× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

মাগুরা পৌরসভা

সংযোগ সড়ক ছাড়াই সেতু, ঝুঁকিতে সাধারণ মানুষ

শরীফ স্বাধীন, মাগুরা

প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০২৪ ১২:৪৫ পিএম

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২৪ ১৩:৩০ পিএম

মূল সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলেও সংযোগ সড়ক হয়নি। ফলে ঝুঁকিতে রয়েছে পাকা স্থাপনা। সম্প্রতি ইসলামপুর পাড়া খেয়াঘাটে। প্রবা ফটো

মূল সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলেও সংযোগ সড়ক হয়নি। ফলে ঝুঁকিতে রয়েছে পাকা স্থাপনা। সম্প্রতি ইসলামপুর পাড়া খেয়াঘাটে। প্রবা ফটো

মাগুরা শহরের নবগঙ্গা নদীর ওপর আরসিসি গার্ডার সেতুর মূল অবকাঠামোর নির্মাণ কাজ শেষ হয় এক বছর আগে। কিন্তু সরকারি জমির সীমানা নির্ধারণ জটিলতার কারণে সংযোগ সড়কের নির্মাণ কাজ শুরু করা যায়নি। ফলে ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে হয় কয়েক হাজার সাধারণ মানুষসহ শিক্ষার্থীদের। সেই সঙ্গে নদীর উভয় পাড়ে সেতু সংলগ্ন বসবাসরত পাকা বাড়ি ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণেই এমন অবস্থা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। 

মাগুরা পৌরসভা প্রকৌশল কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০২০-২১ অর্থবছরে নবগঙ্গা নদীর ওপর আরসিসি গার্ডার সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। মূল সেতুর দৈর্ঘ্য ৪০ মিটার এবং ফুটপাতসহ প্রস্থ ৬ দশমিক ৭ মিটার। এ ছাড়াও সেতুর দুই পাশে উত্তর দিকে ও দক্ষিণ দিকে ২৫ মিটার করে সংযোগ সড়ক। 

সেতুর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ২৬ লাখ ৭৪ হাজার ৭৬০ টাকা। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সৌরভ নিশিত জেবি। ২০২২ সালে সেতুর মূল কাঠামো নির্মাণ কাজ শেষ হয়। ২০২৩ সালের ৯ নভেম্বর সংযোগ সড়ক ছাড়াই সেতুর উদ্বোধন করেন সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শিখর ও সাবেক মেয়র মো. খুরশীদ হায়দার টুটুল। অন্যদিকে সেতুর সংযোগ সড়ক প্রশস্তকরণে প্রয়োজনীয় জমির মালিকানা নিয়ে রয়েছে মামলা। ফলে নির্ধারিত সময়ে নির্মাণ কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান।

সরেজমিন দেখা গেছে, পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইসলামপুর পাড়া এবং ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পারনান্দুয়ালী চরপাড়ার মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে নবগঙ্গা নদী। মেতু নির্মাণের আগে দুই এলাকার মানুষ পারাপার করতেন বাঁশের সাঁকোয়। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল বেইলি ব্রিজের। সেখানে পৌরসভা আরসিসি গার্ডার সেতুটি নির্মাণ করে। কিন্তু এটি নির্মাণের এক বছর পার হলেও দুই পাড়ের ৫০ মিটার সংযোগ সড়কের কাজ এখনও শুরু করা যায়নি। এদিকে পৌর কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় সংযোগ সড়কের নিচের মাটি নদীগর্ভে চলে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে সেতু সংলগ্ন কয়েকটা বাড়ির এক অংশের মাটি ফাটল ধরে ধসে গেছে। ঝুঁকিতে রয়েছে কয়েকটি পাকা বাড়িসহ মসজিদ। সেতুটি দিয়ে পারাপার হওয়ার জন্য স্থানীয় বাসিন্দারা কয়েকটা সিসি ব্লক আর কাঠের তক্তা ফেলে হাঁটার ব্যবস্থা করে নিয়েছেন। ঝুঁকি নিয়ে দুই পাড়ের হাজারো মানুষ প্রতিদিন পারাপার হচ্ছেন। 

সেতুকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পরনান্দুয়ালী চরপাড়ার বাসিন্দা বাদশা খাঁন বলেন, পৈতৃক ভিটায় বসবাস করি। সংযোগ সড়ক করতে জমি একোয়ার না করে সাবেক মেয়র জোর করে উচ্ছেদ করতে নোটিস দিয়েছিল। ফলে পৌরসভার অসৎ উদ্দেশ্য ঠেকাতে মামলাটি করি।

ইসলামপুর পাড়ার বাসিন্দা হালিমা খাতুন বলেন, এলাকাবাসীর দাবি ছিল লোহার বেইলি ব্রিজ। কারণ এখানে একপাশে ৫ ফুট এবং অন্য পাশে ১০ ফুট চওড়া রাস্তা আছে। সেখানে ব্রিজ করা হয়েছে ২০ ফুট চওড়া। ভেবেচিন্তে ব্রিজটি করেনি। আমাদের বসবাসের বাড়ির মাটি ধসে দেয়ালে ফাটল ধরেছে। মূলত লুটপাট করতেই এই ব্রিজটি করা। 

শিক্ষার্থী অনামিকা বলেন, এই ব্রিজ দিয়ে চলাফেরা করতে আমাদের ভয় লাগে। যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। তারপরও আমরা বাধ্য হয়ে যাতায়াত করি। 

জানতে চাইলে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান বারী বলেন, স্থান বিবেচনায় প্রথমে আমরা ফুটব্রিজের প্রস্তাব করেছিলাম। কিন্তু এলজিইডি প্ল্যানিং সেকশন প্রস্তাবটি নাকচ করে আরসিসি গার্ডার সেতুর প্রস্তাব পাঠাতে বলে। আমরা সেভাবেই কাজটি করেছি। তবে মানুষের যাতায়াতে সুবিধা এবং পাকাবাড়ির ঝুঁকি এড়াতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা