ভিক্ষুসংঘের ঘোষণা
বান্দরবান প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০২৪ ২০:৪০ পিএম
আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৪ ২২:২৬ পিএম
পাহাড়ে বিদ্যমান পরিস্থিতি বিবেচনায় এ বছর পার্বত্য জেলায় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কঠিন চীবর দান উদযাপন না করার ঘোষণা দিয়েছে সম্মিলিত ভিক্ষুসংঘ।
বুধবার (৯ অক্টোবর) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে বান্দরবান জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে বৌদ্ধ ভিক্ষু, বৌদ্ধ ধর্মালম্বী ও মুসলিম সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের নিয়ে আয়োজিত প্রবারণা উৎসব ও কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানের প্রস্তুতিমূলক সভায় এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
সভায় প্রবারণা উৎসব উদযাপন কমিটির সভাপতি মংচমং মারমা বলেন, ‘সম্প্রতি পাহাড়ে সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর প্রবারণা উৎসব আনন্দপূর্ণভাবে করা যাচ্ছে না। সীমিত আকারে শুধুমাত্র ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রত্যাশা করছি।’
বান্দরবান জেলার স্বর্ণজাদির বিহারাধ্যক্ষ গুনবর্ধণ মহাথের বলেন, ‘পাহাড়ের সাম্প্রতিক ঘটনার পর থেকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এছাড়া বৌদ্ধ ধর্মের প্রবর্তক মহামানব গৌতম বুদ্ধের শাসনামল থেকে বৌদ্ধ ভিক্ষুসংঘের সকল ভিক্ষুদ্বয় একটা চেইন অফ কমান্ডের মধ্যে চলি। যেহেতু তিন পার্বত্য জেলার বৌদ্ধ সংঘের শীর্ষ স্থানীয় নেতারা এবারের কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠান না করার ঘোষণা দিয়েছেন, সেহেতু ঘোষণার বিপক্ষে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’
বান্দরবান পার্বত্য ভিক্ষু পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক তিক্ষীন্দ্রীয় থের বলেন, ‘বৌদ্ধধর্মের নিয়ম অনুযায়ী এই তিন মাস বৌদ্ধ সম্প্রদায় ও ভিক্ষুগণের সাধনার মাস। এসময় তাদের বিহার, মন্দির, ক্যাং, প্যাগোডার বাইরে অবস্থান করা নিষেধ। কিন্তু সম্প্রতি এমন হয়েছে যে, ভিক্ষুরা নিজ বিহারে ঢুকতেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার অনুমতি নিয়েছেন। অনেকে বাইরে রাত্রিযাপন করতে বাধ্য হয়েছেন। তাই সবদিক বিবেচনা করে ভিক্ষুসংঘের নেতাদের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া হয়েছে।’
জেলা প্রশাসক শাহ মুজাহিদ উদ্দিন বলেন, ‘প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপনের জন্য নিয়মিত টহল পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও সর্বোচ্চ নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা দেওয়া হবে।’
শুধুমাত্র প্রবারণা উৎসব পালনের ক্ষেত্রে ধর্মীয় রীতি-রেওয়াজগুলো সীমিত আকারে পালন করা যাবে। এ বছর পুরো বান্দরবান জেলায় মোট ৫৪৩টি বৌদ্ধ বিহারে প্রবারণা পূর্ণিমা তথা প্রবারণা উৎসব উদযাপন করা হবে।’
বান্দরনবান জেলা প্রশাসনের আয়োজিত এই সভায় জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) উম্মে কুলসুম, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা, সাত উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ বান্দরবান সার্বজনীন কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহারের ভিক্ষু চন্দ্র জ্যোতি থের, সত্যজিত মহাথের, প্রফেসর ওসমান গণি, পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী মো. মজিবর রহমান, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্র নেতা আসিফ ইকবাল প্রমুখ।