× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

নিষিদ্ধ চায়না জালে অবাধে মাছ শিকার

মহসিন মোল্যা, শ্রীপুর (মাগুরা)

প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০২৪ ২১:০২ পিএম

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২৪ ২১:২৮ পিএম

নিষিদ্ধ চায়না জালে অবাধে মাছ শিকার

মাগুরার শ্রীপুরে গড়াই নদ, কুমার নদসহ বিভিন্ন খাল, বিল ও নদীতে ভয়ংকর ‘চায়না দুয়ারি’ জাল ছড়িয়ে পড়েছে। হালকা ও মিহি বুননের ছোট ফাঁসের এই জালে আটকা পড়ে মারা পড়ছে নানা প্রজাতির ছোট-বড় মাছ ও পোনা। কম পরিশ্রমে বেশি মাছ পাওয়ায় কারেন্ট জালের চেয়েও বিপজ্জনক এই জাল জেলেদের কাছে জনপ্রিয়। চায়না জালের ব্যবহার বন্ধে প্রশাসন ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গোল লম্বাকৃতির চায়না দুয়ারি জালের দৈর্ঘ্য মানভেদে ৫০ থেকে ১০০ ফুট। প্রস্থে এক থেকে দেড় ফুট। লোহার চার কোনা বা গোলাকার রড দিয়ে অনেক ফ্রেম বসিয়ে এই জাল তৈরি করা হয়। এটি নদী-খাল বা জলাশয়ের একেবারে তলদেশের মাটির সঙ্গে মিশে থাকে। এ ছাড়া জালের গিঁট বা ফাঁস এতই ক্ষুদ্র যে পানি ছাড়া কিছু বের হতে পারে না। ফলে উজান-ভাটি সব দিক থেকে মাছ ভেতরে ঢুকে আর বের হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এই জালে অসংখ্য মাছ, মাছের পোনাসহ সব ধরনের জলজ প্রাণী-উদ্ভিদ, খাদ্যকণা ধ্বংস হচ্ছে। এ ফাঁদের কারণে জলাশয়গুলো দিন দিন মাছশূন্য হয়ে পড়ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার লাঙ্গলবাঁধ থেকে শুরু করে মাঝাইল গড়াই নদের প্রায় ৩০ কিলোমিটার, শ্রীপুর, গোয়ালপাড়া, টুপিপাড়া, বারইপাড়া, শ্রীকোল, জোকা, গয়েশপুর, কাজলিসহ প্রায় ১০ কিলোমিটারসহ কুমার নদের দুইপাড়ে চায়না দুয়ারি জাল ব্যবহার করে মাছ ধরা হচ্ছে। উপজেলার বড়বিলা, গজারিয়া বিল, ডাইয়ের বিল, টিকারবিলাসহ বিভিন্ন ছোট-বড় বিলে অবাধে চায়না ও কারেন্ট জালে মাছ ধরছে জেলেসহ স্থানীয় মানুষজন। 

উপজেলার গোয়ালপাড়া গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম বলেন, চায়না দুয়ারি ও কারেন্ট জাল অবৈধ। অবাধে এগুলো দিয়ে মাছ শিকার করা হয়। এভাবে মাছ শিকার করলে পরবর্তীকালে আমরা মাছ পাব না। 

একই গ্রামের আলী হাসান নামে আরেকজন বলেন, যারা জেলে না, তারাও মাছ ধরে। চায়নাদের সাপ মারা জালে এমন কোনো মাছ নেই যে আটকায় না। এভাবে মাছ ধরা বন্ধ করতে হবে। না হয় জলাশয়গুলো মাছশূন্য হয়ে যাবে।

উপজেলা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক শ্রীবাস বলেন, আমরা যারা প্রকৃত মৎস্যজীবী তারা অবৈধ চায়না দুয়ারি ও কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ ধরার বিপক্ষে। এভাবে চলতে থাকলে তো আমরা আর মাছ পাব না। এ অবৈধ জাল দ্রুত বন্ধের জোর দাবি জানাচ্ছি।

মৎস্যজীবী ও মাছের আড়তদার বাবলু বিশ্বাস বলেন, এখনই চায়না জাল দিয়ে মাছ ধরা বন্ধ করতে হবে। আর তা না হলে কয়েক বছর পর কোথাও কোনো মাছ পাওয়া যাবে না।

খামারপাড়া গ্রামের জেলে শৈলেন্দ্রনাথ বিশ্বাস বলেন, জানি এ জাল (চায়না দুয়ারি) অবৈধ। আমরা পেটের দায়ে মাছ ধরি। সবাই এ জাল দিয়ে মাছ ধরা বন্ধ করলে আমিও বন্ধ করব।

মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, দেশে মাছ ধরার জালের ফাঁসের অনুমোদিত পরিমাপ সাড়ে পাঁচ সেন্টিমিটার। জালের ‘ফাঁস’ বা ঘনত্ব এর চেয়ে কম হলে তা আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ। যদিও নিষিদ্ধ জালের তালিকায় চায়না দুয়ারির নাম উল্লেখ নেই। তবে জালের ফাঁসের ঘনত্ব বিবেচনায় বিদ্যমান আইন অনুযায়ী এটি নিষিদ্ধ।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মীর লিয়াকত আলী বলেন, অবৈধ জাল ব্যবহারের মাধ্যমে মাছ শিকারের অভিযোগ পেয়েছি। অবৈধভাবে মাছ শিকার বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা জরুরি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টা অবহিত করব। পেশাদার জেলেরা অবৈধভাবে চায়না দুয়ারিসহ কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ শিকারের বিপক্ষে।

জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাখী ব্যানার্জী বলেন, এ বিষয়ে এর মধ্যে বেশ কয়েকটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। আগামীতেও অভিযান অব্যাহত থাকবে। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা