ফরিদপুর সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৪ নভেম্বর ২০২২ ২০:৫৪ পিএম
আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২২ ২১:০৪ পিএম
ফাইল ছবি
ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা খাদ্য গুদামের প্রায় সোয়া ২০০ টন চাল ঘাটতির অভিযোগে গুদামটি সিলগালা করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক প্রশিক্ষণে দেশের বাইরে থাকায় তার দায়িত্বে রয়েছেন ফরিদপুর সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. তারিকুজ্জামান। তিনি নিজেই এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
চরভদ্রাসন উপজেলা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজাদ খান অভিযোগ করেন, ‘ওই ওসিএলএসডি গত চার মাস ধরে আমার ইউনিয়নের প্রায় ৮০ টন চাল সরবরাহ করেনি। একইভাবে উপজেলার চার ইউনিয়নের প্রায় ২০০ টন ভিজিডি কার্ডের চাল তিনি আত্মসাত করেছেন। আমি বুধবার রাতে ওসিএলএসডির নামে থানায় অভিযোগ করেছি।’
এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গুদামের নথিপত্র যাচাই করতে গেলে সরকারি চাল আত্মসাতের ঘটনা ফাঁস হয়।
জানা গেছে, বুধবার (২৩ নভেম্বর) বিকেলে ঢাকা বিভাগীয় আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মাহবুবুর রহমান, ফরিদপুর সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক) মো. তারিকুজ্জামান, মাদারীপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ইসমাইল হোসেন ও চরভদ্রাসন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক রেজাউল আলম উপস্থিত থেকে গুদামের নথিপত্র যাচাই করেন। চাল ঘাটতির বিষয়টি ধরা পড়লে গুদামটি সিলগালা করে দেন।
সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক তারিকুজ্জামান বলেন, ‘বিষয়টি আসলে কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে সাপ বেড়িয়ে আসার মতো ঘটনা। গুদামের নথিপত্র যাচাই করতে গিয়ে আমরা অনেক গড়মিল পাই। একপর্যায়ে বড় অংকের চাল আত্মসাতের ঘটনা বেড়িয়ে আসে।’
এ ঘটনা তদন্তে মাদারীপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ইসমাইল হোসেনকে আহবায়ক করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন চরভদ্রাসন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক রেজাউল আলম ও ঢাকা বিভাগীয় অফিসের একজন কর্মকর্তা। কমিটিকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
চরভদ্রাসন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) রেজাউল আলম বলেন, ‘আপাতত গুদামটি সিলগালা করে রাখা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে এ ঘটনার পর থেকে উপজেলা ওসিএলএসডি সানোয়ার হোসেন গা ঢাকা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে অসুস্থ আছেন জানিয়ে পরে কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন তিনি।
তবে খাদ্যগুদাম সিলগালার কোনো চিঠি এখনও পাননি বলে জানিয়েছেন চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিলা কবির ত্রপা।