মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২৪ ২১:০৬ পিএম
মিঠাপুকুর থানা। ফাইল ফটো
রংপুরের মিঠাপুকুরে জুসের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে ছয় লাখ টাকা চুরি ও গৃহবধূকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূর স্বামী শরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে মিঠাপুকুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার উপজেলার ভাংনী দক্ষিণপাড়া মাটিয়াখোলা গ্রামের শরিফুল ইসলামের বাড়িতে রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার সময় প্রতিবেশী রুবেল মিয়া ও আলমগীর হোসেন জুস ও জিলাপি নিয়ে এসে খাওয়ার জন্য দেয়। শরিফুলের মা শাহিদা বেগম ও ছেলে আরাফাত ইসলাম সরল বিশ্বাসে জুস ও জিলাপি খায়। শরিফুলের স্ত্রীকে অনেক চেষ্টা করেও জুস খাওয়াতে ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে শরিফুলের মা ও স্ত্রী ঘুমিয়ে পড়লে রাত সাড়ে ১১টার দিকে শিং দিয়ে ঘরে প্রবেশ করে রুবেল, আলমগীর ও অজ্ঞাত আরও কয়েকজন সংরক্ষিত ৬ লাখ টাকা চুরি করে নেয়। এ সময় ড্রয়ারের শব্দে গৃহবধূর ঘুম ভেঙে গেলে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। তার চিৎকারে দেবর আরিফুল ইসলাম ছুটে এলে তারা কৌশলে পালিয়ে যায়।
ওই গৃহবধূ বলেন, ‘গত কয়েকদিন থেকে রুবেল আমাদের বাড়ি সংলগ্ন দোকানে নিয়মিত আসা যাওয়া করত। বাড়ির মধ্যেই দোকান হওয়ার সুবাদে বাড়ির ভেতরে আসা যাওয়া করত। সেদিন আমাকে জুস খাওয়ার জন্য অনেক জোরাজোরি করে। আমি খাইনি। পরে শাশুড়িকে খাওয়ানোর পর রাতে আমার ঘরে প্রবেশ করে ৬ লাখ টাকা চুরি করে। আমি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে গলায় ছুরি ধরে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। আমার চিৎকারে দেবর ছুটে না এলে হয়তো আমি কারো সামনে মুখ দেখাতে পারতাম না। আমি এর বিচার চাই।’
মিঠাপুকুর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে আসা শাহিদা বেগম জানান, ‘সেদিন মুই খাবার চাও নাই। জোর করি জিলাপি আর জুস খিলি দেইল। কিছুক্ষণ পর ঘুমাইছো। আর কিছু কবার পাও নাহ। চেতন পায়া দেখো মুই হাসপাতালত। অল্প আগত হাসপাতাল থাকি বাড়িত আনু। জ্ঞান ফিরি শোনো টাকাও নিয়ে গেইছে মোর ব্যাটার বউটাকো ধর্ষণের চেষ্টা করছে। মুই বিচার চাও।’
এ বিষয়ে কথা বলতে রুবেল ও আলমগীরের বাড়িতে গিয়ে দেখা পাওয়া যায়নি। রুবেল হোসেনের বাবা লালচাঁদ জানান, ‘কিছু হয়তো হইছে। কিন্তু ওরা যতোটা কইতোছে, ঘটনা ততোটা নোয়ায়।’ ছেলে নির্দোষ হলে পলাতক কেনো এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সকাল বেলায় বাড়িত আছিলো মোর ব্যাটা। তারপর কোনটেবা গেলো। জানো না।’
মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস ওয়াহিদ জানান, ‘এ বিষয়ে মিঠাপুকুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’