শফিক সরকার, ময়মনসিংহ
প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০২৪ ২১:৩৩ পিএম
আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২৪ ২২:৫৯ পিএম
বাজারের সিন্ডিকেট ভাঙতে এবার মাঠে
নামলেন শিক্ষার্থীরা। ন্যায্যমূলে বিক্রি করছেন নানান জাতের শাকসবজি। সোমবার
এমন দৃশ্য দেখা গেল ময়মনসিংহ নগরের আনন্দ মোহন কলেজের সামনে। সেখানে শিক্ষার্থীরা
নিজ উদ্যোগে বিক্রি করছেন নানা জাতের শাকসবজি।
কলেজের মুক্তমঞ্চের সামনে সকাল ৮টা
থেকে শুরু হয়ে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলে শিক্ষার্থীদের এ কার্যক্রম। এ সময় নগরীর বিভিন্ন
এলাকা থেকে ক্রেতারা শিক্ষার্থীদের বাজারে সবজি কিনতে আসে। ন্যায্যমূল্যে সবজি
কিনতে পেরে তাদের বেশ খুশি দেখা যায়। বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসা
পর্যন্ত এ দোকান চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে শামিয়ানা
টানিয়ে দোকানটি চলে। গত রবিবার প্রচারণা শুরু হওয়ায় সোমবার সকালে অনেক ক্রেতা হাজির
হয় সেখানে। শিক্ষার্থীদের বাজারে আসা নগরের গোলাজান রোডের বাসিন্দা মারজিয়া আক্তার
বলেন, অনেকের কাছ থেকে শুনে এখানে ন্যায্যমূল্যে সবজি কিনতে এসেছি। বাজারের চেয়ে
বিভিন্ন সবজি ১০ থেকে ১২ টাকা কেজিতে কম পেয়েছি। কম দামে সবজি কিনতে পেরে আমি খুশি।
শিক্ষার্থীদের এ উদ্যোগ ভালো লেগেছে।
শিক্ষার্থীদের ন্যায্যমূলের সবজির
দোকানে ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এখানকার বিভিন্ন শাকসবজি কোনোটিতে ৫ টাকা,
কোনোটিতে ১০ টাকা, আবার কোনোটি ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত কম দামে কিনতে পারছেন তারা।
শিক্ষার্থীদের এ উদ্যোগে ১৩ ধরনের
সবজি বিক্রি করতে দেখা যায়। স্থানীয় বাজার থেকে এখানে বেশ কম দামেই সবজি বিক্রি করেন
তারা। এখানে কাঁচা মরিচের কেজি ২৫০ টাকা বিক্রি হয়। যেখানে বর্তমানে ময়মনসিংহ শহরের
বিভিন্ন বাজারে কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকায়। এ ছাড়া কচুর লতি বিক্রি হয় ৮০ টাকা
কেজিতে, যার মূল্য বাজারে ১০০ থেকে ১১০ টাকা। ঢেঁড়স ৭০ টাকা বিক্রি করলেও বাজার মূল্য
৮০ থেকে ১০০ টাকা। লম্বা বেগুনের কেজি ছিল ৮০ টাকা, বাজারে যার দাম ১০০ থেকে ১২০ টাকা।
এ ছাড়া ছোট বেগুন ১৩০ টাকা কেজি বিক্রি করলেও বাজারে ১৫০ টাকা কেজি। এ দোকানে শসা ৫০
টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও বাজারে দাম ছিল ৭০ থেকে ৮০ টাকা। পটলের দাম ছিল ৮০ টাকা, বাজারে
যার প্রতি কেজির মূল্য ১০০ টাকা। এ ছাড়া আলু ৫৫ টাকায়, বাজারে যা বিক্রি হচ্ছে কেজিতে
৬০ টাকা। প্রতি পিস লাউয়ের দাম ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হলেও বাজারে যার মূল্য ৭০ থেকে
১০০ টাকা। এভাবে শিক্ষার্থীদের এ দোকানে প্রতিটি সবজির দাম বাজার থেকে বেশ কমেই
বিক্রি হচ্ছিল।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ময়মনসিংহের
সমন্বয়ক এবং এ আয়োজনের অন্যতম উদ্যোক্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, দ্রব্যমূল্যের অস্থিরতার
এই সময়ে সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে আমরা কয়েকজন শিক্ষার্থী মিলে ন্যায্যমূল্যে
সবজি বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছি। প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করায় কম দামে
বিক্রি করা যাচ্ছে। বাজারে যেসব সবজি পাওয়া যায় তা কৃষক পর্যায় থেকে ক্রেতাদের কাছে
আসতে কয়েকবার হাতবদল হয়। ফলে দামও বেড়ে যায়, এতে মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে। এজন্য আমরা
কৃষক ও ভোক্তার সুবিধার কথা চিন্তা করে এ উদ্যোগ নিয়েছি। এতে কৃষক যেমন তার কষ্টের
ফসলের ন্যায্যমূল্য পাবে, আবার ভোক্তাও কম দামে কিনতে পারবে।
এই বিষয়ে সরকারি আনন্দ মোহন কলেজের
অধ্যক্ষ আমান উল্লাহ বলেন, শিক্ষার্থীদের এ উদ্যোগ অনেক প্রশংসনীয়। এতে বাজারে
সিন্ডিকেট ভাঙার সঙ্গে ক্রেতারাও উপকৃত হবে। বর্তমান বাজারে শাকসবজি যে মূল্যে বিক্রি
করা হচ্ছে এতে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের এ
ধরনের উদ্যোগকে ধন্যবাদ জানাই।