বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন
শফিউল আজম, পটিয়া (চট্টগ্রাম)
প্রকাশ : ২০ অক্টোবর ২০২৪ ১৮:৪৫ পিএম
আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২৪ ১৯:০৪ পিএম
মায়ের পাশে গুলিবিদ্ধ ইমরানুল হক রিয়াদ।
একটা বা দুটো নয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ৩৯টি গুলি লাগে পটিয়ার কলেজছাত্র রিয়াদের শরীরে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতালে চিকিৎসায় ৩৩টি গুলি বের করা হলেও মাথা, চোখ, নাক ও মুখে ৬টি গুলি থেকে যায়। এ অবস্থায় দীর্ঘ আড়াই মাস যাবত অসহ্য যন্ত্রণায় দিন পার হচ্ছে রিয়াদের।
অনার্স চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ইমরানুল হক রিয়াদ নগরীর বাকলিয়া নোমান কলেজের ছাত্র। গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন নগরীর বহদ্দার হাটে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে মিছিলে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। শরীরে থেকে যাওয়া গুলির যন্ত্রণায় ছটফট করে দিন পার হচ্ছে তার। অর্থাভাবে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দেশের বাইরে নিতে পারছে না পরিবার। পটিয়ার কুসুমপুরা ইউনিয়নের হরিণখাইন গ্রামের মেধাবী এ ছাত্রের জীবন প্রদীপ ধীরে ধীরে নিভে যাচ্ছে। চোখে লাগা গুলির কারণে নষ্ট হয়ে দৃষ্টিশক্তি হারাতে বসেছেন তিনি। অন্যদিকে মাথা, নাক ও মুখে বিদ্ধ গুলির যন্ত্রণায় তার প্রতিদিনের জীবনযাপন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ।
ছররা গুলির যন্ত্রণায় ঘরের মধ্যে প্রতিনিয়ত মারাত্মক যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে তিনি। জীবন থেকে ফুরিয়ে যাচ্ছে তার সুন্দর দিনগুলো। শারীরিক যন্ত্রণায় প্রতিক্ষণ তার জন্য হয়ে উঠেছে ভয়ংকর একেকটি দিন। শিক্ষাজীবন থেকে শুরু করে তার সবকিছু নিভু নিভু।
শরীরে থাকা গুলির কারণে প্রতিমুহূর্তে মাথা, চোখ, নাক ও মুখে ব্যথার যন্ত্রণা। প্রতিদিন বমি, চোখ দিয়ে অনবরত পানি পড়া, মাথাব্যথাসহ তার শরীরে সৃষ্টি হয়েছে নানা প্রতিক্রিয়া। চিকিৎসকরা জানান, তার স্পর্শকাতর জায়গায় গুলি থেকে যাওয়ায় উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন। সহসা চিকিৎসা করাতে না পারলে তার জীবন দিন দিন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে।
উন্নত চিকিৎসার জন্য এ মুহূর্তে ৮-১০ লাখ টাকার প্রয়োজন। কিন্তু প্রবাসে ছোট চাকরিতে থাকা বাবার পক্ষে এ পরিমাণ টাকা খরচ করা সম্ভব হচ্ছে না। রিয়াদ জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা সার্জিস আলমের মাধ্যমে চিকিৎসার জন্য মাত্র ৩০ হাজার টাকা পায় তার পরিবার। পুলিশের গুলিতে নিহত আবু সাঈদের মৃত্যুর পর গত ৪ ও ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যোগ দেন তিনি। কিন্তু ৫ আগস্ট তার জীবনে সৃষ্টি হয় এক অজানা অধ্যায়। তিনি জানান, আমি পড়তে চাই, সুন্দর ও সুস্থভাবে বাঁচতে চাই। আমার চিকিৎসার জন্য সরকারি-বেসরকারিভাবে সবাইকে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানাই।
রিয়াদের মা শাহনাজ বেগম বলেন, রিয়াদ আমার বড় ছেলে। তার শরীরে থাকা ৬টি গুলির যন্ত্রণায় সে ঠিকমতো ঘুমাতে পারে না। ঠিকমতো খেতে পারে না, পড়তে পারে না, স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছে না। আমার ছেলের জীবন বাঁচাতে সুচিকিৎসার জন্য, সুস্থতার জন্য আমি সবার সহযোগিতা চাই।
রিয়াদের চাচা রবিউল আলী বাদশা জানান, রিয়াদের উন্নত চিকিৎসা যতই বিলম্বিত হচ্ছে, ততই তার জীবন দুর্বিষহ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। তার উন্নত চিকিৎসার জন্য বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও প্রশাসনসহ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এগিয়ে আসার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ রইল।