× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

নোয়াখালীতে পাসপোর্ট করার হিড়িক, ভেরিফিকেশনে মিলছে স্বস্তি

নোয়াখালী প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০২৪ ২০:১৭ পিএম

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৪ ২০:৫০ পিএম

নোয়াখালীতে পাসপোর্ট করার হিড়িক, ভেরিফিকেশনে মিলছে স্বস্তি

নোয়াখালীর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে হঠাৎ করে নতুন পাসপোর্ট করার হিড়িক পড়েছে। বিগত দিনের তুলনায় পাসপোর্ট অফিসে সবচেয়ে বেশি মানুষ পাসপোর্ট করতে আসছেন। প্রতিদিন ৬ থেকে ৭ শতাধিক মানুষ আসছেন পাসপোর্ট করতে। এর আগে, একসঙ্গে এত মানুষের ভিড় পাসপোর্ট অফিসে কখনোই দেখা যায়নি। অতিরিক্ত এই বাড়তি গ্রাহকের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে পাসপোর্ট অফিস কর্তৃপক্ষ। তবে পাসপোর্ট করতে পুলিশ ভেরিফিকেশনে মিলছে স্বস্তি। আগের মত হয়রানি কিংবা ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে না।

চলতি  বছরের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের গত এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত পাসপোর্ট অফিসের সামনে এবং সামনের রাস্তায় অস্বাভাবিক ভিড় দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন বয়সি গ্রাহক দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন পাসপোর্ট করার জন্য। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের এক সপ্তাহ পর থেকে অতিরিক্ত গ্রাহকের কারণে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। এ ছাড়াও পাসপোর্ট অফিসে জনবল কম থাকার কারণেও কিছুটা ভোগান্তি বাড়ছে।

জানা গেছে, নতুন পাসপোর্ট কিংবা নবায়নে নতুন করে ডাটা এন্ট্রি করা হচ্ছে। ই-পাসপোর্টের জন্য চোখের আইরিশসহ ছবি তোলা হচ্ছে নতুন করে। প্রতিটি কাজে গড়ে পাঁচ থেকে ১০ মিনিট সময় লাগছে। এর মধ্যে সার্ভার ডাউনসহ নানা ধরনের প্রযুক্তিগত বিড়ম্বনাও আছে। অধিক সংখ্যক গ্রাহক আসায় হিমশিম খেতে হচ্ছে নোয়াখালী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।  

সরজমিনে বুধবার (৯ অক্টোবর) সকালে নোয়াখালীর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পাসপোর্ট অফিসের প্রধান ফটকে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। তিল ধরার ঠাই নেই অফিসের ভেতরে। তাই বাইরে লাইনে দাঁড়িয়ে আবেদনকারীরা। তরুণ, যুবক কিংবা বৃদ্ধ, রয়েছে শিশুরাও। কেউ এসেছেন নতুন পাসপোর্ট করতে, কেউবা আবার পুরনো পাসপোর্ট নবায়নের জন্য। অফিসের আশপাশের দোকানেও ফরম পূরণে মানুষের উপচে পড়া লক্ষ্য করা গেছে।

হাতিয়া উপজেলার নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের বাসিন্দা আল আমিন  বলেন, পাসপোর্ট করা এখন অনেক সহজ। নিজে নিজেই সব করা যায়। কোনো অতিরিক্ত টাকা বা দালালের প্রয়োজন হয় না। তাই আমার কোনো ভোগান্তি হয়নি। তবে, মানুষের অনেক চাপ। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে অনেকক্ষণ। পুলিশি ভেরিফিকেশনের জন্যও কোনো ভোগান্তি নাই। পুলিশ আগ্রহী হয়ে সেবা দিচ্ছে।

সেনবাগ উপজেলার ছাতারপাইয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুর রহমান বলেন, সকালে আসছি পাসপোর্ট করতে, এখন দুপুর হয়েছে তবুও লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। প্রচুর মানুষের ভিড়। ছোটবড়-বয়স্ক অনেকেই এসেছে নতুন পাসপোর্ট করতে। অফিসে এসে একটু বাড়তি চাপ দেখা যাচ্ছে।

চাটখিল উপজেলার পরকোট ইউনিয়নের বাসিন্দা মাওলানা শাহ জামাল বলেন, ‘অনেকদিন যাবৎ চিন্তা করছি দেশের বাইরে ঘুরতে যাব, সময় সুযোগ হয়নি। তাই এখন পাসপোর্ট করতে এসেছি। এমন ভিড় ও চাপ আগে ছিল না। পাসপোর্ট হাতে পেলে দেশের বাইরে পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঘুরতে যাব।

সুবর্ণচর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. আলা উদ্দিন বলেন, আমার পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়েছে পাঁচ বছর আগে। এতদিন সময় সুযোগ হয়নি নবায়ন করার। এখন সুযোগ হয়েছে, তাই নবায়নের জন্য এসেছি। পাসপোর্ট হাতে পেলে দ্রুতই দেশের বাইরে ঘুরতে যাব।

নোয়াখালীর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক নাহিদ নেওয়াজ বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে পাসপোর্ট আবেদনকারীদের সংখ্যা বেড়েছে। তবে, অফিসের সবাই সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে যাচ্ছে। রাত ৯টা বা ১০টার আগে অফিস থেকে যাওয়া যায় না। কাগজপত্র ঠিকঠাক থাকলে একদিনেই ফিঙ্গার দিয়ে আবেদনকারীরা বাসায় চলে যেতে পারে। আর পুলিশি রিপোর্ট আসলে প্রিন্টের জন্য পাসপোর্ট রাজধানী ঢাকার প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়। পরে সেখান থেকে আসলে জেলার অফিস থেকে পাসপোর্ট সংগ্রহ করে নিতে পারেন প্রত্যাশীরা।

জানা গেছে, জানুয়ারি থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে পাসপোর্ট আবেদনকারীদের সংখ্যা ছিল ৪০০ থেকে থেকে ৪৫০। বর্তমানে প্রতিদিন ৭০০ থেকে ৮০০ আবেদন জমা পড়ছে এই অফিসে। এদিকে দ্রুত পাসপোর্টের তদন্ত রিপোর্ট প্রদান করায় আবেদনকারীরা খুশি। আবেদন আরও দ্রুততার সঙ্গে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

তোফায়েল আহমেদ নামের সেনবাগের বাসিন্দা বলেন, পাসপোর্টের পুলিশি ভেরিফিকেশন নিয়ে আগে অনেক কথা হতো। কিন্তু বর্তমানে পরিবেশ পরিস্থিতি অন্য রকম। কোনো তথ্যের ঘাটতি থাকলে অনায়াসে তদন্ত কর্মকর্তা যোগাযোগ করেন। আমাকে কোনো টাকা দিতে হয়নি আর কোনো ভোগান্তিতে পড়তে হয়নি। 

সালমা আক্তার নামের এক গৃহবধূ বলেন, আমার কিছু কাগজপত্রের গ্যাপ ছিল। ডিএসবি থেকে আমাকে জানালে আমি দ্রুত সেগুলো হোয়াটসঅ্যাপে পাঠাই। এছাড়াও ডিএসবির ডিআইও ওয়ান যিনি আছেন তাকে ফোন দেই। তিনি দ্রুত কাজটা করে দিলেন। এমন সেবা যেন সব জেলায় দেয় সেই প্রত্যাশা করছি সব পুলিশ সদস্যের নিকট।

ডিএসবির ডিআইও ওয়ান জিয়া মো. মোস্তাফিজ ভূঁইয়া বলেন, আমাদের কেন্দ্রীয় ভাবে হ্যালো এসবি এপস রয়েছে। এতে আবেদনকারী তার স্টাটাস দেখতে পারেন। আমরা প্রতিদিন সেটি চেক করে সমাধান করে দেই। আমি কোনো তদন্ত করি না কিন্তু সুপারভাইজ করে প্রার্থীর কাজের সহয়তা করি। প্রার্থীরা আমাকে ফোনে সমস্যা জানালে তাৎক্ষণিক রেসপন্স করি যেন তিনি কোনো হয়রানির স্বীকার না হন। কারণ পাসপোর্ট মানুষ তার গুরুত্বপূর্ন কাজে ব্যবহার করেন। 

নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আব্দুল্লাহ-আল-ফারুক বলেন, পাসপোর্ট অফিস থেকে প্রাপ্ত আবেদনের কাগজপত্র যাচাইয়ের জন্য একজন পুলিশ সদস্যকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রতিটি আবেদনের সত্যতা পাওয়া গেলে দ্রুত রিপোর্ট প্রদান করা হয়। সেক্ষেত্রে কোনো ভোগান্তিই নেই। আবেদনকারীদের অফিসেও আসতে হয় না।

নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক খন্দকার ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, পাসপোর্ট অফিসে দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধ ও হয়রানিরোধে জেলা প্রশাসন তৎপর রয়েছে। পাসপোর্ট প্রত্যাশীদের অভিযোগ আসলে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা