বরগুনা সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৪ নভেম্বর ২০২২ ১৬:০৪ পিএম
আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২২ ১৬:২৬ পিএম
জোয়ার না এলে চলে না লঞ্চ। ছবি : প্রবা
ডুবোচর এবং নাব্য সংকটের কারণে বরগুনা-ঢাকা ও আমতলী-ঢাকা নৌ-রুটে লঞ্চ চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে। নাব্য সংকটের কারণে বরগুনা নদীবন্দর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে চর থেকে ছাড়ে লঞ্চ।
জানা যায়, চরে পন্টুন না থাকায় লঞ্চে উঠতে দুর্ভোগে পড়ছেন যাত্রীরা। এরপরও তাদের কাছ থেকে আদায় করা হয় ঘাটের টিকিটের টাকা। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বরগুনা-ঢাকা রুটের লঞ্চগুলো প্রতিদিন সকালে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেলে খাকদন নদী পাড়ে অবস্থিত বরগুনা নদীবন্দরে আসতে পারে। সেখানে কয়েক ঘণ্টার জন্য লঞ্চ নদীবন্দরে আসে পণ্য খালাস করতে। দুপুরে জোয়ার চলে গেলে ফের বন্ধ হয় লঞ্চ চলাচল। তাই বেলা ১২টার আগেই নদীবন্দর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ঢলুয়া ইউনিয়নে খাকদন নদীর চরে লঞ্চ সরিয়ে নিয়ে নোঙ্গর করা হয়। সেখান থেকেই যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায় লাঞ্চ।
সাদিকুর রহমান নামে এক যাত্রী জানান, ‘একে তো লঞ্চে উঠতে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে, তারওপর ঘাট ছাড়াই ১০ টাকা টিকিট ফি দিতে হচ্ছে।’
আরেক যাত্রী মহিবুল্লাহ বলেন, ‘নাব্য সঙ্কটের কারণে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এই রুটের লঞ্চ চলাচল। জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভর করছে এখন লাঞ্চ চলাচল। এর মধ্যে আবার নদী বন্দরের সুবিধা না দিয়েই যাত্রীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক ১০ টাকা মূল্যের ঘাট টিকিটের দামও রাখা হচ্ছে। সব মিলিয়ে আমরা মহাদুর্ভোগে পড়েছি।’
বরগুনা পাবলিক পলিসি ফোরামের সভাপতি হাসানুর রহমান ঝন্টু বলেন, সরকার নির্ধারিত ঘাট ব্যতীত টিকিট নেওয়া ঠিক না। ঘাটের ব্যবস্থা না করে এবং নির্ধারিত পন্টুন ছাড়া অন্য কোথাও যাত্রীদের থেকে টিকিট নেওয়া হলে এটা কর্তৃপক্ষের অন্যায় কাজ। এদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) বরগুনার সহকারী বন্দর কর্মকর্তা নিয়াজ মোহাম্মদ খান জানান, খাকদন নদীতে নাব্যতা সংকটের কারণে বরগুনা ঘাটে লঞ্চ নোঙ্গর করতে পারছে না। এ জন্য পোটকাখালী থেকে যাত্রী উঠিয়ে ঢাকার উদ্দেশে ছাড়ছে লঞ্চ।
পোটকাখালী অস্থায়ী ঘাট টিকিটের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার জানা নাই। খোঁজ নিয়ে বিষয়টি দেখব।’
বরগুনা জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান জানান, নাব্য সংকট সমাধানের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
যাত্রীদের সেবা নিশ্চিত ও নির্ধারিত টার্মিনাল ব্যতীত ঘাট টিকিট নেওয়ার সুযোগ নেই। খোঁজ নিয়ে বিষয়টি সমাধানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।