয়। তিন দিনের মধ্যে তাদের জবাব দিতে বলা হয়েছে। পুলিশ একাডেমির অধ্যক্ষের পক্ষে পুলিশ সুপার (অ্যাডমিন অ্যান্ড লজিস্টিকস) মো. তারেক বিন রশিদ কারণ দর্শানোর নোটিসে স্বাক্ষর করেছেন।
২৪ অক্টোবর প্রশিক্ষণরত এক এসআইকে দেওয়া কারণ দর্শানোর নোটিসে বলা হয়েছে, গত ২১ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত চেমনি মেমোরিয়াল হলে আইনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ধারার ওপর প্রশিক্ষণরত ক্যাডেট এসআইদের ক্লাস ছিল। প্রশিক্ষণ চলাকালে পরিদর্শক পদমর্যাদার চারজন প্রশিক্ষক দেখতে পান, সিটে বসার সময় ওই এসআই শৃঙ্খলার সঙ্গে না বসে এলোমেলোভাবে বসে হইচই করে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করেছেন। একজন প্রশিক্ষক বারবার শৃঙ্খলার সঙ্গে বসতে বললেও তিনি নির্দেশ অমান্য ও কর্ণপাত না করে বসা নিয়ে হইচই করতে থাকেন।
এ বিষয়ে একজন প্রশিক্ষণসংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত প্রশিক্ষণার্থী এসআইদের তিন দিনের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।
এদিকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি পুলিশ একাডেমির অধ্যক্ষ ও পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি মো. মাসুদুর রহমান ভুইঞা। তিনি জানান, শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে অনেকের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশনের অতিরিক্ত ডিআইজি জানান, নতুন করে কোনো তথ্য নেই তাদের কাছে। এমন কিছু হলে গণমাধ্যমে জানানো হবে।
এর আগে গত ২২ অক্টোবর এই প্রশিক্ষণার্থী এসআইদের আড়াই শতাধিক সদস্যকে বরখাস্ত করার বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ পায় এবং ২০ অক্টোবর প্রশিক্ষণরত ৪০তম বিসিএস ক্যাডার এএসপিদের সমাপনী কুচকাওয়াজ স্থগিত করা হয়। এই ব্যাচে মোট ৬৮ জন প্রশিক্ষণার্থী রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে প্রশিক্ষণরত এএসপি ও এসআইদের ব্যাচে অধিকাংশই দলীয় (আওয়ামী লীগ) বিবেচনায় নিয়োগপ্রাপ্ত।