× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বেতাগী পৌরসভা

খাল ভরাট করে বাজার, জলাবদ্ধতা

সাইদুল ইসলাম মন্টু, বেতাগী (বরগুনা)

প্রকাশ : ২০ অক্টোবর ২০২৪ ১৩:২২ পিএম

বেতাগী খাল ভরাট করে বসানো হয়েছে বাজার। শনিবার পৌরসভার টাউনব্রিজ এলাকা থেকে তোলা। প্রবা ফটো

বেতাগী খাল ভরাট করে বসানো হয়েছে বাজার। শনিবার পৌরসভার টাউনব্রিজ এলাকা থেকে তোলা। প্রবা ফটো

বরগুনার বেতাগী পৌরসভার টাউনব্রিজ এলাকায় বেতাগী খালে পাইলিং করে বালু ফেলে ভরাট করা হয়েছে। এক বছর ধরে সেখানে বাজার বসিয়ে ইজারা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। এতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি, নৌযান চলাচলে বাধাসহ প্রাণপ্রকৃতির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। বেতাগী পৌরসভা ও উপজেলা ভূমি কার্যালয় সূত্র জানায়, বিষখালী নদীর মোহনা থেকে শুরু হয়ে ৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের বেতাগী খালটি পৌরসভা, বেতাগী সদর ও হোসনাবাদ ইউনিয়ন পর্যন্ত বিস্তৃত। খালটির কোথাও প্রস্থ ২৮ মিটার আবার কোথাও ৩৫ মিটার।

স্থানীয়রা জানান, খালটি ব্যবহার করে থানা পুলিশ, খাদ্যগুদাম ও বেতাগী বন্দরের ব্যবসায়ীদের মালামাল নৌপথে পরিবহন করা হয়। পৌর কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি এর আগেও কয়েক বছর ধরে খালটি দখল ও ভরাট করছেন স্থানীয় লোকজন। ফলে দিন দিন খালটির আকার ছোট হয়ে আসছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্থানীয় প্রশাসন ও পৌর প্রশাসনের পক্ষ থেকে খালটি উদ্ধারের চেষ্টা বা পুনঃখনন করা হয়নি। বৃষ্টি হলে পৌর শহরসহ অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। বৃষ্টি ও বন্যার পানি নেমে যাওয়ার জায়গা কম। ওই খালটি পৌরসভার বেশকিছু এলাকার পানি নেমে যাওয়ার মাধ্যম ও একমাত্র ভরসা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বেতাগী খালের একটি অংশে পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় বাঁধ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্লুইসগেট। সেখানে নিরাপদ ও আর্সেনিকমুক্ত খাবার পানির সংকটের স্থায়ী সমাধানে পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও মানববর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ এনভায়রনমেন্টাল স্যানিটেশন প্রকল্পের আওতায় ২০২০ সালে ভূপৃষ্ঠস্থ পানি শোধনাগার উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। খালের ওপর দুটি স্থানে প্রথম ও দ্বিতীয় টাউনব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। রয়েছে দেশীয় প্রজাতির মাছ এবং শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়নে একটি মৎস্য অভয়াশ্রম। ২০২৩ সালে মৎস্য অধিদপ্তর এটি প্রতিষ্ঠা করে। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ খাল ভরাট করে বাজার বসানো হয়েছে।

দক্ষিণ হোসনাবাদ গ্রামের একাধিক কৃষক বলেন, চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা বিভিন্ন প্রজাতি বিলুপ্ত হওয়ার ফলে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলে আফজাল হোসেন জানান, তারা পেশা হারাচ্ছেন। ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে তাদের জীবন-জীবিকা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানজিলা আহমদ জানান, খাল ভরাটে ফসলি জমি, গাছপালা নষ্ট ও ক্ষতি হচ্ছে, জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে। উপজেলা মৎস্য অফিস জানায়, দেশীয় প্রজাতির মাছ ও শামুক সংরক্ষণ এবং উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর এ খালের ৯ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় একটি মৎস্য অভয়াশ্রম গড়ে তোলে। সেখানে অনুকূল পরিবেশের অভাবে দেশীয় প্রজাতির স্বাদু পানির মাছ আশ্রয় বা আবাস হারিয়ে অন্য এলাকায় চলে যাচ্ছে। খাল-বিল, ঝিল-জলাশয় রক্ষার দায়িত্ব যাদের তাদের নিষ্পৃহতা ও উদাসীনতার কারণে খালটি অস্তিত্ব হারানোর উপক্রম হয়েছে।

বরগুনা পলিসি ফোরামের আহ্বায়ক হাসান ঝন্টু বলেন, বিষয়টি তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। এক্ষেত্রে উপজেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রশাসনের কি দায় নেই? খাল রক্ষায় সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। আইনের শতভাগ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

পৌরসভা কর্তৃপক্ষ জানায়, সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করেই কাবিটা, টিআর ও উন্নয়ন খাতের অর্থ দিয়ে গত বছর খালের অংশ ভরাট করে বাজার বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বছরে সরকারের ১০ লাখ টাকার রাজস্ব আয় বেড়েছে। এখানে কাঁচাবাজার, দুধ বিক্রি ও চায়ের দোকানিদের বসার কোনো জায়গা নেই। ব্রিজ ও রাস্তার ওপর ওইসব পণ্য বিক্রি করা হতো। তখন শিক্ষার্থী ও পথচারীদের সমস্যা হয়। তারা মনে করেন, এতে কারও কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জসিম উদ্দীন বলেন, উপজেলা ভূমি অফিস জায়গা নির্ধারণ করে দেওয়ায় বালু ফেলে ভরাট করে বাজার বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কোনো ব্যত্যয় হলেও বর্তমানে প্রশাসক হিসেবে পৌরসভার দায়িত্বে রয়েছেন ইউএনও। তিনি যেভাবে নির্দেশনা দেবেন, সে অনুযায়ী আমরা কাজ করব।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা ভূমি অফিসের একাধিক কর্মচারী বলেন, ‘জমি একজনের, আর ইজারা দিয়ে মধু খাচ্ছেন আরেকজন। দুর্নামের দায়ভার নিতে হচ্ছে তাদের (ভূমি অফিসের)। তখন কর্তৃত্ববাদী রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে প্রকাশ্যে কিছু বলতে পারিনি।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক ফারুক আহমদ বলেন, ‘সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কোথাও খাল ভরাট করে বাজার বসানোর কোনো সুযোগ নেই। এর সঙ্গে যাদেরই সংশ্লিষ্টতা রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পৌরসভাও যদি খালের অংশ ভরাট করে থাকে, তাও বন্ধের উদ্যোগ ও অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করা হবে।’ 




শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা