রামগতি-কমলনগর
আমানত উল্যাহ, কমলনগর (লক্ষ্মীপুর)
প্রকাশ : ২০ অক্টোবর ২০২৪ ১৩:০৮ পিএম
লক্ষ্মীপুরের রামগতি-ভোলার দৌলতখানের মেঘনা নদীতে ডুবোচর। বৃহস্পতিবার মেঘনা নদীর মাঝখানে চর নিজামে। প্রবা ফটো
লক্ষ্মীপুরের রামগতি-কমলনগরের মেঘনা নদীর মাঝে জেগে উঠেছে অসংখ্য ডুবোচর। এতে নদীটিতে নৌযান চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে।বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে মেঘনা নদীতে জেগে ওঠা ডুবোচর সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে লঞ্চ ও ট্রলারের চালকরা জানান, মেঘনা নদীতে ২২ থেকে ২৫টি ডুবোচর জেগেছে।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে রামগতির আলেকজান্ডার লঞ্চঘাটে যান এ প্রতিবেদক। সেখানে কথা হয় মেসার্স মোস্তফা মেডিকেশন নামের একটি লঞ্চের যাত্রীদের সঙ্গে। তারা জানান, ভোলার দৌলতখান ও চরফ্যাশন থেকে লক্ষ্মীপুরের রামগতির আলেকজান্ডার লঞ্চঘাটে যেতে দুটি নৌপথ রয়েছে। প্রতিদিন ওই দুই নৌপথে সহস্রাধিক মানুষ যাতায়াত করে। কিন্তু মেঘনা নদীর মাঝে লম্বালম্বি কয়েকটি ডুবোচর জেগে ওঠায় এ দুই ঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া যাত্রীবাহী ট্রলারকে অনেক দূর ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। জোয়ারের সময় অনেক পথ ঘুরে গেলেও ভাটার সময় মাঝনদীতেই আটকে থাকে লঞ্চ ও ট্রলারগুলো।
যাত্রীরা আরও জানায়, মেঘনা নদী দিয়ে প্রতিদিন ভোলার দৌলতখান, মনপুরা, চরফ্যাশন, লালমোহন, তজুমদ্দিন ও নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় অসংখ্য লঞ্চ ও ট্রলার চলাচল করে। কিন্তু ডুবোচরের কারণে আসা-যাওয়ায় নির্ধারিত সময়ের চেয়ে তিন-চার ঘণ্টা সময় বেশি লাগে। এতে যাত্রীরাও বিপাকে পড়ে। অনেক সময় ডুবোচরে আটকে পড়ে সারা রাত নদীতেই কাটাতে হয় তাদের।
সুমাইয়া জাফরিন নামের এক যাত্রী বলেন, ‘প্রায়ই ডুবোচরে ট্রলার আটকে যায়। তখন মাঝনদীতে নেমে কাদাপানি ডিঙিয়ে অন্য ট্রলারে উঠতে হয়। গত কয়েক বছর ধরেই চলছে যাত্রীদের এ দুর্ভোগ।’ তিনি আরও বলেন, ‘গত বর্ষা মৌসুম থেকে প্রায় ছয় মাস ধরে প্রতিদিন যাত্রীদের ভোগান্তির ভেতর দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। ডুবোচরের স্থানে ভিজে কাপড় বদলে বাড়িতে ফিরতে হয়। তাই দুই সেট পোশাক রাখতে হচ্ছে সঙ্গে।’
ট্রলারের মাঝি মো. নুরুল হক জানান, জোয়ারের সময় ডুবোচর ডুবে থাকে। তখন একটানে ঘাটে পৌঁছানো সম্ভব হয়। কিন্তু ভাটার সময় চর জেগে ওঠে। তখন যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। তবে ট্রলারে যাতায়াতের জন্য সদ্য জেগে ওঠা ডুবোচরগুলো কেটে নালা করে দিলে নৌযান চলাচলের ক্ষেত্রে সমস্যা কমবে। নইলে ভবিষ্যতে যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের ভোলা নদীবন্দরের উপপরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘খনন বিভাগের মুখ্য প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলে সমস্যাটির সমাধানের জন্য বলা হবে।’
জানতে চাইলে ভোলা জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. আজাদ জাহান বলেন, ‘চরের বাসিন্দারা লিখিত আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে।’
লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) রাজিব কুমার সরকার বলেন, ‘মেঘনায় অসংখ্য ডুবোচরের খবর প্রতিনিয়ত পাচ্ছি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে কথা বলে চরগুলো খননের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’