মো. জাকির হোসেন, বুড়িচং (কুমিল্লা)
প্রকাশ : ১৬ অক্টোবর ২০২৪ ০১:১১ এএম
আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২৪ ১০:৫৫ এএম
অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে এবার কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতির কৃষকদের বেশিরভাগ সবজি চারা নষ্ট হয়ে গেছে। বিক্রি হচ্ছে না টিকে থাকা চারাও। মঙ্গলবার ওই এলাকার চারার জমিতে। প্রবা ফটো
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতিতে ফুলকপির চারা উৎপাদনকারীদের দুর্দিন চলছে। চলতি বছর উৎপাদন ও বিপণনের জন্য গোটা মৌসুমজুড়ে আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় চারা উৎপাদন করলেও বেশিরভাগ চারা নষ্ট হয়ে যায়। আর যা টিকে ছিল তাও বিক্রি করতে না পারায় লাখ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে চাষিরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চার দশক ধরে জেলার ময়নামতির সমেশপুর গ্রামের কৃষকরা ফুলকপির চারা উৎপাদন করে আসছে। একসময় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কৃষকরা এখান থেকে চারা কিনত। জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে এখানকার কৃষকরা জমি প্রস্তুতের কাজ শুরু করে। ছোট ছোট বিট করে সেখানে বীজ রোপণের পর রোদ-বৃষ্টি থেকে চারা রক্ষা করতে পলিথিন দিয়ে ঢেকে দেয়। বীজতলায় কথা হয় চারা উৎপাদনকারী মোবারক, নারায়ণ, লতিফ প্রমুখের সঙ্গে। তারা জানান, প্রতি বছর জুলাই মাসের শেষ দিকে তারা চারা বিক্রি শুরু করেন। টানা চারা বিক্রি চলে নভেম্বর মাস পর্যন্ত। এ সময় নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিলেট, হবিগঞ্জসহ কুমিল্লার প্রায় সব উপজেলার শত শত কৃষক চারা কিনত। সমেশুর গ্রামের কৃষকরা ফুলকপি ছাড়াও পাতাকপি, টমেটো, বেগুন, মরিচ, লাউ, মরিচ ইত্যাদির চারা উৎপাদন ও বিক্রি করে থাকে। কিন্তু দেশের বেশিরভাগ জায়গার মতো কুমিল্লায়ও ছিল অতিবৃষ্টি। আবার দেশের অনেক স্থানে দেখা দিয়েছে একাধিকবার বন্যা। ফলে আগস্টের শুরুতে যেখানে চারা বিক্রির ধুম পড়ে, সেখানে পুরো আগস্ট, সেপ্টেম্বর পেরিয়ে অক্টোবরের ১০ তারিখ, মৌসুমের অর্ধেকেরও বেশি সময় চলে গেলেও এখনও ময়নামতির সমেশপুরে চারা বিক্রি জমেনি।
স্থানীয় কৃষকরা জানায়, সমেশপুর এলাকায় অন্তত ৪০ একরের বেশি জমিতে প্রায় ১০০ পরিবার কপির চারা উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত। চারা উৎপাদনের সঙ্গে শ্রমিকসহ প্রতিদিন প্রায় এক হাজার লোক কাজ করছে। তারা জানায়, বীজতলা তৈরি করে বীজ রোপণের চার দিনের মধ্যেই চারা গজাতে শুরু করে। সাত-আটদিনেই চারা বিক্রির উপযোগী হয়। এ সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগে কখনও সেচ দিয়ে, কখনও পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিয়ে চারা রক্ষা করে তারা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কৃষক জানায়, টানা বৃষ্টিতে চলতি মৌসুমে এখানকার প্রায় প্রত্যেক কৃষক এক লাখ থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কেউই সরকারিভাবে আর্থিক সহযোগিতা পায়নি।
চারা উৎপাদনকারীদের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে জানতে চাইলে বুড়িচং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোসাম্মৎ আফরিন আক্তার বলেন, ‘এসব চাষি বাণিজ্যিকভাবে চারা উৎপাদন করে। সরকারিভাবে তাদের প্রণোদনা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে আমরা মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তাদের পরামর্শ দিয়ে থাকি।’