দিনাজপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০২৪ ২০:২২ পিএম
আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২৪ ২১:০৩ পিএম
দিনাজপুরে ১২ বছর আগে এক শিবিরকর্মী হত্যার ঘটনায় সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীসহ ৩৯ জনের নামে মামলা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে আরও ৪০০ জনকে।
দিনাজপুরের চিরিরবন্দর থানায় শনিবার (১২ অক্টোবর) মামলাটি করেছেন নিহতের ভাই নাজমুস শাহাদাত। নিহত শিবিরকর্মী মোজাহিদুল ইসলাম (১৪) খানসামা উপজেলার গোয়ালডিহি বেশার পণ্ডিতপাড়া এলাকার আতাউর রহমানের ছেলে। মোজাহিদুলের বাবা খানসামা উপজেলা জামায়াতের আমির ছিলেন। মামলার বাদী নাজমুস শাহাদাত ইছামতী ডিগ্রি কলেজ শাখা শিবিরের সাবেক সভাপতি। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাদের নামে বহু মামলা দেওয়া হয়েছিল বলে তাদের দাবি।
চিরিরবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসনাত খান এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, অন্যান্য আসামির মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী আবুল হাসানের ভাই শামীম হাসান, খানসামা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান শফিউল আজম চৌধুরী, চিরিরবন্দর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান তারিকুল ইসলাম, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রফিকুল ইসলাম, শাফিয়ার রহমান, নুর ইসলাম, আহসানুল হক, আজিমউদ্দিন সরকার, মোসলেম উদ্দিনসহ অন্যরা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালের ৪ ডিসেম্বর জামায়াতের হরতাল কর্মসূচির আগের দিন সন্ধ্যায় রানীরবন্দর এলাকায় নেতাকর্মীরা একটি মিছিল বের করেন। মিছিলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা লাঠিসোটা, দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্রসহ অতর্কিত হামলা চালায়। এতে গুরুতর আহত হয় মোজাহিদুল ইসলাম। তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে রাত ১২টায় সে মারা যায়।
মামলার বাদী নাজমুস শাহাদাত বলেন, আমার বাবা খানসামা উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির ছিলেন। আমার ভাই মোজাহিদুল ইসলাম শিবিরের কর্মী ছিল। এত দিন মামলা করিনি, কারণ আসামিরা আমাদের প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছিল। এ ছাড়াও বিভিন্ন সময় আমার নামে ৩২ এবং বাবার নামে ২৮টি মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। আমি আমার ভাইয়ের হত্যার বিচার চাই।
ওসি আবুল হাসনাত খান বলেন, ২০১২ সালে এক কিশোর নিহত হওয়ার ঘটনায় একটি হত্যা মামলা রুজু হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।