সাতক্ষীরা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ অক্টোবর ২০২৪ ২১:৫৫ পিএম
আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২৪ ২২:১০ পিএম
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে
বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ রিসোর্স সেন্টার ফর ইন্ডিজেনাস
নলেজের (বারসিক) আয়োজনে অচাষকৃত শাকের রান্না প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার শ্যামনগর পৌরসভার সোনামুগারী গ্রামে অচাষকৃত উদ্ভিদবৈচিত্র্যের খাদ্যগুণ, প্রাপ্তিস্থান
সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে জানানো, সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে গ্রামীণ নারীদের অংশগ্রহণে
এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
সিক্সটিন ডেজ অব
গ্লোবাল অ্যাকশন অন অ্যাগ্রোইকোলজি ২০২৪-এর অংশ হিসেবে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় ১২ জন
নারী বাড়ির আনাচেকানাচে, খাল-বিল ও জলাশয় থেকে সংগ্রহ করে কচুশাক, ঘোড়াসেঞ্চি, ডুমুর,
বুনো আমড়া, থানকুনি, শাপলা, কলমি, কলার মোচা, আদাবরুণ, তেলাকচু ও গিমে শাক রান্না করেন।
সোনামুগারী নারী সংগঠন, সবুজ সংহতি, যুব স্বেচ্ছাসেবক কমিটির সহায়তায় গ্রামীণ এক উৎসবমুখর
পরিবেশে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল রান্না, স্বাদ গ্রহণ এবং শাকের
সঙ্গে পরিচিতিকরণ।
অনুষ্ঠানে অতিথি
হিসেবে বক্তব্য দেন, শ্যামনগর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সামিউল মনির, ভুরুলিয়া ইউপি সদস্য
আব্দুল মজিদ, শিক্ষক রনজিত বর্মণ, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জিএম আহসানউল্লাহ, কৃষাণী
কোহিনুর বেগম, উন্নয়নকর্মী লীমা বালা, স্বেচ্ছাসেবক আব্দুল্লাহ, শিক্ষার্থী বন্যা,
বারসিকের সহযোগী আঞ্চলিক সমন্বয়কারী রামকৃষ্ণ জোয়ারদার, প্রতিমা চক্রবর্তী ও বিশ্বজিৎ
মণ্ডল প্রমুখ।
সামিউল মনির বলেন,
উপকূলীয় এলাকার মানুষকে প্রতিনিয়ত প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকবিলা করে টিকে থাকতে হয়। একসময়
শ্যামনগর এলাকা উদ্ভিদবৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ ছিল। জলবায়ু পরিবর্তন, লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও
ঘনঘন দুর্যোগের কারণে তা কমতে শুরু করেছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত
করতে প্রাকৃতিক উৎস সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি নিয়মিত এমন অনুষ্ঠানের আয়োজন
করতে হবে।
এর আগে গত মঙ্গলবার
উপজেলার পশ্চিম জেলেখালী গ্রামে প্রান্তিক মানুষের পুষ্টির আধার হিসেবে বিবেচিত বন্য
উদ্ভিদ বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ব্যতিক্রমধর্মী ‘খোটা’ শাকের মেলা
অনুষ্ঠিত হয়।