মোরেলগঞ্জের বনগ্রাম
মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর ২০২৪ ০৯:৩২ এএম
আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২৪ ১০:৫১ এএম
বনগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ। প্রবা ফটো
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের বনগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান রিপন চন্দ্র দাস দুই মাস ধরে আত্মগোপনে। এতে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ইউনিয়নের ১৫ গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ সেবাবঞ্চিত। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের ২ সেপ্টেম্বর এক আদেশে অস্থায়ী ভিত্তিতে পৌরসভাসহ ছয়টি ইউনিয়নে জন্মমৃত্যু নিবন্ধনের স্বাক্ষরে ছয়জন প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এরপরও ঝুলে আছে শতাধিক আবেদন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়ন ১৫ গ্রামের সমন্বয়ে গঠিত। প্রায় ২০ হাজার মানুষের এখানে বসবাস। গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর চেয়ারম্যান রিপন চন্দ্র দাস পরিষদে আসছেন না। এতে প্রতিনিয়ত পরিষদের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সনদ, ওয়ারিশ কায়েম সনদ, প্রত্যয়নপত্র, জন্মমৃত্যু নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন কাগজপত্রে স্বাক্ষরে ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ। জন্মমৃত্যু নিবন্ধনসহ অনলাইনে অফিসিয়াল সকল কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উত্তম ভট্টচার্জের নামে একজন উদ্যোক্তা নিয়োগপ্রাপ্ত থাকলেও শুরু থেকেই তিনি অনুপস্থিত। ইউপি সচিব শহিদুল ইসলাম মল্লিক উপস্থিত হলেও নাগরিক সেবা দিতে পারছে না। প্যানেল চেয়ারম্যান সাধন চক্রবর্তী ট্রেড লাইসেন্স, ওয়ারিশ কায়েম সনদে স্বাক্ষর ব্যবহার করতে পারছেন না। চেয়ারম্যান লিখিতভাবে তাকে দায়িত্ব না দেওয়ায় আইনি জটিলতা রয়েছে বলে জানান ইউপি সচিব।
সেবা নিতে আসা পুটিয়া গ্রামের রাবেয়া আক্তার, স্মৃতি রানী বিশ্বাস, বিষখালী গ্রামের সুজয় কুমার সাহা, বহরবৌলা গ্রামের বাচ্চু শেখ, বনগ্রামের ব্যবসায়ী মাহমুদ আব্বাসসহ কয়েকজন বলেন, এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ মাইল পায়ে হেঁটে পরিষদে এসে ফিরে যাচ্ছি। সচিব বলছেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা না আসা পর্যন্ত কাজের সমাধান হবে না। ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করতে না পারায় একাধিক ব্যবসায়ীও পড়েছেন বিপাকে। অন্যদিকে সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব। এ রকম নানাবিধ অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
ইউপি সচিব শহিদুল ইসলাম মল্লিক বলেন, ‘গত ৫ আগস্টের পর থেকে সপ্তাহখানেক চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। এরপর থেকেই তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ। জন্মমৃত্যু নিবন্ধনের ৮৫টি আবেদন জমা রয়েছে।’
প্যানেল চেয়ারম্যান সাধন চক্রবর্তী বলেন, ‘চেয়ারম্যান রিপন চন্দ্র দাস ৫ আগস্টের পর পরিষদে আসছেন না। আমাদের (ইউপি সদস্য) সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই।’
জানতে চাইলে মোবাইল ফোনে ইউপি চেয়ারম্যান রিপন চন্দ্র দাস বলেন, ‘সরকার পরিবর্তনের পর পরিষদ কার্যালয়ে ও ব্যক্তিগত অফিসে একদল দুর্বৃত্ত হামলা চালিয়ে অগ্নিসংযোগ করে। নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি। তাই পরিষদে আসতে পারছি না।’
ভারপ্রাপ্ত ইউএনও মো. বদরুদ্দোজা বলেন, ‘জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনে স্বাক্ষরের জন্য পাঁচজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। বনগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ারিশ কায়েম ও ট্রেড লাইসেন্সের ক্ষেত্রে লিখিত আবেদন পেলে নাগরিক সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’