তরিকুল ইসলাম মিঠু, যশোর
প্রকাশ : ১৮ অক্টোবর ২০২৪ ১৮:৪৫ পিএম
আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২৪ ১৮:৫৩ পিএম
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির কার্যালয় দখল করা নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছেন। এ নিয়ে উপজেলাজুড়ে দেখা দিয়েছে উত্তেজনা। দলের আগামী কাউন্সিল নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে আশঙ্কা। ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মতবিনিময় সভায় বিএনপির দুপক্ষের নেতাদের মধ্যে মারামারি হয়। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহতও হন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শহীদ জাবেরের মাজার জিয়ারত করতে গিয়েও দুপক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়।
সরেজমিনে গত শনিবার ঝিকরগাছা বাজারে অবস্থিত উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, কার্যালয়ের সামনের সাইনবোর্ডটির লেখা মুছে ফেলা হয়েছে। দরজা ভেতর দিক দিয়ে আটকানো। বাইরে থেকে ডাকাডাকি করেও কারও সাড়া মেলেনি। পরে জানা যায়, কার্যালয়টি ভেতর থেকে তালা দিয়ে রেখেছেন উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাবিরা নাজমুল মুন্নি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিভক্ত উপজেলা বিএনপির একাংশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোর্তজা এলাহী টিপু। অন্যপক্ষে উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাবিরা নাজমুল মুন্নি। এর জেরে সামনে উপজেলা বিএনপির নতুন কমিটি গঠন নিয়েও দেখা দিয়েছে শঙ্কা। দুপক্ষের বহিষ্কার হওয়া নেতাকর্মীদের মধ্যেও রয়েছে চাপা ক্ষোভ। এর জের ধরে যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষও ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।
বহিষ্কৃত সাবেক উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির বলেন, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ বা কারণ দর্শানো নোটিস ছাড়াই ঝিকরগাছায় রাজপথে থাকা নেতাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। অথচ কেন্দ্রীয় নেত্রী হিসেবে সাবিরা নাজমুল মুন্নির বিরুদ্ধে কেন্দ্র কোনো ব্যবস্থা নেয়নিÑ এটাই আমাদের ক্ষোভ। এমনকি দলের নেতাকর্মীদের এখনও মামলায় জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোর্তজা এলাহী টিপু বলেন, আমার পক্ষের নেতাকর্মীরা স্বৈরাচারী সরকার হটাতে সর্বদা মাঠে ছিলেন। তাদের মধ্যে অনেকে একাধিক মামলায় জেলও খেটেছেন। মুন্নি সেসব পোড় খাওয়া নেতাকর্মীদের নানাভাবে কোণঠাসা করে রাখার চেষ্টা করছেন। মুন্নির স্বামী নাজমুল ইসলাম খুন হওয়ার আগেই কার্যালয়টি দলের জন্য দিয়ে যান। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংসদ সদস্য তৌহিদুর রহমান তুহিনের সহযোগিতায় সেই কার্যালয় মুন্নি ও তার অনুসারীরা পুলিশ দিয়ে দখলে নিয়েছেন। তিনি এলাকায় থাকেন না, কোনো কার্যক্রমও চালান না। অথচ উপজেলার প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি প্রভাব বিস্তার করতে তার অনুসারীদের নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের ভেতরেও আমার নেতাকর্মীদের লাঞ্ছিত করেছেন।
বিএনপির কার্যালয় দখলের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাবিরা নাজমুল মুন্নি বলেন, পার্টি অফিসের জায়গাটি আমার স্বামীর। এখানকার স্থানীয় একটি পক্ষ কার্যালয়টিকে নিজেদের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করছে। তাই তাদের কবল থেকে কার্যালয়ের জায়গাটি মুক্ত করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাবিরুল হক সাবু প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, বিএনপি একটি বড় দল। দলের কিছু লোকজন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করবেÑ এটাই স্বাভাবিক। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। আশা করছি দ্রুত বিষয়টির সুরাহা হবে।