সাতক্ষীরা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০২৪ ১৮:০৩ পিএম
আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২৪ ১৮:০৮ পিএম
ঘূর্ণিঝড় দানার প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি হচ্ছে। প্রবা ফটো
বঙ্গোপসাগরের সৃষ্ট নিম্নচাপটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে। এর প্রভাবে সাতক্ষীরার আশাশুনি ও শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন গাবুরা, পদ্মপুকুর, বুড়িগোয়ালিনীসহ প্রতাপনগর খাজরা, আনুলিয়া, শ্রীউলা ইউনিয়নের উপকূলীয় এ অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার আকাশ মেঘলা রয়েছে। মাঝে মাঝে ভারীবর্ষণ ও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে উপকূলের বিভিন্ন এলাকায়।
বুধবার (২৩ অক্টোবর) সাতক্ষীরা আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী রিপন বলেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে। এর নাম দেওয়া হয়েছে দানা। উপকূলীয় অঞ্চলে ২ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত জারি করা হয়েছে। আর এর প্রভাবে সাতক্ষীরা উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় আকাশ মেঘলা ও বৃষ্টি হতে পারে। বৃষ্টি বাড়তে পারে সন্ধ্যার পর থেকে।
তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারও বৃষ্টি হতে পারে।
শ্যামনগর উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. শাহিনুল আলম জানান, ঘূর্ণিঝড় দানা মোকাবিলায় উপজেলার সরকারি ১০২টিসহ মোট ১৬২টি সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছ। এ ছাড়া পর্যাপ্ত পরিমাণ শুকনা খাবার মজুদ রাখা রয়েছে। জানমালের নিরাপত্তার জন্য ২ হাজার ৯৮০ জন সিপিপি সদস্য যার মধ্যে অর্ধেক নারী ও অর্ধেক পুরুষ। এ ছাড়াও পর্যাপ্ত অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের শ্যামনগরে কর্মরত এসও প্রিন্স রেজা বলেন, শ্যামনগরে ৩৬০ কিলোমিটারের মতো বেড়িবাঁধ আছে। এর মধ্যে ৬/৭টি পয়েন্ট বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। এ ছাড়া বেশকিছু এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে কাজ চলছে।
আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কৃষ্ণা রায় জানান, ঘূর্ণিঝড় দানা মোকাবিলায় ইতোমধ্যে উপজেলার কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে দুর্যোগ প্রস্তুতি মিটিং করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করণ পাশাপাশি সিপিপি সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সালাউদ্দিন জানান, পাউবো-১ এর আওতায় ৩৮০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে তিন কিলোমিটার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে বড় ধরনের দুর্যোগ না এলে বাঁধ ভাঙার সম্ভাবনা নেই।