নওগাঁ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০২৪ ২২:০৭ পিএম
আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২৪ ২২:২৩ পিএম
নওগাঁয় শ্বশুরের সম্পত্তি হাতিয়ে নিতে স্বাক্ষর জাল করে নামজারির অভিযোগ উঠেছে। নওগাঁ মেডিকেল কলেজের প্যাথলজি বিভাগের কিউরেটর ডা. আবু জার গাফ্ফার এবং তৎকালীন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শওকত মেহেদী সেতুর যোগসাজশে নামজারি করা হয়।
এ ঘটনায় জুমাতুল এম ইসলাম সৌরভ সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তিনি শহরের কাজীর মোড়ের এলাকার বাসিন্দা মৃত আমিনুল ইসলাম কবিরাজের ছেলে। অভিযুক্ত আবু জার গাফ্ফার সম্পর্কে তার বোনজামাই।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জুমাতুল এম ইসলাম সৌরভের বাবা আমিনুল ইসলাম কবিরাজ ২০২১ সালের ১৪ জুলাই মারা যান। মারা যাওয়ার আগে ছেলে সৌরভকে নালিশি তফসিল বর্ণিত সম্পত্তি ও মার্কেটের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেন। কিন্তু কৌশলে বোনজামাই আবু জার গাফফার সৌরভের স্বাক্ষর জাল ও ছবি ব্যবহার করে তহশিল অফিসে ৩০০ শতাংশ জমির জন্য চারটি নামজারি আবেদন করেন। আবেদনে যে মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে সেটাও সৌরভের না। বিষয়টি জানার পর নামজারি স্থগিত এবং নতুন করে না দেওয়ার জন্য সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে আবেদন করেন। কিন্তু ১৫ দিন পর ওই সম্পত্তির ৩৭ শতাংশ তাকে ছাড়াই দুটি নামজারি আবেদন করা হয়। এরপর মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে একতরফা শুনানি শেষে নামজারি মঞ্জুর করেন শওকত মেহেদী সেতু। ঘটনার পর তার বিরুদ্ধে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগ করলে সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় তাকে বদলি করা হয়। পরবর্তী সময়ে উপরোক্ত বিষয়ের প্রেক্ষিতে আবু জার গাফফারকে ১ নম্বর আসামি করে আদালতে মামলা করা হয়।
অভিযুক্ত আবু জার গাফফার বলেন, অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। জুমাতুল এম ইসলাম সৌরভ বাদী হয়ে আমিসহ স্ত্রী নুরে ই-আফসানা জেরির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছিল, যা পরবর্তী সময়ে খারিজ হয়ে যায়। খারিজের বিরুদ্ধে পুনরায় শুনানি হয়েছে।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) শওকত মেহেদী সেতু বলেন, আইনগত প্রক্রিয়ায় শুনানি নিয়ে সবকিছু মেনেই কাজ করা হয়েছে। অর্থের বিনিময়ে কাজ করার অভিযোগটি সত্য নয়।
দুদক নওগাঁর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নওসাদ আলী বলেন, এটি তফসিলভুক্ত অভিযোগ। ঢাকা অফিসে পাঠানোর পর অনুমোদন হয়ে এলে তদন্ত শুরু হবে।