কক্সবাজার অফিস ও টেকনাফ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০২৪ ১৮:০০ পিএম
আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২৪ ১৯:৩৬ পিএম
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সঙ্গে জান্তা বাহিনীর তুমুল লড়াই অব্যাহত রয়েছে। মংডু শহর দখল ঘিরে দেশটির আকাশে যুদ্ধবিমান চক্কর দিতে দেখা গেছে। বিমান চক্করের সঙ্গে সঙ্গে বিকট বিস্ফোরণ হচ্ছে। নাফ নদের ওপারে এমন তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসছে কক্সবাজারের টেকনাফের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায়। এতে আতঙ্কে রয়েছেন এসব এলাকার বাসিন্দারা।
টেকনাফ সীমান্তবর্তী বাসিন্দারা বলছেন, সপ্তাহখানেক বিরতির পর সোমবার ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সীমান্তের এপার থেকে টানা বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনা যায়। এ সময় আকাশে যুদ্ধবিমানও চক্কর দিতে দেখা যায়। সন্ধ্যার পর থেকে কয়েক ঘণ্টা শান্ত থাকলেও রাত ১টা থেকে ফের বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুরু হয়; যা মঙ্গলবার বেলা ৩টাও অব্যাহত ছিল। সঙ্গে মিয়ানমারের আকাশে যুদ্ধবিমানের চক্কর দেখা যায়। বিমানের চক্করের সঙ্গে সঙ্গে ভেসে আসে বিকট শব্দ। এতে কাঁপছে টেকনাফের সীমান্ত এলাকাও।
মৌলভী পাড়ার বাসিন্দার মোহাম্মদ আবুল বলেন, ‘ফজরের নামাজের (মঙ্গলবার) পর থেকে যেভাবে মর্টার শেলের শব্দ হয়েছিল, মনে করছিলাম ভূমিকম্পে বাড়ি-ঘর ভেঙে যাচ্ছে। বজ্রপাতের মতো বিকট শব্দ।’
সাবরাং ইউনিয়নের লেজির পাড়ার বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, ‘কি এক অবস্থায় আছি। সারারাত বিমান হামলা ও গোলাগুলির শব্দে ঘুম নাই। যেন বিজলী চমকাচ্ছিল। সারাক্ষণ ভয়ে ভয়ে থাকতে হয়।’
সাবরাং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুর হোছাইন বলেন, ‘এক সপ্তাহ পর সোমবার থেকে আগের মতোই বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। এখন তা আরও বেশি। সীমান্তের ওপারে যুদ্ধবিমান থেকে বোমা বর্ষণ করছে। এতে টেকনাফের ঘর-বাড়িও কাঁপছে।’
টেকনাফ পৌরসভার জালিয়াপাড়া থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এবং সাবরাং এর পূর্বে নাফ নদের ওপারে মংডু শহরের অবস্থান।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য বলছে, টানা সংঘাতের মধ্যে শহরটি এখন আরাকান আর্মির দখলে রয়েছে। এলাকাটি পুনরায় দখলের জন্য জান্তারা বিমান হামলা চালাচ্ছে। এতে ওপারের রোহিঙ্গাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক। এমন পরিস্থিতিতে এসব রোহিঙ্গাদের মংডু শহরের নাফ নদ দিয়ে প্রবেশপথ খায়েনখালী খালের মোহনায় জড়ো হওয়ার খবরও পাওয়া যাচ্ছে।
সদর ইউনিয়নের নাজির পাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, ‘মংডু শহরের যেসব এলাকা আরাকান আর্মি দখলে নিয়েছে, সেসব এলাকা এখন মিয়ানমারের সরকারি বাহিনী পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’
সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ছিদ্দিক আহমদ বলেন, ‘মংডু শহর বর্তমানে আরাকান আর্মির দখলে রয়েছে। সেটি পুনরুদ্ধারে দেশটির সরকারি বাহিনী বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে তীব্র হামলা চালাচ্ছে। বিমান থেকেও গোলাবর্ষণ করছে। এর শেষ কোথায় জানি না।’
জানতে চাইলে সীমান্তে আগের তুলনায় রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশের চেষ্টা অনেকটা কমেছে বলে দাবি করেছেন টেকনাফ-২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মহিউদ্দিন আহমেদ। প্রতিদিনের বাংলাদেশকে তিনি বলেন, ‘মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্ত কাছাকাছি হওয়ার কারণে বিকট শব্দ শোনা যাচ্ছে। তবে সীমান্তে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করা রোহিঙ্গাদের আমরা প্রতিহত করছি।’
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আদনান চৌধুরী বলেন, ‘মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতে আবারও বিস্ফোরণের বিকট শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি ও কোস্ট গার্ডের টহল জোরদার রয়েছে।’