× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

‘পেট ভরে না, পেট ভরে খাইতে পারি না’

আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০২৪ ১৭:৪৯ পিএম

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২৪ ১৭:৫১ পিএম

আখাউড়া পৌর শহরের সড়ক বাজারের কাঁচা বাজার। বুধবার সকালে তোলা।

আখাউড়া পৌর শহরের সড়ক বাজারের কাঁচা বাজার। বুধবার সকালে তোলা।

‘নিত্যপণ্যের বাজারে যে আগুন, আমরা প্রতিনিয়ত দগ্ধ হইতেছি। আমরা চাই দুবেলা দুমুঠো ভাত খেয়ে সুন্দর মতো ঘুমাতে। কিন্ত এখন দুবেলা দুমুঠো ভাত সুন্দর মতো খাইতে পারতেছিনা। না খাওয়ার কারণে রাইতে ঘুম এখন হারাম হয়ে গেছে। পেটের ক্ষুধা নিয়ে ঘুমাইলে রাইতে ভালো ঘুম হয় না। সারাদিন টেনশনে জীবনযাপন করি। সরকার কে এলো কে গেল তা আমাদের দেখার বিষয় না। আমরা যারা প্রতিদিন প্রতিনিয়ত হাতে কাজ করি খেটে খাই। আমরা শুধু এতটুকু চাই নিত্যপণ্যের মূল্যটা আমাদের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকুক। এখন যে পরিস্থিতি দুবেলা দুমুঠো ভাত খাইতে পারি না। পেট ভরে না, পেট ভরে খাইতে পারি না। চারজনের সংসারে দৈনিক এক হাজার টাকা খরচ লাগে। কিন্ত ইনকাম (আয়) হয় ৫ থেকে ৭ শত টাকা। প্রতিদিন ২/৩শ টাকা ধার কর্জ করে সংসার চালাতে হচ্ছে। এভাবে আর কত দিন চালানো যায়।’ 

বুধবার(২৩ অক্টোবর) সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে পৌর কলেজপাড়ায় ক্ষোভের সঙ্গে প্রতিবেদককে কথাগুলো বলছিলেন আখাউড়ার অটোচালক শাহজাহান মিয়া। 

‘ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়, পূর্ণিমা চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি’- কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতার এ লাইন যেন চিরসত্যের চরম শিখরে এ সময়ে। খাদ্যাভাব নেই, তবে অর্থের অভাব এসে ভর করেছে সাধারণ মানুষের ঘাড়ে। ফলস্বরূপ প্রয়োজনীয় খাবার সামনে থাকলেও পকেটের দিকে তাকিয়ে শুধু দেখে যেতে হচ্ছে বাজারের সারিবদ্ধ দোকানগুলোর দিকে। বর্তমানের বাজারে দ্রব্যমূল্যের ক্রমাগত বৃদ্ধিতে নাকানিচুবানি খেতে হচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষদের। এসব মানুষের দুর্দিন ক্রমশই ঘনিয়ে আসছে নিত্যদিনের অতি প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্য ভারসাম্যহীনতার কারণে।

সরেজমিনে, আখাউড়া পৌরশহরের সড়ক বাজার ও বড় বাজারের কাচা বাজার ঘুরে দেখা যায়। বাজারগুলোতে ঢোকার আগে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির গরম হাওয়া শরীরে আচ করা যায়। দেখা যায় ক্রেতাদের মুখে কোন হাসি নেই। সবাই মনমরা হয়ে হাতে ব্যাগ নিয়ে ঘুরছে এক দোকান থেকে অন্য দোকানে। একটু মূল্য কম পাওয়ার আশায়। কিন্ত মিলছে না কাঙ্খিত মূল্য। সবখানে যে, সবপণ্যের আগুন। হাতে বাড়ালেই মূল্যের আগুনে পুড়ে যাচ্ছে হাত। পকেট আর পণ্যদ্রব্যের দিকে তাকিয়েই সময় পাড় হয়ে যাচ্ছে।

বিভিন্ন দোকানির সঙ্গে আলাপ করে জানা যায় দ্রব্যমূলের দাম। যেমন- লাউ আকার বেঁধে ১০০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা, ধনিয়া পাতা প্রতি কেজি ৪০০ টাকা, কাচা মরিচ ৩০০ টাকা, শিম ২৫০, টমেটো ২০০, কচুর মুখী ৮০ টাকা, করলা প্রতি কেজি ১০০ টাকা, বেগুন ১০০ টাকা, মোলা ৮০ টাকা, গাজর ১৮০ টাকা, কাছ কলা খালি প্রতি খালি ৬০ টাকা, বরবটি ৯০ টাকা, পেঁপে ৬০ টাকা ও মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৮০ টাকা।

আখাউড়া পৌরশহরের কাচা বাজারে দেখা হয়, পৌরশহরের মসজিদপাড়ার আমেনা বেগমের সঙ্গে। পঞ্চাশ ঊর্ধ্ব ওই বয়স্ক আমেনা বেগম কেনাকাটা করছেন আর ভিড় ভিড় করে কি যেন বলছেন। কাজ নাই, কাম নাই। আমরা গরিব মানুষ। আমার স্বামী রিক্সা চালায়। তার আয় রুজগারও কম। আইছি বাজার দেখি ১৫০/২০০ টাকার নিচে কোন সবজি নাই। তার হাতে লাউ দেখিয়ে বলছিলেন ১২০ টাকা দিয়ে লাউটি কিনছেন। এর আগে এই লাউ কিনেছিলাম ৭০/৮০ টাকা দিয়া।

পৌরশহরের কাচামাল বিক্রেতা বাবুল মিয়া জানান, ‘মালের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত বাকবিতণ্ডা হয়। কেন দাম বাড়ল, এ জাতীয় প্রশ্নের জবাব দিতে হচ্ছে। মালের দাম বাড়ার কারণে আগের চেয়ে বেচা কেনাও কম হয়। আগে যারা এক কেজি পণ্য কিনতেন তারা এখন ২০০/২৫০ গ্রাম করে সদাই কিনছেন। এদিকে ব্যবসা মন্দা ভাব আরেক দিকে ক্রেতাদের বাকবিতণ্ডা। এভাবেই চলছে আমাদের দিনকাল। তার পাশের দোকানী আমরা বেশি দামে সবজি কিনি আর সেই অনুযায়ী সামন্য লাভ ধরে বিক্রি করি। এখানে আমাদের কোন হাত নাই। আগে বেশি পণ্য বিক্রি করতে পারতাম এখন কম বিক্রি হয়।’

আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার গাজালা পারভীন রুহি বলেন, ‘দ্রব্যমূল্যের বাজার মনিটরিং বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি মিটিং হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ের কাদেরকে নিয়ে বাজার মনিটরিং করা হবে এই রকম রুপরেখা এখনও পাওয়া যায়নি। রুপরেখা পাওয়ার পর বাজার মনিটরিং করা হবে।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা