নেত্রকোণার কেন্দুয়া
জিয়াউর রহমান, নেত্রকোণা
প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০২৪ ১২:৫৪ পিএম
আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২৪ ১৩:৩১ পিএম
নেত্রকোণার কেন্দুয়া পৌরশহরের সাবেরুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশেই ফেলা হচ্ছে বাজারের ময়লা, দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। শনিবার তোলা। প্রবা ফটো
সড়কের একপাশে বিদ্যালয়। অন্যপাশে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। স্থানীয় বাজার ও বাসাবাড়ির সমস্ত ময়লা-আবর্জনা প্রতিদিনই এখানে এনে ফেলা হচ্ছে। সেখান থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে পুরো এলাকায়। বিশেষ করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ঢুকতে হয় নাক চেপে। তীব্র দুর্গন্ধের কারণে বিদ্যালয়ে পাঠদান কঠিন হয়ে পড়েছে।
এমন অবস্থা নেত্রকোণার কেন্দুয়া পৌরশহরের সাবেরুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এলাকার। নেত্রকোণা-কেন্দুয়া সড়কঘেঁষে প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বরাতে জানা গেছে, কেন্দুয়া উপজেলার অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পৌরশহরের সাবেরুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এ বিদ্যালয়। বর্তমানে এর শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ৩৫০ জন। আর শিক্ষক-কর্মচারী ২৫ জন।
সরেজমিনে সংশ্লিষ্ট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের পাশেই ময়লার ভাগাড়টি। আর ভাগাড়ের পাশে কেন্দুয়া পৌরসভা কার্যালয়। জনগুরুত্বপূর্ণ এই স্থানটিতে ময়লার ভাগাড় থাকায় সেখানে ভনভন করছে মশা-মাছি। এতে দূষিত হচ্ছে আশপাশের পরিবেশ। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় বাসিন্দারা।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সাত-আট বছর ধরে বিদ্যালয়সংলগ্ন ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়টিতে প্রতিদিনই স্থানীয় বাজারের নষ্ট হওয়া শাকসবজি, হোটেলের পচাবাসি খাবার, মুরগির বর্জ্য, বাসাবাড়ির ময়লাসহ সব ধরনের আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই এগুলো পচে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়। এরপর তা পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এ অবস্থায় দিন যত যাচ্ছে, ময়লার ভাগাড়টিও তত বড় হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুইটি আক্তার, সাবিনা আক্তার ও ঝুমা আক্তারসহ বেশ কয়েকজন জানায়, কোনো স্কুলের পাশে ময়লা-আবর্জনার এমন স্তূপ আমরা আর কোথাও দেখিনি। আমাদের এখানেই দেখলাম। ময়লার দুর্গন্ধের জন্য আমাদের স্কুলে আসা-যাওয়া করতে কষ্ট হচ্ছে। ক্লাসেও বসে থাকা যায় না। অনেক সময় দুর্গন্ধে বমি চলে আসে। কিন্তু আমাদের এই দুর্ভোগ দেখার কেউ নেই।
শিক্ষার্থী রিমা আক্তার বলে, স্কুলে ক্লাস করাটা খুবই কষ্টকর। স্কুলের পুরো সময়টা দুর্গন্ধের মধ্যে কাটাতে হয়। এ রকম অবস্থা অনেক দিন ধরেই চলে আসছে। আমরা এই দুর্গন্ধ থেকে মুক্তি চাই।
এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক জিয়াউর রহমান বলেন, আবর্জনার ভাগাড়টির জন্য শিক্ষার্থীরা চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে। তাই দ্রুত এখান থেকে ময়লা সরিয়ে নেওয়া জরুরি। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
পথচারী মামুন মিয়া বলেন, এই রাস্তাটা দিয়ে চলাচল করার মতো কোনো পরিবেশ নেই। তবুও প্রয়োজনের তাগিদে ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধ সহ্য করেই আমাদের চলাচল করতে হচ্ছে। এখানে একটা বিদ্যালয় এবং পৌরসভার কার্যালয় রয়েছে। এই জায়গায় ময়লা-আবর্জনা মানুষ কীভাবে ফেলে বুঝলাম না।
সাবেরুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুখলেছুর রহমান বাঙ্গালী বলেন, এ বিষয়ে পৌরসভায় বারবার অভিযোগ করার পরও এখান থেকে ময়লার ভাগাড় সরানো হয়নি। এ ছাড়া উপজেলার মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায়ও বিষয়টা নিয়ে কয়েকবার আলোচনা করেছি। কিন্তু কোনো সুরাহা হচ্ছে না। বিষয়টির দ্রুত সমাধান চাই। দুর্গন্ধের কারণে দরজা-জানালা বন্ধ করে ক্লাস নিতে হয়। তারপরও সম্ভব হয় না। এত দুর্গন্ধ। এভাবে চলতে থাকলে বাচ্চারা অসুস্থ হয়ে যাবে।
কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. অরূপ কুমার সরকার বলেন, দুর্গন্ধের কারণে শিশুদের মানসিক ও শারীরিক ঝুঁকি রয়েছে। ময়লায় মশা-মাছিসহ নানা ধরনের পোকামাকড় থাকে। মাছির কারণে শিশুরা পেটের পীড়া ও ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন অসুখে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমদাদুল হক তালুকদার বলেন, এ বিষয়ে অচিরেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া বিভিন্ন ফেস্টুন, ব্যানার ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচারণা চালিয়ে সবাইকে সচেতন করতে হবে। বিদ্যালয়ের আঙিনার আশপাশে কেউ যেন ময়লা-আবর্জনা না ফেলে।