সুনামগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০২৪ ১৫:০৭ পিএম
আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৪ ১৫:৫১ পিএম
সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান জামিন পেয়েছেন। শুনানি শেষে ২০ হাজার টাকা মুচলেকায় বুধবার (৯ অক্টোবর) সুনামগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ মো. হেমায়েত উদ্দিন তার জামিন আদেশ দেন।
এমএ মান্নানের পক্ষে আইনজীবী অ্যাড. আব্দুল হামিদ বলেন, ‘সুনামগঞ্জে হওয়া একটি মামলায় এমএ মান্নান ২১ দিন ধরে কারাগারে রয়েছেন। তিনি অত্যন্ত বয়োজেষ্ঠ ব্যক্তি, চলাফেরায় অক্ষম, বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। হুইল চেয়ারে চলাফেরা করেন। মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত। এই কারণে মাননীয় আদালত উনার অসুস্থতা ও বয়স বিবেচনায় ২০ হাজার টাকার মুচলেকায় জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেছেন। আমরা আশা করি অন্যান্য আসামির বেলায়ও আমরা ন্যায় বিচার পাব। আজকেও ন্যায় বিচার পেয়েছি।’
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শেরেনুর আলী বলেন, ‘বিচারক
এজলাসে আসার পর দুই পক্ষেই হট্টগোল হয়েছে। আমরা বলেছি, এ মামলাটা এ আদালতে অস্বাভাবিকভাবে
আনা হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা বাদীপক্ষ জানি না। এ নিয়ে আজ শুনানি করতে চাই না। অন্যান্য
মামলার মতো এ মামলার শুনানির তারিখ পরে দেওয়ার জন্য আদালতকে বলেছি আমরা। কিন্তু আদালত
আমাদের কথা শুনতে চাননি। আসামিপক্ষ শুনানিতে অংশগ্রহণের জন্য তোড়জোড় করেছে। এটি নিয়ে
হট্টগোল হয়েছে। পরে বিচারক এজলাস থেকে নেমে যান।’
শুনানিতে পিপি-এপিপিদের ভূমিকা কী ছিল? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘পিপি-এপিপিরা রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে থাকার কথা। তারা আসামিপক্ষে থেকেছেন।
নিম্ন আদালতেও এ বিষয় নিয়ে আমরা প্রতিবাদ করেছি। আজকেও করেছি। এ পরিস্থিতিতে সুনামগঞ্জে
বিচার কার্যক্রম আগামীতে আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে।’
বাদীপক্ষের আরেক আইনজীবী
মল্লিক মইনউদ্দিন সোহেল বলেন, ‘কোনো আইনজীবীর সাবমিশন ছাড়া অ্যাডমিশনটা অস্বাভাবিক।
এতে আদালতকে নিয়েও প্রশ্নের উদ্রেক হয়। আমরা মনে করছি এ অস্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় জামিন
শুনানি অস্বাভাবিকই হবে। এমন আশঙ্কা রয়েছে।’
এ ছাড়া কথা বলেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাসুক আলম।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত এক শিক্ষার্থীর ভাই হাফিজ আলী বাদী হয়ে ৯৯ জনকে আসামি করে সুনামগঞ্জ দ্রুত বিচার আদালতে মামলা করেন। মূলত এ মামলায় কারাগারে আছেন সাবেক এই সংসদ সদস্য।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে সাবেক পরিকল্পনা মন্ত্রী ও উল্লিখিত আসামিদের হুকুমে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর হামলা গুলি, সাউন্ড গ্রেনেডসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রসহ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অনেক শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হন। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের হুকুমে পুলিশ ও যুবলীগ ছাত্রলীগ এ হামলার ঘটনা ঘটায়।
এই মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য মহিবুর রহমান মানিক, সাবেক সংসদ সদস্য রনজিৎ সরকার, সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজন চন্দ, ওসি খালেদ চৌধুরী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল হুদা, সাধারণ সম্পাদক পলিন বখত, সাবেক পৌর মেয়র নাদের বখত, যুবলীগের আহ্বায়ক খায়রুল হুদা চপল, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি দীপঙ্কর দে, সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান রিপন, সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সুয়েব আহমদ সাধারণ সম্পাদক জুবের আহমদসহ ৯৯ জনকে আসামি করা হয়েছে।