পেকুয়া (কক্সবাজার) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ অক্টোবর ২০২৪ ১৬:৪৮ পিএম
অভিযোগ ওঠা উপজেলা মহিলা যুবলীগের সভাপতি জন্নাতুল তাহমিনা শিমু। ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজারের পেকুয়ায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর নাম ভাঙিয়ে টয়লেট ও টিউবওয়েল বাণিজ্য করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জন্নাতুল তাহমিনা শিমু নামে এক নারীর বিরুদ্ধে। তিনি পেকুয়া উপজেলা মহিলা যুবলীগের সভাপতি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জন্নাতুল তাহমিনা শিমু স্ট্যাম্পের মাধ্যমে উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের উত্তর সুন্দরীপাড়া গ্রামের আব্দুল মালেক, মো. নুরুল আবচার ও মঞ্জুর আলম নামের তিন ব্যক্তির কাছ থেকে টিউবওয়েল দেওয়ার কথা বলে এক লক্ষ ১৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। উজানটিয়া ইউনিয়নের ষাট দুনিয়াপাড়ার বেশ কয়েকজন নারীর কাছ থেকে টয়লেট দেওয়ার কথা বলে ৫ হাজার টাকা করে নিয়েছেন শিমু। এছাড়া টিউবওয়েল দেওয়ার কথা বলে একই এলাকার জান্নাতুল ফেরদৌস নামের এক নারী থেকে ৪৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন মহিলা যুবলীগের ওই নেত্রী। এভাবে পেকুয়া উপজেলায় বিভিন্ন ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ থেকে টয়লেট এবং টিউবওয়েল পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে এক বছর আগে লাখ লাখ প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি।
আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে পেকুয়া উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে বেশ প্রভাব বিস্তার করতেন ওই নেত্রী। তাকে অনৈতিক সুবিধা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে সাবেক এমপি জাফর আলমের ক্ষমতা দেখিয়ে অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীর চাকরি খোয়ানোও হুমকি দেন। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন সময় উপজেলার বারান্দায় ঘুরাফেরা করে বুঝাতেন সকল দপ্তরের সঙ্গে তার গভীর সখ্যতা রয়েছে। এটি ছিল তার প্রতারণা করার অভিনব কৌশল।
জান্নাতুল ফেরদৌস নামের এক ভুক্তভোগী নারী বলেন, ‘টিউবওয়েল দেওয়ার কথা বলে এক বছর আগে আমার কাছ থেকে ৪৫ হাজার টাকা নিয়েছেন শিমু। এখনও তিনি আমাকে টিউবওয়েল দেননি। টাকা ফেরত চাইলেও দেন না। একারণে তার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিয়েছি।’
উজানটিয়া ইউনিয়নের ষাট দুনিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা কমরুনেচ্ছা, নাছিমা, হাছিনা বেগমসহ বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী নারী জানান, শিমু এক বছর আগে টয়লেট দেওয়ার কথা বলে আমাদের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা করে নিয়েছেন। তিনি এখনও আমাদের টয়লেট দিতে পারেননি। তাই টাকা ফেরত চাওয়ার জন্য তার বাড়িতে অনেকবার গিয়েছি। কিন্তু তিনি আমাদের টাকা ফেরত দিচ্ছেন না।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযোগ অস্বীকার করে জন্নাতুল তাহমিনা শিমু বলেন, আমি কারও কাছ থেকে টাকা নেইনি। তিনি এই প্রতিবেদককে উল্টো প্রশ্ন করেন-টাকা নিয়েছি এমন কোন ডকুমেন্ট বা সাক্ষী প্রমাণ আছে?
শিমু বলেন, ‘আপনি পেপারে নিউজ করিয়েন না আপনাকে খরচের টাকা দিব।’ পরে তিনি এর দায় কিছুটা অফিস সহকারী বাহাদুরের উপর চাপিয়ে দেন।
এ বিষয়ে অফিস সহকারী বাহাদুর বলেন, তিনি (জন্নাতুল) অনেকের কাছ থেকে টয়লেট এবং টিউবওয়েল দেওয়ার কথা বলে টাকা নিয়েছেন। এ খবর জানার পর তাকে একবার অফিস থেকে বের করে দিয়েছিলাম। পরে তিনি আমার চাকরি খোয়ানোর হুমকি দিয়ে চলে যান। মূলত তিনি অফিসের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি করে ফেঁসে গেছেন।
পেকুয়া উপজেলা উপ-সহকারী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী জয় প্রকাশ চাকমা বলেন, ‘আমার পক্ষে কাউকে টিউবওয়েল বা টয়লেট দেওয়ার মতো কোন সুযোগ নেই। নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন (ওয়াটসন) কমিটির মাধ্যমে এসব বরাদ্দ বাস্তবায়ন করা হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘মহিলা যুবলীগের সভাপতি জন্নাতুল তাহমিনা শিমু নামের এক নারী টয়লেট এবং টিউবওয়েল দিবে বলে অনেকের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। বিষয়টি আমরা জানতে পেরে তাকে অফিসে আসতে বারণ করি। তাই তিনি অনেকটা ক্ষিপ্ত হয়ে আমার বিরুদ্ধে উল্টো মিথ্যা প্রপাগাণ্ডা ছড়াচ্ছেন।’