কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ অক্টোবর ২০২৪ ২০:২৬ পিএম
আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২৪ ২০:৫৯ পিএম
৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার সাত চেয়ারম্যান আত্মগোপনে রয়েছেন। এতে নাগরিকসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। যথাসময়ে পাচ্ছে না জন্মসনদ, মৃত্যু নিবন্ধন, নাগরিকত্ব সনদ, ট্রেড লাইসেন্সসহ অন্যান্য সনদ ও প্রত্যয়নপত্র। এ ছাড়া ব্যাহত হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদের সার্বিক কার্যক্রম। আত্মগোপনে থাকা চেয়ারম্যানরা নিজ এলাকার জনগণের ফোনও রিসিভ করছেন না। অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন দিলে রিসিভ করেই অসুস্থ বা কাজে ব্যস্ত আছেন বলে কেটে দেন। তারা কে কোথায় আছেন জানতে চাইলেও বলছেন না।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মোট ৯টি ইউনিয়ন পরিষদের সাতজন চেয়ারম্যানই আত্মগোপনে রয়েছেন। কোথাও কোথাও তাদের সঙ্গে কিছু কিছু ইউপি সদস্যরাও আত্মগোপনে। এতে নাগরিকসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। যথাসময়ে পাচ্ছে না জন্মসনদ, মৃত্যু নিবন্ধন, নাগরিকত্ব সনদ, ট্রেড লাইসেন্সসহ অন্যান্য সনদ ও প্রত্যয়নপত্র।
আত্মগোপনে থাকা চেয়ারম্যানরা হলেনÑ হাজিরহাট ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নিজাম উদ্দিন, পাটারীরহাটের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন রাজু, সাহেবেরহাটের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের, চরমার্টিনের চেয়ারম্যান ইউছুফ আলী মিয়া, চরফলকনের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন বাঘা ও তোরাবগঞ্জের চেয়ারম্যান মির্জা আশরাফুল জামান রাসেল। এ ছাড়া সেবা দিয়ে যাচ্ছেন চর কাদিরার চেয়ারম্যান হারুন-অর-রশিদ ও চর কালকিনির মো. সাইফুল্লাহ।
আত্মগোপনে থাকা চেয়ারম্যানরা গত ১৫ বছরে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট এলাকার জনসাধারণের। তারা যেন আলাদিনের চেরাগ পেয়েছেন। এখন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভয়ে তারা এলাকাছাড়া। ফেরার কোনো সম্ভাবনাও দেখছে না এলাকাবাসী।
প্রশংসাপত্র আর ট্রেড লাইসেন্সের জন্য এক সপ্তাহ ধরে সাহেবেরহাট ইউনিয়ন পরিষদে ঘুরছেন নুরুল হুদা। তিনি বলেন, ‘চেয়ারম্যানরা এমন কী অপরাধ করেছেন যে সরকার পতনের সঙ্গে সঙ্গে তাদেরও পালাতে হবে। কারণ আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তারা লুটপাট করে খেয়েছেন, তাই এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।’
উপজেলা সামাজিক সাংস্কৃতিক ফোরামের সভাপতি মো. শাহাজাহান বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ১৫ বছর এসব চেয়ারম্যান ধরাকে সরা জ্ঞান মনে করেননি। সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প এনে লুটপাট করে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে যান তারা। সবাই আলিশান গাড়ি হাঁকিয়ে রাস্তায় চলতেন। কোটি টাকার ফ্ল্যাট কিনে এলাকা ছেড়ে সবাই ঢাকায় আত্মগোপন চলে যান। তাদের আর ফিরে আসার কোনো সম্ভাবনা নেই। মাঝখানে নাগরিকসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে জনসাধারণ। সরকারের উচিত এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া।’
হাজিরহাট ইউপি চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন নিজেকে অসুস্থ দাবি করে বলেন, ‘চট্টগ্রামে আছি। চেয়ারম্যান থাকাকালে বিএনপি-জামায়াতের কোনো ক্ষতি করিনি। আজকে আমাকে এক কাপড়ে এলাকা থেকে বের হয়ে চট্টগ্রাম থাকতে হচ্ছে।’ সাহেবেরহাট ইউপি চেয়ারম্যান আবুল খায়ের মোবাইল ফোনে বলেন, তিনি বৈধভাবে ব্যবসা করে সম্পদের মালিক হয়েছেন। চেয়ারম্যান থাকাকালে তিনি কোনো অন্যায় কাজে যুক্ত হননি। এখন ঢাকায় আছেন। এ ছাড়া অন্য ইউপি চেয়ারম্যানদের কারও মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে, আবার কেউ কেউ কল রিসিভ করেননি।
জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুচিত্র রঞ্জন দাস বলেন, ‘যেসব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পলাতক সেখানে প্যানেল চেয়ারম্যানরা দায়িত্ব পালন করছেন। পলাতক চেয়ারম্যানদের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যে সিদ্ধান্ত দেবে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’