কক্সবাজার অফিস
প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০২৪ ১৯:০৬ পিএম
আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২৪ ১৯:৪০ পিএম
সনাতন ধর্মালম্বীর সর্ববৃহৎ দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে টানা চার দিনের ছুটিতে লাখো পর্যটকের পদাচরণে মুখরিত হয়ে উঠেছে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার। প্রবা ফটো
সনাতন ধর্মালম্বীর সর্ববৃহৎ দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে টানা চার দিনের ছুটিতে লাখো পর্যটকের পদচারণে মুখরিত হয়ে উঠেছে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার। বৃহস্পতিবার (১০ অক্টেবর) থেকে প্রকৃতি উপভোগের উদ্দেশে আসা পর্যটকে ভরপুর এখন কক্সবাজার।
কক্সবাজার আবাসিক হোটেল মোটেল প্রতিষ্ঠানের দেওয়া তথ্য বলছে, শুক্রবার (১১ অক্টোবর) বিকাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ১ লাখ ২০ হাজারের অধিক পর্যটক কক্সবাজারে অবস্থান করছে।
শুক্রবার সকাল থেকে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টসহ নানা পর্যটক স্পট ঘিরে এসব পর্যটকের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা গেছে। প্রকৃতির রূপে এখন শরতের বিমোহিত আকাশের মিষ্টি রোদে সাদা মেঘের খেলা। আর এই প্রকৃতির সৈকতের বালিয়াড়িতে মুক্তি ঘোরাফেরা, সৈকতে সাজানো বিচ ছাতায় বসে শীতল হওয়া উপভোগ করতে যেমন পর্যটকদের দেখা মিলেছে, তেমনি সাগরের লোনা জলে শরীর ভাসিয়ে স্নানমগ্নও ছিল পর্যটকরা। আর অনেকেই সৈকতের ঘোড়ার পিঠে উঠে ছবি আবার কেউ কেউ বাইকে ঘোরাফেরা করছে। একই সঙ্গে দরিয়ানগর, হিমছড়ি, ইনানী ও পাটুয়ারটেক সৈকতজুড়েও ছিল দিনভর পর্যটকের আনাগোনা।
হোটেল ব্যবসায়ীরা জানান, আগামী ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত পর্যটক সমাগম সমান থাকবে কক্সবাজারে। এর মধ্যে ১০ থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত ৯০ থেকে ৯৮ শতাংশ হোটেল রুম বুকিং হয়েছে। আর ১৪ থেকে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত ৮৫ শতাংশ রুম বুকিং হয়েছে।’
তবে পর্যটকদের অভিযোগ, পর্যটক বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু কিছু আবাসিক প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে নিচ্ছে।
কক্সবাজার হোটেল-গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাসেম সিকদার জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার থেকে ছুটিতে পর্যটকরা কক্সবাজার আসতে শুরু করেছে। ৫ শতাধিক আবাসিক প্রতিষ্ঠানের প্রায় কক্ষেই বুকিং রয়েছে শুক্রবার। হিসাবমতো ১ লাখ ২০ হাজারের বেশি পর্যটক কক্সবাজারে অবস্থান করছে। এসব পর্যটক রবিবার পর্যন্ত থাকবে। এরপর চাপ একটু কমলেও বুকিং কিছুটা রয়েছে।
হোটেল ওশান প্যারাডাইস লিমিটেডের বিপণন বিভাগের কক্সবাজার অফিস প্রধান ইমতিয়াজ নূর সুমেল বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া চার দিনের ছুটি। হঠাৎ ছুটি পেয়ে কক্সবাজার আসতে আগাম বুকিং দিয়েছে কিছু ভ্রমণপ্রেমী পরিবার। চার দিনের ছুটিতে আমরা এখন পর্যন্ত ৯৫ শতাংশ বুকিং পেয়েছি। এরপর ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত বুকিং রয়েছে ৮০ থেকে ৮৫ ভাগ রুম।
সেন্ডি বিচ হোটেল ও রেস্তোরাঁর ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও বৃহত্তর বিচ ব্যবসায়ী সমিতির সহসভাপতি আবদুর রহমান বলেন, ‘অনেক দিন পর টানা ছুটিতে পর্যটকে মুখরিত কক্সবাজার চেনা রূপে ফিরেছে। পর্যটক আসায় ব্যবসায়ীরা খুশি।’
হোটেল দি কক্স টু-ডের সহকারী মহাব্যবস্থাপক আবু তালেব শাহ বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠানে সব কক্ষ বুকিং রয়েছে।
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবণী পয়েন্টে ঢাকা থেকে আসা স্কুলশিক্ষক রকিবুল ইসলাম জানান, তারা সহকর্মীরা মিলে মোট ৩০ জন আজ শুক্রবার সকালে কক্সবাজার এসেছেন। এসেই বিপুলসংখ্যক পর্যটকের আনাগোনা দেখে খুশি বেড়েছে। সৈকতের পরিবেশ ও প্রকৃতি উপভোগ করছেন নিজেদের মতো। তবে স্বাভাবিক অবস্থার চেয়ে হোটেল ভাড়া একটু বেশি নেওয়া হচ্ছে। পর্যটক বেশি হওয়ায় এমন পরিস্থিতি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পাহাড়ের ঝরনা হিমছড়ি, সৈকতের আকাশজুড়ে শরতের বিমুগ্ধ কথন দেখেছেন ঢাকার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আফাজুল কানম। তিনি বলেন, কক্সবাজার সত্যিই প্রকৃতির রহস্যঘেরা। একেক ঋতুতে একেক পরিবেশ।
চিকিৎসক দম্পতি আরিফুল আনোয়ার জানান, সন্তানসহ কক্সবাজার এসে সত্যিই আনন্দিত। প্রকৃতি উপভোগ করছেন নিজেরা।
কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের এসপি মাহফুজুল ইসলাম বলেন, ‘পর্যটক আগমন বেশি হওয়ায় আগে থেকেই নিরাপত্তা ও অপরাধ দমনে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সৈকতে পোশাকধারী পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে টহল ও সাদা পোশাকের পুলিশ রয়েছে। টেকনাফ ও ইনানীসহ সব পর্যটন স্পটে ট্যুরিস্ট পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। পর্যবেক্ষণ টাওয়ারে অবস্থান ও কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে পুরো সৈকত নজরদারির আওতায় রয়েছে।’
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ রহমত উল্লাহ বলেন, ‘পর্যটক এবং পূজা ঘিরে সৈকতের প্রবেশপথে তল্লাশি চৌকি স্থাপন, পোশাকধারীর পাশাপাশি সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালন করছে। কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।’
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বলেন, ‘ভ্রমণপিপাসুদের বিচরণ নির্বিঘ্ন করতে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। কোথাও অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া আছে।’