× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন

গুলিবিদ্ধ রুহুল আমিনের খোঁজ নেয়নি কেউ

নারায়ণগঞ্জ প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৯ অক্টোবর ২০২৪ ১৯:২২ পিএম

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২৪ ১৯:২৬ পিএম

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের বাসিন্দা রুহুল আমিন।

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের বাসিন্দা রুহুল আমিন।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে সুচিকিৎসার অভাবে তিন মাস ধরে বিছানায় কাতরাচ্ছেন নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের বাসিন্দা রুহুল আমিন। তার এ অবস্থায় চরম আর্থিক সংকটে পড়ে হতাশায় দিন কাটাচ্ছে পুরো পরিবার। 

শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে রুহুল আমিনের বাসায় গেলে স্বজনরা বলেন, সদা হাস্যোজ্জ্বল, প্রাণবন্ত ও সুস্থ-সবল মানুষটি হুইলচেয়ারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বেনÑ তা কল্পনাও করেননি তারা। হুইলচেয়ারই এখন রুহুল আমিনের চলাফেরার একমাত্র ভরসা। তার বাকি সময় কাটছে বিছানায় শুয়ে শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করে।

স্বজনরা জানায়, নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ উপজেলার লাধুরচর গ্রামের রুহুল আমিন এক যুগ ধরে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জের মুক্তিনগর এলাকায় ভাড়াবাসায় বসবাস করছেন। বড় ছেলে রনি এসএসসি পরীক্ষার্থী। আর ছোট ছেলে ইসমাঈল হোসেন নীরব মাদ্রাসায় লেখাপড়া করছে। সবজি ব্যবসায়ী রুহুল আমিনের স্বল্প আয়ের ওপরই নির্ভরশীল তার পুরো পরিবার।

শয্যাশায়ী রুহুল আমিন জানান, গত ২০ জুলাই সকালে ব্যবসার কাজে পৈতৃক বাড়ি সোনারগাঁ যান তিনি। কাজ শেষে বিকালে বাসায় ফেরার পথে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাঁচপুর সেতুর নিচে সোনারগাঁয়ের সেনপাড়া এলাকায় আন্দোলনরত ছাত্র-জনতা, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও পুলিশের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষের মাঝখানে আটকা পড়েন তিনি। চারপাশে প্রচণ্ড গোলাগুলির শব্দে ভয়ে ও আতঙ্কে নিজেকে রক্ষা করতে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেও তিনি ব্যর্থ হন। তিনি বলেন, ‘ভয়ে, আতঙ্কে আমি যখন নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছিলাম, ঠিক সেই মুহূর্তে আচমকা রাইফেলের একটি গুলি আমার ডান পায়ের হাঁটুর নিচে বিদ্ধ হয়। তখন আমি রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। গুলিটি দুটি হাড় ভেঙে পায়ের অপর পাশ দিয়ে মাংসভেদ করে বেরিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন আমাকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার কয়েকটি হাসপাতালে নিলেও তাৎক্ষণিক কোথাও আমি চিকিৎসা পাইনি। পরে আমার পরিবার ও আত্মীয়স্বজনরা আমাকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালে (পঙ্গু হাসপাতাল) ভর্তি করলেও চিকিৎসা চলে ধীরগতিতে। দুটি অপারেশন করা হলেও উন্নত চিকিৎসার অভাবে তেমন কোনো সুফল আমি পাইনি। পা আদৌ ভালো হবে কি না, এ নিয়ে শঙ্কায় আছি।’

পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী রুহুল আমিনের এমন অবস্থায় আর্থিক সংকটের কারণে বাসাভাড়া তিন মাসের বকেয়াসহ দুই ছেলের লেখাপড়াও বন্ধ হওয়ার পথে। চিকিৎসার খরচও জোগাতে হচ্ছে ধারদেনা করে। তাই রুহুল আমিনের চিকিৎসা ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় দিন কাটাতে হচ্ছে।

গুলিবিদ্ধ রুহুল আমিনের স্ত্রী পারুল আক্তার বলেন, ‘এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কেউ আমার স্বামীকে দেখতে আসে নাই। কেউ কোনো খোঁজখবরও নেয়নি। মানুষের কাছ থেকে ধারদেনা করে কয়দিন চিকিৎসা করানো যায়? মানুষ কয়দিন ধার দিবে?’

ছলছল চোখে পারুল আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামী সুস্থ না হলে আমাদের পরিবারের হাল ধরার মতো আর কেউ নেই। তিন মাসের বাসাভাড়া দিতে পারতেছি না। দুই ছেলের লেখাপড়ার খরচ জোগাতে পারতেছি না। কীভাবে আমাদের দিন চলবে এই নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছি। সরকার যদি আমার স্বামীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করত, তিনি যদি হাঁটতে পারতেন, তাহলে আমাদের পরিবারটির একটা গতি হতো। কারও কাছে সাহায্য চাইতে হতো না।’

বিষয়টি জানতে পেরে গুলিবিদ্ধ রুহুল আমিনের সুচিকিৎসার ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহমুদুল হক।

তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসন থেকে আমরা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে চোখে গুলিবিদ্ধ যুবক মাহাবুবসহ দুজনকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছি। রুহুল আমিনের বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। আমরা আহতদের তালিকায় তার নাম সংযোজন করব। এ ছাড়া আর্থিক সহায়তাসহ তার সুচিকিৎসার ব্যাপারেও আমরা সহযোগিতা করব।’

উল্লেখ্য, গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় আহত রুহুল আমিন ১৭৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৬০ জনকে আসামি করে গত ১৫ সেপ্টেম্বর সোনারগাঁ থানায় মামলা করেছেন।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা