পেকুয়া (কক্সবাজার) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০২৪ ১৫:১৮ পিএম
বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা থাকায় কক্সবাজারের কুতুবদিয়া ঘাটে নোঙর করে রাখা জেলেদের ট্রলার। প্রবা ফটো
কক্সবাজার কুতুবদিয়া উপজেলা উত্তর ধূরুং ইউনিয়নের বাসিন্দা গিয়াস। অন্যের বোটে দৈনিক মজুরির কাজ করে পরিবারের ছয় সদস্যের জন্য খাদ্য জোগাড় করতেন। ইলিশের প্রজনন মৌসুমে সাগরে ২২ দিন মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। এতে কাজ হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েছেন তিনি। অন্য বছর মাছ ধরা বন্ধ থাকাকালে সরকারিভাবে চাল দেওয়া হতো। এবার এখন পর্যন্ত কোনও সহায়তা পাননি তিনি।
সরেজমিনে আকবার বলিপাড়া গিয়ে দেখা যায়, কয়েকশ ছোট-বড় ট্রলার ঘাটে নোঙর করে রাখা। জেলেরা বেড়িবাঁধ ও ট্রলারে বসে মাছ ধরার জাল মেরামত করছেন। অন্যদিকে, অমজাখালী, রোমাইপাড়া, কৈয়ারবিল, আলী ফকির ডেইল, কায়সারপাড়া, মাতবরপাড়া, হায়জার বাপের পাড়া, পূর্ব আলী আকবর ডেইল জেলেপাড়া, বড়ঘোপ আজম কলোনী, আকবর বলীর ঘাট, জেলেরা সাগরে মাছ শিকারে যেতে না পারায় বেড়িবাঁধ, রাস্তার পাড়ে বসে জাল বুনে অলস সময় পার করছেন তারা।
জেলেরা জানায়, এবার বঙ্গোপসাগরের কুতুবদিয়া চ্যানেলে ইলিশ অনেক কম ছিল। এতে মাছ বিক্রি করে তাদের পরিবারের খরচ চালাতেই হিমশিম খেতে হয়েছে। এর মধ্যে ৪-২৫ অক্টোবর টানা ২২ দিন সাগরে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সরকার। এ সময় বিকল্প কোনও ব্যবস্থা না থাকায় অভাব-অনটনে দিন কাটছে তাদের। নিষেধাজ্ঞা চলাকালে অন্য বছর সরকারিভাবে সহায়তা দেওয়া হলেও এবার সেটি দেওয়া হয়নি।
কায়সারপাড়ার বাসিন্দা আব্দু শুক্কর বলেন, ‘করোনাকালীন তার বাবা জয়নাল আবেদীন মারা যান। এতে মা, ভাই ও বোনসহ পরিবারের ছয়জনের দায়িত্ব পড়ে তার কাঁধে। পরিবার চালাতে সাগরে মাছ ধরার কাজ শুরু করেন তিনি। অন্যের নৌকায় সাগরে মাছ ধরার কাজ করে যে টাকা পেতেন, সেটি দিয়ে কোনও রকম চলত সংসার। কিন্তু সরকারি নির্দেশনায় মাছ ধরা বন্ধে টানা আট দিন বেকার। বিকল্প কোনও কাজ না জানায় তাকে কষ্টে দিন পার করতে হচ্ছে।’
রোমাইপাড়া বাসিন্দা আরিফুর ইসলাম বলেন, ‘সরকারি নির্দেশে সাগরে মাছ ধরা বন্ধ করেছি। আমরা এখন বেকার। বিকল্প কোনও কাজ না জানায় আমাদের রোজগারের পথ বন্ধ। সরকার সাগরে যেতে বারণ করল, এ সময় আমাদের পরিবার কীভাবে চলবে, সেটি নিয়ে ভাবার সময় তাদের নেই।’
কুতুবদিয়া মৎস্যজীবি ফেডারেশনের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ জানান, উপজেলার ছোট-বড় ২ হাজার ট্রলারের অধীনে প্রায় ২০ হাজারের অধিক জেলে রয়েছে। এর মধ্যে নিবন্ধিত হয়েছে ৯ হাজার ৯৬৩ জন। তবে এখনও অনেকে নিবন্ধিত হতে পারেনি। চলমান এ নিষেধাজ্ঞার মধ্যে সরকারি বিশেষ ভিজিএফ খাদ্যগুলো প্রদান করা হলে কিছুটা কষ্ট কমবে।
আবুল কালাম আজাদ অভিযোগ করে বলেন, সরকারের নিষেধাজ্ঞা আমরা মানলেও কিন্তু ভারতীয় জেলেরা প্রতিদিন সাতক্ষীরা দিয়ে পায়রা পর্যন্ত অনুপ্রবেশ করে মাছ ধরা থামায়নি, তবে কোস্ট গার্ডের তৎপর থাকলেও অনুপ্রবেশ ঠেকানো যাচ্ছেনা। এই বিষয়ে আমরা সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করি।
এ বিষয়ে কুতুবদিয়া উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘ সাগরে জেলেদের মাছ ধরা ২২ দিনের একটা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। এই জন্য সরকার থেকে ৪০-৪৫ কেজি মতো সহায়তা দেওয়া হয়। আমি ইতোমধ্যে বরাদ্দে সাক্ষর করে দিয়েছি। অতিশীঘ্রই জেলেদের পরিবারের কাছে এসব বরাদ্দকৃত চালগুলো বণ্টন করা হবে।’