দুর্গাপূজার টানা ছুটি
কাওছার আহমদ, সিলেট
প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর ২০২৪ ০৯:৩৮ এএম
আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২৪ ১০:৪৯ এএম
দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা ছুটিতে পর্যটকের ঢল নেমেছে সিলেটে। রবিবার বিছানাকান্দি পর্যটনকেন্দ্র থেকে তোলা। প্রবা ফটো
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা ছুটিতে ঝরনা ও চায়ের দেশ সিলেটে পর্যটকের ঢল নেমেছে। ভ্রমণপিপাসুদের আগমনে পর্যটনকেন্দ্রগুলোর কোথাও তিল ধারণের ঠাঁই নেই। হোটেল-মোটেলে উপচেপড়া ভিড়। এতে প্রাণ ফিরেছে জেলার সব পর্যটনকেন্দ্রে। এদিকে ভ্রমণ করতে আসা পর্যটক-দর্শনার্থীদের আগমন ও নিরাপদ প্রস্থান নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
সিলেটের নাম শুনলেই পর্যটকদের সামনে ভেসে ওঠে জাফলংয়ের মায়াবী ঝরনা, সবুজ পাহাড়, উঁচু-নিচু টিলাবেষ্টিত চা-বাগান, সাদা পাথর ও পিয়াইনের স্বচ্ছ পানির ছবি । এ ছাড়া রাতারগুলের প্রকৃতি আর নীল পানির নদ লালাখাল তো রয়েছেই। জাফলং, পান্তুমাই, চা-বাগান, সাদা পাথর, বিছনাকান্দি, লোভাছড়া, বিভিন্ন পাহাড় ও ঝরনা স্পটে বছরের সব সময়ই পর্যটকদের ভিড় লেগে থাকে। তবে বিশেষ দিবস বা টানা ছুটিতে পর্যটকদের ঢল নামে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সাদা পাথর, বিছনাকান্দি, পান্থুমাই, জাফলং, রাতারগুল জলার বন, লোভাছড়া, খাদিমনগর জাতীয় উদ্যান, ইকোপার্ক, হাকালুকি হাওর, মৌলভীবাজারের মাধবকুণ্ড, শ্রীমঙ্গলের লাউয়াছড়া উদ্যান, সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর, নীলাদ্রিসহ সব পর্যটনকেন্দ্র্রে পূজার ছুটিতে ঘুরতে এসেছে ভ্রমণপিপাসুরা। উপচেপড়া ভিড় সিলেট নগরের পাশে লাক্কাতুড়া, মালনিছড়া, তারাপুর, দলদলি ও কানাইঘাটের লোভাছড়া চা-বাগানে।
বিছনাকান্দিতে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে বেড়াতে আসা স্কুলশিক্ষিকা জেসমিন আক্তার বলেন, ‘ভ্রমণের জন্য সিলেট আমার সবচেয়ে বেশি প্রিয়। কেননা পাহাড়ি নদীর পাথরের সঙ্গে স্বচ্ছ জলে গা ভাসিয়ে সাঁতার কাটতে সুখানুভূতির পরশ মেলে। তাই সুযোগ পেলেই সিলেটে ছুটে আসি।’ লোভাছড়া চা-বাগানে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা নারায়ণগঞ্জের সামিয়া আক্তার। তিনি বলেন, ‘আমি প্রথমবার চা-বাগানে এসেছি। এর আগে আমি ছবিতে, ভিডিওতে দেখেছি। কিন্তু বিশ্বাস করেন, ছবির চেয়ে বাস্তব চা-বাগান অনেক সুন্দর।’
এদিকে সিলেট নগরীর হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোতে তিল পরিমাণ ঠাঁই নেই। বন্দরবাজার এলাকার হোটেল এশিয়ার ব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান বলেন, ‘পূজার ছুটিতে হোটেলের সবকটি রুম বুকিং রয়েছে। অনেকে সপ্তাহখানেক আগে ফোনে বুকিং দিয়ে রেখেছে।’
মির্জাজাঙ্গাল এলাকার গ্র্যান্ড প্যালেস হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের সেবা ব্যবস্থাপক ফারুক রশিদ বলেন, ‘পূজার সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটির কারণে পর্যটক বেড়েছে। আমাদের হোটেলের সবকটি কক্ষ আগামী আরও তিন-চার দিন বুকিং থাকবে।’ বন্দরবাজার হকার্স পয়েন্টের সিটি হার্ট আবাসিক হোটেলের মালিক নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘বুধবার রাত থেকেই গেস্ট আসতে থাকে। গত দুই দিন অনেক গেস্টকে রুম দিতে পারিনি।’
সিলেট ট্যুরিস্ট ক্লাবের সভাপতি এম সুয়েব আমহদ বলেন, ‘পূজা উপলক্ষে দীর্ঘ ছুটি কাটাতে অনেকেই পরিবার-পরিজন ও বন্ধু-বান্ধব নিয়ে সিলেটে এসেছে বেড়াতে। এজন্য আমরা যারা পর্যটন নিয়ে কাজ করি তারা চেষ্টা করছি এসব পর্যটককে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার।’
এদিকে পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। পাশাপাশি জেলা পুলিশও কাজ করছে পর্যটকদের নিরাপত্তায়।
জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে জেলা পুলিশ বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। আগত পর্যটকদের হয়রানি কমাতে ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশও কাজ করবে। ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর, জাফলংয়ে জিরো পয়েন্ট এলাকাতেও পর্যটকদের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এসব এলাকা ভারত সীমান্তবর্তী হওয়ায় পর্যটকেরা ভুল করে যাতে ভারত সীমান্তের দিকে পা না বাড়ান, সেজন্য বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’