পটুয়াখালী সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৪ নভেম্বর ২০২২ ০৯:০৯ এএম
আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২২ ১৪:১৭ পিএম
পটুয়াখালীতে সম্পন্ন হওয়া প্রকল্প। প্রবা ফটো
সরকারের নানামুখী উদ্যোগের ফলে দেশের দক্ষিণের জনপদ পটুয়াখালী শহর এবং সংলগ্ন এলাকাগুলোয় চলছে বহুমুখী উন্নয়নের মহড়া। ইতোমধ্যে চলমান ও গৃহীত একাধিক টুইন সড়ক, নান্দনিক লেক আর সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা শেষ হওয়ার পথে। এসব সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন হলে গ্রাম হবে শহর আর স্বাভাবিক প্রবাহে ফিরবে শহরের ঐতিহ্যবাহী খালগুলো। প্রত্যন্ত এলাকার যোগাযোগবিচ্ছিন্ন মানুষের সঙ্গে শহরের মানুষের মেলবন্ধনের মধ্য দিয়ে শোভাবর্ধন হবে শহরের। সরকারের এসব উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ধারা অব্যাহত থাকলে অদূরেই থাইল্যান্ড কিংবা সিঙ্গাপুরের মতো উন্নত দেশের আদলে একটি উন্নত শহরে পরিণত হবে পটুয়াখালী।
এমন পরিকল্পনা মাথায় রেখে পটুয়াখালী জেলা শহরের সঙ্গে এর আশপাশের ইউনিয়নগুলোকে আরও কাছাকাছি সংযুক্ত করতে বেশকিছু আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন সেতু নির্মাণেরও উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি)।
পটুয়াখালী স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, পটুয়াখালী সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নকে জেলা সদরের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত করার পাশাপাশি জেলার ঐতিহ্যবাহী বহালগাছিয়া খালকে আবারও তার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সদর উপজেলার পেছনের বাঁধটি অপসারণ করে সেখানে ৮১ মিটার দীর্ঘ একটি দৃষ্টিনন্দন সেতু নির্মাণ করা হবে। যা অনেকটা ঢাকার হাতিরঝিলের সেতুর আদলে ডিজাইন করা হয়েছে। এ ছাড়া মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের সঙ্গে পটুয়াখালী পৌর শহরকে সংযুক্ত করতে কুড়ির খাল এলাকায় একটি ৪৫ মিটারের সেতু নির্মিত হবে। এর ফলে জেলা শহরের সঙ্গে ছোট বিঘাই, বড় বিঘাই, মরিচবুনিয়া ও মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের নতুন একটি সংযোগ স্থাপিত হবে।
সেতু নির্মাণ পরিকল্পনা
একইভাবে পটুয়াখালী পৌরসভার সঙ্গে কালিকাপুর ইউনিয়নের নতুন সংযোগ স্থাপন এবং ফুলতলা খালটি প্রবহমান করতে বাঁধ অপসারণ করে সেখানে ৪৫ মিটারের একটি সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এমন গুরুত্ব বিবেচনা করে মোট ১২টি সেতু নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে টেন্ডার আহ্বান করে যাবতীয় কাজ সম্পাদন করা হয়েছে। এসব সেতু নির্মিত হলে এ অঞ্চলের মানুষের সড়ক যোগাযোগ যেমন সহজ হবে পাশাপাশি খালগুলো আবারও ফিরে পাবে তার স্বাভাবিক প্রবাহ। খালের দখল হওয়া জমি পুনরুদ্ধার করে কৃষিকাজে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা যাবে বলেও জানান নির্বাহী প্রকৌশলী।
পটুয়াখালীর একজন শিক্ষক ও ভ্রমণপিপাসু মো. আলাউদ্দীন জানান, বাংলাদেশের কোনো জেলা শহরে এমন কোনো মেগা উন্নয়নের ছাপ নেই; যা পটুয়াখালীবাসীকে মুগ্ধ এবং ধন্য করেছে। পাশাপাশি ভ্রমণ স্পট হয়েছে শহরের প্রাণকেন্দ্রের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের লেক, পুরাতন জেলখানা লেক। আর ফোরলেন সড়কটি ওয়াকিং জোন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
এসব দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা বাস্তবায়নের কারিগর ঠিকাদার মোস্তাফিজুর রহমান বাপ্পি বলেন, ‘মেয়র মহিউদ্দিনের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণের আলোকে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পটুয়াখালী পৌর এলাকাকে সাজানো হচ্ছে পৌরবাসীর চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে। আমি তার অভিজ্ঞতা বাস্তবায়নের সহায়ক মাত্র।’
পটুয়াখালী পৌরসভার মেয়র মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, প্রধানমন্ত্রীর শতবর্ষ পরিকল্পনা বাস্তবে রূপ দিতে গ্রামেও শহরের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং খাল ও জলাধারগুলোকে তার স্বাভাবিক গতিতে ফিরিয়ে আনতেই এ সেতুগুলো নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২২ সালের মধ্যে এসব সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হচ্ছে। যার ৮০ ভাগ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে।
এ ছাড়া পৌর এলাকার আনসার ক্যাম্প থেক বিটাইপ হয়ে উপজেলার বাঁধসংলগ্ন বহালগাছিয়া পর্যন্ত পরিত্যক্ত খালের সংযোগকে পুনরুজ্জীবিত করে নান্দনিক খালে রূপান্তরিত করার কাজ এগিয়ে চলছে দ্রুতগতিতে। মিনি পার্কের মতো খালের দুই পাড়ে লাগানো হয়েছে নানা জাতের গাছের চারা, বসানো হয়েছে বেঞ্চ। লেকে থাকবে প্যাডেল বোট আর লেকসংলগ্ন সড়কগুলোকে করা হয়েছে ওয়াকিং জোন। এ ছাড়া উন্নয়ন পরিকল্পনায় আরও অনেক আধুনিক মাস্টারপ্ল্যান রয়েছে বলেও জানান তিনি।
পটুয়াখালী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জসীম উদ্দীন আরজু জানান, সার্কিট হাউস মোড় থেকে চৌরাস্তা পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়েছে টুইন সড়ক। ফরেস্ট পুকুর আর আরামবাগ দিঘি পুনঃখননের মধ্য দিয়ে নির্মিত হচ্ছে মিনি শিশুপার্ক; যার ৮০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। শহরের প্রত্যন্ত এলাকার সঙ্গে যোগাযোগবিচ্ছিন্ন এলাকার মধ্যে নতুন নতুন সড়ক নির্মাণের ফলে মেলবন্ধন শুরু হচ্ছে।
পটুয়াখালী জেলাজুড়ে উন্নয়নের মেগা প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম পায়রা সমুদ্রবন্দর, পায়রা তাপবিদুৎ কেন্দ্র, সাবমেরিন ক্যাবল স্টেশন, শেখ হাসিনা সেনানিবাস, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, লেবুখালী সেতু আর কুয়াকাটা পর্যটন কেন্দ্র ঘেরা উন্নয়নের যোগসূত্র হবে পটুয়াখালী পৌরসভা। এমন স্বপ্নই দেখছেন পৌর এলাকার নাগরিকরা।