বগুড়া অফিস
প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০২৪ ১১:৪৩ এএম
আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২৪ ১১:৫৮ এএম
বগুড়ায় শারদীয় দুর্গাপূজায় মহাষ্টমী তিথিতে কুমারীপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রবা ফটো
বগুড়ায় শারদীয় দুর্গাপূজায় মহাষ্টমী তিথিতে কুমারীপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১১ অক্টোবর) সকাল ১০টায় শাজাহানপুর উপজেলার গণ্ডগ্রাম এলাকার শ্রীরামকৃষ্ণ আশ্রমে এ পূজার আয়োজন করা হয়। এ উপলক্ষে সকাল থেকেই সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষের পদচারণে মুখর হয়ে ওঠে আশ্রমপ্রাঙ্গণ।
হিন্দু শাস্ত্রমতে, কুমারীপূজার উদ্ভব হয় কোলাসুরকে বধের মধ্য দিয়ে। কোলাসুর একসময় স্বর্গ-মর্ত্য অধিকার করায় বাকি বিপন্ন দেবগণ মহাকালীর শরণাপন্ন হয়। সেই দেবগণের আহ্বানে সাড়া দিয়ে দেবী কুমারীরূপে কোলাসুরকে বধ করেন। এর পরই মর্ত্যে কুমারীপূজার প্রচলন হয়।
বগুড়ায় কুমারীপূজার জন্য মাতৃভাবের পবিত্রতার প্রতীক হিসেবে এ বছর কুমারী মায়ের আসনে বসানো হয় আট বছর বয়সি নিভৃত মন্দির সাহাকে। কুমারীর বয়স আট বছর হওয়ায় উমা নামে পূজিত হন। পূজা কার্যক্রম পরিচালনা করেন আশ্রমের পুরোহিত বাসুদেব ব্যানার্জি।
পূজা দেখতে আসা মনিকা ঘোষ বলেন, ‘পরিবারের সবাইকে নিয়ে কুমারীপূজা দেখতে এসেছি। মূলত নারীশক্তির জয় হোক, নারীরা তাদের প্রাপ্য সম্মান পাক আজ এ প্রার্থনা করি।’
বনশ্রী সাহা বলেন, ‘তিন বছর ধরে এ আশ্রমে কুমারীপূজা হচ্ছে। জগন্মাতার শুদ্ধতার প্রতীক হচ্ছেন কুমারী। স্বামী বিবেকানন্দ প্রথম কুমারীপূজা শুরু করেছিলেন। মানুষের মধ্যেই মা দুর্গা রয়েছেনÑএ বোধটা সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচার করার জন্য কুমারীপূজা শুরু করা হয়েছিল।'
প্রিয়া সাহা বলেন, ‘কুমারীপূজা দেখতে এসেছি। মায়ের কাছে প্রার্থনা করেছি, মা যেন আমাদের সব অশুভ শক্তি থেকে দূরে রাখেন। জগতের সবার মঙ্গল করেন। মঙ্গলময়ী মা যেন সবার ভালো করেন।’
পুরোহিত উপস্থিত পূজার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘কুমারী আদ্যাশক্তি মহামায়ার প্রতীক। দুর্গার আরেক নাম কুমারী। মূলত নারীকে যথাযথ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করতে কুমারীপূজা করা হয়। মাটির প্রতিমায় যে দেবীর পূজা করা হয়, তারই বাস্তব রূপ এ কুমারীপূজা।’
এদিকে বগুড়া জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদ জানিয়েছে, এ বছর বগুড়ার ১২ উপজেলায় ৬৩০ মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে দুর্গোৎসব সম্পন্ন করতে প্রশাসন ও মন্দির কমিটি ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে। আগামী রবিবার বিজয়াদশমীর মাধ্যমে দুর্গোৎসব শেষ হবে।